Logo
Logo
×

অর্থনীতি ।  করপোরেট

ইস্ট বেকারের পণ্য বিপণনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পরীক্ষায় মিলেছে নির্ধারিত মান

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ১২:৪৩ পিএম

আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ১৩:৪৭ পিএম

ইস্ট বেকারের পণ্য বিপণনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পরীক্ষায় মিলেছে নির্ধারিত মান

খাদ্যপণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে ইস্ট বেকারের নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্য বিপণনে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। পণ্যের উপাদান অনুমোদিত মাত্রায় রাখা এবং নির্ধারিত শর্ত মেনে বিপণন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

ঢাকার জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে নির্দিষ্ট ব্যাচের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পর গত ১১ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

এর আগে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ থাকার অভিযোগে ইস্ট বেকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যাচের দুটি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

পণ্য দুটি হলো ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’।

অভিযোগের পর পণ্যের মান যাচাই করতে বিভিন্ন স্বীকৃত পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করায় ইস্ট বেকার। পরে পরীক্ষার ফলাফল জমা দিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক (সিএম) আলাউদ্দিন হোসেন জানিয়েছেন, ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইস্ট বেকারের চার ধরনের ব্রেডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।

পরীক্ষায় ব্রেড সংরক্ষণে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যেই পাওয়া গেছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রেডে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটের অনুমোদিত মাত্রা প্রতি কেজিতে ৫ গ্রাম। অথচ পরীক্ষিত চারটি নমুনায় যথাক্রমে ২ দশমিক ৬২, ২ দশমিক ৫৩, ২ দশমিক ৯৯ এবং ২ দশমিক ৬৭ গ্রাম পাওয়া গেছে।

অর্থাৎ চারটি নমুনাতেই প্রিজারভেটিভের পরিমাণ অনুমোদিত সর্বোচ্চ মাত্রার নিচে ছিল।

আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, পরীক্ষিত ব্রেডের উপাদান নির্ধারিত মানের মধ্যে রয়েছে। ফলে পরীক্ষার ফল অনুযায়ী পণ্যগুলো মানসম্মত ও নিরাপদ।

এদিকে ইস্ট বেকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিএসটিআই ছাড়াও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটসহ বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই ও ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় পটাশিয়াম ব্রোমেট শনাক্ত হয়নি বলেও জানিয়েছে ইস্ট বেকার।

এ ছাড়া বিসিএসআইআরের পরীক্ষাগারে পণ্যের সংরক্ষণকাল ও জীবাণুগত নিরাপত্তা যাচাইয়ে ৩০ দিনের পরীক্ষা চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি পর্যায়ের ফলাফল গ্রহণযোগ্য ছিল এবং পরীক্ষার পুরো সময়ে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

ইস্ট বেকার জানিয়েছে, ভোক্তাদের নিরাপত্তা ও পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ অব্যাহত থাকবে।

একই সঙ্গে ভোক্তা, পরিবেশক ও ডিলারদের যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে