Logo
Logo
×

খবর ।  স্বাস্থ্য

কঙ্গোয় ইবোলায় মৃত্যু ৪ হাজার ছাড়াল, পুড়ল চিকিৎসাকেন্দ্র

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬। ১২:৪১ পিএম

আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬। ১৫:৪৬ পিএম

কঙ্গোয় ইবোলায় মৃত্যু ৪ হাজার ছাড়াল, পুড়ল চিকিৎসাকেন্দ্র

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই মহামারী সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন সেনাসদস্যদের আগুনে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র পুড়ে যাওয়া এবং বকেয়া বেতনের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ১৫ মে পূর্বাঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৩০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ১৮ জনের।

প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র ইটুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরা। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন না পাওয়ার অভিযোগে কর্মবিরতিও পালন করছেন অনেকে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের এই আন্দোলনের কারণে আক্রান্তদের তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে রোগের বিস্তার শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমও বাধার মুখে পড়েছে।

এর মধ্যেই বুনিয়ার উপকণ্ঠের কিগনজে এলাকায় একটি বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে অস্ত্র তল্লাশির সময় সেনাসদস্যরা সেখানকার ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অগ্নিকাণ্ডের পর আশ্রয়শিবিরে থাকা প্রায় ১৯ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। চিকিৎসাকেন্দ্রটি ধ্বংস হওয়ায় ওই এলাকার আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নতুন করে সংকটে পড়েছে।

জাতিসংঘের ইবোলা সমন্বয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র হারানো মানে শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতি নয়; সেখানে রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের পুরো ব্যবস্থাই নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে ইবোলা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার এক স্বাস্থ্যকর্মীও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে বিশেষ বিমানে নেদারল্যান্ডসের একটি হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চলমান এই প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোয় অন্তত ৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা দেশটির ইবোলা মোকাবিলার সক্ষমতার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বুতেম্বোসহ বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলেও এখন এসব ল্যাবের মাধ্যমে প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে ফল পাওয়া যাচ্ছে।

দ্রুত পরীক্ষার সুবিধায় প্রয়োজন অনুযায়ী ল্যাব স্থানান্তর করে নতুন আক্রান্ত এলাকা শনাক্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা সহজ হচ্ছে।

তবে সীমিত সম্পদ, নিরাপত্তাহীনতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপের কারণে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকলে এই মহামারী ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক হিসাবে নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সাপ্তাহিক সংখ্যা কিছুটা কমেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৮৫০ জন আক্রান্ত এবং ৪৭০ জনের মৃত্যু হচ্ছিল। সেপ্টেম্বরে তা কমে যথাক্রমে প্রায় ৪৯০ জন আক্রান্ত ও ২৩০ জন মৃত্যুতে নেমেছে।

তবে এই কমে আসাকে পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। নিরাপত্তাহীনতা, আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রবেশে বাধা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অসহযোগিতার কারণে অনেক রোগী শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সরকার ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিশ্বাস এবং ইবোলাকে রোগ হিসেবে অস্বীকার করার প্রবণতাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বড় বাধা হয়ে উঠেছে। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকটের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও এখন কঙ্গোয় ইবোলা মোকাবিলার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে