Logo
Logo
×

অর্থনীতি ।  করপোরেট

ইকোনোমি ক্লাসে সেরা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, শীর্ষ পাঁচে কারা

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১২:৪১ পিএম

আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৮:০০ পিএম

ইকোনোমি ক্লাসে সেরা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, শীর্ষ পাঁচে কারা

দীর্ঘ ফ্লাইটে ইকোনোমি ক্লাসের যাত্রীদের জন্য সামান্য বাড়তি জায়গা, আরামদায়ক আসন, ভালো খাবার কিংবা দ্রুতগতির ইন্টারনেটও ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনেকটাই বদলে দিতে পারে। আর এসব সূচকেই ২০২৬ সালের স্কাইট্র্যাক্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন অ্যাওয়ার্ডসে ইকোনোমি ক্লাসে সেরা হয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স।

তালিকার পরের চারটি অবস্থানে রয়েছে ক্যাথে প্যাসিফিক, কাতার এয়ারওয়েজ, ইভা এয়ার এবং এএনএ অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ। যাত্রীদের বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজের ভেতরের অভিজ্ঞতা নিয়ে করা বার্ষিক সন্তুষ্টি জরিপের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

নিয়মিত বিমানভ্রমণ নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষক গ্যারি লেফের মতে, ইকোনোমি ক্লাসে এক ইঞ্চি বাড়তি জায়গাও বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। কারণ দীর্ঘ ফ্লাইটে আসনের প্রস্থ, পায়ের জায়গা, মাথা রাখার ব্যবস্থা কিংবা ছোটখাটো সুবিধাই আরামের মাত্রা নির্ধারণ করে।

১. সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে তুলনামূলক প্রশস্ত আসন। তাদের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজে ইকোনোমি ক্লাসে প্রতি সারিতে নয়টি আসন থাকে, বিন্যাস ৩-৩-৩। একই ধরনের অনেক উড়োজাহাজে যেখানে প্রতি সারিতে ১০টি আসন রাখা হয়।

ফলে দীর্ঘ যাত্রায় যাত্রীরা কাঁধ ও কোমরের আশপাশে কিছুটা বাড়তি জায়গা পান। তবে শুধু আসন নয়, খাবার, বিনোদন ও কেবিন সেবাতেও ভালো করেছে বিমান সংস্থাটি।

ইকোনোমি ক্লাসের খাবারের তালিকায়ও প্রথম হয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। তাদের সামঞ্জস্যযোগ্য হেডরেস্ট, ‘ক্রিসওয়ার্ল্ড’ বিনোদন ব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক কেবিন সেবাকে পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আসনের সঙ্গে পায়ের জন্য বার এবং পানীয় রাখার আলাদা জায়গার মতো ছোট সুবিধাও রাখা হয়েছে। ফলে ট্রে-টেবিলে ল্যাপটপ বা ফোন ব্যবহারের জন্য কিছুটা বেশি জায়গা পাওয়া যায়।

২. ক্যাথে প্যাসিফিক

ক্যাথে প্যাসিফিক ইকোনোমি ক্লাসের সামগ্রিক তালিকায় দ্বিতীয়। আসনের ক্ষেত্রে চতুর্থ, খাবারে তৃতীয় এবং উড়োজাহাজের ভেতরের বিনোদন ব্যবস্থায়ও তৃতীয় অবস্থান পেয়েছে তারা।

এ ছাড়া ২০২৬ সালে স্কাইট্র্যাক্স ক্যাথে প্যাসিফিককে বিশ্বের সেরা কেবিন ক্রুসম্পন্ন বিমান সংস্থা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

দীর্ঘ ফ্লাইটে কেবিন ক্রুদের মনোযোগী সেবা বড় ভূমিকা রাখে। যাত্রীদের সঙ্গে আচরণ থেকে শুরু করে শৌচাগার পরিষ্কার রাখা—এ ধরনের বিষয় দীর্ঘ যাত্রায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রযুক্তিতেও বিনিয়োগ করেছে ক্যাথে। নতুন বা সংস্কার করা উড়োজাহাজগুলোর ইকোনোমি আসনে ৪কে পর্দা, তারহীন অডিও এবং উন্নত স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে।

৩. কাতার এয়ারওয়েজ

সামগ্রিক ইকোনোমি ক্লাস তালিকায় তৃতীয় কাতার এয়ারওয়েজ। তবে সেরা আসনের পৃথক তালিকায় তাদের অবস্থান ষষ্ঠ। অর্থাৎ ভালো ইকোনোমি অভিজ্ঞতা যে শুধু বেশি জায়গার ওপর নির্ভর করে না, সেটিও এই ফলাফলে স্পষ্ট।

কাতারের বড় সুবিধা হচ্ছে সংযোগ ব্যবস্থা। তাদের দূরপাল্লার বোয়িং ৭৭৭, এয়ারবাস এ৩৫০ এবং বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজে ধীরে ধীরে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু করা হচ্ছে।

স্টারলিংক থাকা উড়োজাহাজে যাত্রীরা দ্রুতগতির ওয়েব ব্রাউজিং, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং ভিডিও কল করতে পারেন। ফলে দীর্ঘ ফ্লাইটে শুধু আগে থেকে ডাউনলোড করা কনটেন্ট বা আসনের পর্দার ওপর নির্ভর করতে হয় না।

৪. ইভা এয়ার

চতুর্থ অবস্থানে থাকা তাইওয়ানের ইভা এয়ার বড় কোনো একটি আকর্ষণীয় সুবিধার বদলে সামগ্রিক আরামের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

তাদের আসনে সামঞ্জস্যযোগ্য হেডরেস্ট এবং দীর্ঘসময় বসে থাকার চাপ কমাতে বিশেষভাবে তৈরি কুশন ব্যবহার করা হয়। কিছু উড়োজাহাজে আসন হেলিয়ে দিলে নিচের অংশও সামান্য নড়াচড়া করে, যা দীর্ঘ যাত্রায় আরাম বাড়ায়।

খাবারের ক্ষেত্রেও ইভা এয়ারের অবস্থান শক্তিশালী। ইকোনোমি ক্লাসের খাবারে নিয়মিত তাইওয়ানিজ ও অন্যান্য এশীয় পদ রাখা হয়। স্কাইট্র্যাক্সের ইকোনোমি খাবারের তালিকায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের পরই দ্বিতীয় হয়েছে তারা।

৫. এএনএ অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ

জাপানের এএনএ অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের বড় সুবিধা হলো কিছু উড়োজাহাজে বাড়তি পায়ের জায়গা।

তাদের কয়েকটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে আসনের মধ্যবর্তী দূরত্ব সর্বোচ্চ ৩৪ ইঞ্চি। দীর্ঘপাল্লার অনেক ইকোনোমি কেবিনে যেখানে এই দূরত্ব সাধারণত ৩১ থেকে ৩২ ইঞ্চি।

এতে হাঁটুর আশপাশে বাড়তি জায়গা পাওয়া যায় এবং সামনের যাত্রী আসন হেলিয়ে দিলেও নড়াচড়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকে।

কিছু ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে ফুটরেস্ট, সামঞ্জস্যযোগ্য হেডরেস্ট, বড় বিনোদন পর্দা, ইউএসবি-সি চার্জিং এবং তারহীন অডিও সুবিধাও রয়েছে।

তবে এএনএর সব উড়োজাহাজে একই সুবিধা পাওয়া যায় না। কিছু ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজে আসনের মধ্যকার দূরত্ব কম। তাই পায়ের জায়গা যাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের টিকিট কাটার আগে উড়োজাহাজের ধরন ও আসনের বিন্যাস দেখে নেওয়া ভালো।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের তালিকা দেখাচ্ছে, ইকোনোমি ক্লাসে সেরা হতে শুধু একটি বিশেষ সুবিধায় এগিয়ে থাকাই যথেষ্ট নয়। আরামদায়ক আসন, ভালো খাবার, কার্যকর বিনোদন, উন্নত ইন্টারনেট এবং ধারাবাহিক কেবিন সেবা—সবকিছুর সমন্বয়েই যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত হয়।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে