Logo
Logo
×

লাইফস্কেপ ।  ইতিহাস-আখ্যান

ডায়ানাকে ঘিরে ভাই চার্লস স্পেন্সারের বইয়ে পাঁচ আলোচিত দাবি

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০২:৪৩ পিএম

আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৪:৪৩ পিএম

ডায়ানাকে ঘিরে ভাই চার্লস স্পেন্সারের বইয়ে পাঁচ আলোচিত দাবি

প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই আর্ল চার্লস স্পেন্সারের নতুন বই **‘সোয়ান সং’** প্রকাশের আগেই এর কয়েকটি অংশ সামনে এসেছে। সেখানে ডায়ানার দাম্পত্য জীবন, ১৯৯৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রিন্স চার্লসের প্রতিক্রিয়া এবং রাজপরিবারের ভেতরের নানা ঘটনা নিয়ে একাধিক দাবি করেছেন স্পেন্সার।

আগামী সপ্তাহে বইটি প্রকাশ হওয়ার কথা। প্রকাশক পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস জানিয়েছে, প্রকাশ্যে আসা উদ্ধৃতিগুলো বই থেকেই নেওয়া হয়েছে।

স্পেন্সারের এসব দাবির পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেসও। প্যালেসের এক মুখপাত্র বলেছেন, সাধারণত কোনো বই নিয়ে তারা মন্তব্য করে না। তবে রাজা চার্লসের অবস্থান হলো—বোন হারানোর মতো গভীর শোক অনেক সময় মানুষের বিচারবোধ ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে, এমনকি বহু বছর পরও।

প্রকাশিত অংশে পাঁচটি বিষয় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

১. ডায়ানার মৃত্যুর খবরের পর চার্লসকে ‘উচ্ছ্বসিত’ মনে হয়েছিল—দাবি স্পেন্সারের

১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে সড়ক দুর্ঘটনায় ডায়ানার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর সাবেক স্বামী চার্লসকে ফোন করেছিলেন স্পেন্সার।

নিজের স্মৃতিচারণায় তিনি দাবি করেছেন, সেই কথোপকথনে চার্লসকে তাঁর কাছে ‘লটারিতে জেতা ব্যক্তির মতো উচ্ছ্বসিত’ মনে হয়েছিল।

স্পেন্সারের ভাষ্য, এখন পেছনে ফিরে তিনি মনে করেন, ডায়ানার মৃত্যুর শোকের পাশাপাশি চার্লসের মনে হয়তো এই উপলব্ধিও এসেছিল যে এর ফলে তিনি নিজের পছন্দের নারীকে বিয়ে করার পথে এগোতে পারবেন।

এটি স্পেন্সারের ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা; চার্লসের পক্ষ থেকে ওই নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

২. ‘খুব শিগগিরই তাকে ভুলে যাব’—চার্লসের নামে আরেক দাবি

ডায়ানার শেষকৃত্যের সময় তাঁর দুই ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির মায়ের কফিনের পেছনে হাঁটা উচিত কি না, তা নিয়েও স্পেন্সার ও চার্লসের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছিল বলে বইয়ে দাবি করা হয়েছে।

স্পেন্সারের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে বিষয়টি নিয়ে তাঁদের তর্ক হয়। একপর্যায়ে চার্লস ডায়ানার প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ এবং তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া আবেগ নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেন।

স্পেন্সারের দাবি, চার্লস তখন বলেছিলেন, খুব শিগগিরই ডায়ানাকে সবাই ভুলে যাবে।

এই মন্তব্য শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন এবং এরপর ফোন রেখে দেন বলে বইয়ে লিখেছেন।

ডায়ানার কফিনের পেছনে হাঁটার অভিজ্ঞতাকে স্পেন্সার ‘হৃদয়বিদারক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে ছোট ছেলে হ্যারির প্রতি পর্যাপ্ত মানসিক যত্ন নেওয়া হয়নি বলেও তাঁর অভিযোগ।

তাঁর মতে, মায়ের মৃত্যুর পর হ্যারির শান্তি, স্নেহ ও নিরাপত্তার প্রয়োজন ছিল; কিন্তু সেই সময় সে যথেষ্ট সহায়তা পায়নি।

৩. বিয়ের আগেই সম্পর্ক থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন ডায়ানা—দাবি ভাইয়ের

চার্লস ও ডায়ানার বিয়ের আগের সম্পর্ক নিয়েও নতুন তথ্য দিয়েছেন স্পেন্সার।

তাঁর দাবি, চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ২১তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ডায়ানার প্রতি চার্লসের আচরণে তিনি হতাশ হয়েছিলেন।

এরপর ডায়ানা তাঁর বাবাকে জানিয়েছিলেন, তিনি এই বিয়ে করতে চান না।

স্পেন্সারের ভাষ্য অনুযায়ী, ডায়ানা মনে করেছিলেন—যে মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন না, তাঁর সঙ্গে বিয়ে করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাঁর বাবা বাগদান ভেঙে দেওয়ার অনুমতি দেননি বলে বইয়ে দাবি করা হয়েছে।

বিয়ের আগে চার্লসের কেনা একটি ব্রেসলেট নিয়েও ডায়ানা উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন বলে বইয়ে উল্লেখ আছে। স্পেন্সারের দাবি, সেটি চার্লসের বর্তমান স্ত্রী কুইন ক্যামিলার জন্য কেনা হয়েছিল।

তবে ডায়ানার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বরাতে স্পেন্সার লিখেছেন, বিয়ের আগের দিন চার্লস ডায়ানাকে বলেছিলেন, তাঁকে বিয়ে করতে পেরে তিনি আনন্দিত।

স্পেন্সারের বর্ণনায় সেই বন্ধু মনে করতেন, চার্লস প্রকৃতপক্ষে ডায়ানাকে ভালোবাসতেন না।

৪. শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন চার্লস

ডায়ানার শারীরিক গঠন নিয়ে চার্লসের একটি মন্তব্যও বইয়ে তুলে ধরেছেন স্পেন্সার।

তাঁর দাবি, বাগদানের কয়েক দিন পর চার্লস ডায়ানার কোমর ধরে সেখানে ‘একটু বেশি চর্বি’ জমেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন।

স্পেন্সার লিখেছেন, ডায়ানা পরে তাঁকে জানিয়েছিলেন, বাগদান থেকে বিয়ের সময়ের মধ্যে তাঁর কোমরের মাপ ২৯ ইঞ্চি থেকে কমে ২৩ দশমিক ৫ ইঞ্চিতে নেমেছিল।

ডায়ানা বুলিমিয়ায় ভুগতেন বলেও বইয়ে উল্লেখ করেছেন স্পেন্সার। তবে এ অংশেও তিনি মূলত ডায়ানার কাছ থেকে শোনা স্মৃতির ভিত্তিতে ঘটনাগুলো বর্ণনা করেছেন।

৫. মৃত্যুর পর ডায়ানার রাজকীয় উপাধি ফেরাতে চেয়েছিলেন রানি

১৯৯৬ সালে চার্লসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ডায়ানা তাঁর **‘এইচআরএইচ’ বা ‘হার রয়্যাল হাইনেস’** উপাধি হারিয়েছিলেন।

স্পেন্সারের দাবি, ডায়ানার শেষকৃত্যের দিন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সেই উপাধি আবার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।

বিবাহবিচ্ছেদের পর রাজপরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই উপাধি হারানোর নজির ছিল। অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

স্পেন্সারের মতে, উপাধিটি হারানো ডায়ানাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল।

তবে মৃত্যুর পর উপাধি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবকে তিনি গ্রহণ করেননি। তাঁর কাছে এটি অনেকটা দেরিতে দেওয়া ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’-এর মতো মনে হয়েছিল।

রানির ব্যক্তিগত সচিব রবার্ট ফেলোসের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছিল বলেও লিখেছেন স্পেন্সার।

তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল—রানির উদ্দেশ্য হয়তো ভালো ছিল, কিন্তু ডায়ানা যখন আর বেঁচে নেই, তখন উপাধি ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ খুব সামান্য।

বইটি প্রকাশের আগেই এসব দাবি ব্রিটিশ রাজপরিবারের অতীত সম্পর্ক, ডায়ানা ও চার্লসের দাম্পত্য এবং ডায়ানার মৃত্যুর পর রাজপরিবারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এগুলোর বড় অংশই স্পেন্সারের স্মৃতিচারণ ও ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে লেখা।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে