রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে নতুন চুক্তি করেছে। পাঁচ মাসের ব্যবধানে এটি বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের দ্বিতীয় বড় উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি। আগের ১৪টির সঙ্গে নতুন ১১টি যোগ হলে বোয়িংয়ের মোট ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। নতুন ক্রয়াদেশে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বিমান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। ওই ক্রয়াদেশে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। প্রথম উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের শেষ দিকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা এবং বাকিগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজের দাম ও সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে নতুন ও আগের দুই ক্রয়াদেশ মিলিয়ে বিমানের বোয়িং অর্ডারবুকে মোট ২৫টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স পরিবারের উড়োজাহাজ থাকবে।
বিমান জানিয়েছে, বহর আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং বাড়তে থাকা যাত্রী ও কার্গো পরিবহন চাহিদা সামলানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই প্রয়োজন থেকেই নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, নতুন চুক্তিটি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে পরিচালনাগত সামঞ্জস্য এবং দীর্ঘদিনের কারিগরি সহায়তার অভিজ্ঞতাও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে বিমান ৭৮৭, ৭৭৭ ও ৭৩৭ পরিবারের বিভিন্ন বোয়িং উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ৭৮৭ ও ৭৩৭ ম্যাক্স পরিবারের উড়োজাহাজগুলো পুরোনো মডেলের তুলনায় জ্বালানি ব্যবহারে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দক্ষ হতে পারে।
বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরের সক্ষমতা ও পরিচালনাগত নমনীয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালু এবং বিদ্যমান রুটে আসনসংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করবে।