Logo
Logo
×

অর্থনীতি ।  বিশ্ব অর্থনীতি

অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬। ০৫:২৫ পিএম

আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬। ১২:৩৪ পিএম

অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড

২০২৬ সালে অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ব্যষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে চলতি বছরের অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী দুই গবেষকের নাম ঘোষণা করা হয়।

নোবেল কমিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ডের গবেষণায় এমন কিছু সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল তৈরি হয়েছে, যা অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সরকারি নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

এসব মডেলের সাহায্যে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও কার্যকর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি তৈরি করতে পারে। ফলে অর্থনীতিতে অস্বাভাবিক উত্থান কিংবা মন্দার নেতিবাচক প্রভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ও মন্দার পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক ঘটনা। প্রায় এক শতাব্দী আগে অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস এই ওঠানামা মোকাবিলায় স্থিতিশীলতা নীতির ধারণা সামনে আনেন।

কেইনসীয় অর্থনৈতিক চিন্তাধারা অনুযায়ী, মন্দার সময় সুদের হার কমানো এবং সরকারি বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে চাহিদা তৈরি করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চাঙা করা যায়। অন্যদিকে অর্থনীতি অতিরিক্ত চাঙা হয়ে উঠলে সুদের হার বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো বিপরীত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তবে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের সময় প্রচলিত কেইনসীয় অর্থনৈতিক মডেলগুলোর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সে সময় এসব নীতির প্রয়োগ বেকারত্ব কমাতে সফল হয়নি। বরং অর্থনীতিতে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়।

এর ফলে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উচ্চ বেকারত্ব ও তীব্র মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হয়।

এই পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা নীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করতে শুরু করেন, এসব নীতি অর্থনীতির উন্নতির পরিবর্তে আরও বেশি ক্ষতি করছে। এমনকি স্থিতিশীলতা নীতির ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষেও মত দেন অনেকে।

অর্থনৈতিক মডেলে নতুন ভিত্তি তৈরি করেন দুই গবেষক

এই সংকটের পর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নীতিকে আরও কার্যকর করে তুলতে নতুন ধরনের মডেল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড।

আগের অর্থনৈতিক মডেলগুলো মূলত মূল্যস্ফীতি, উৎপাদন ও ভোগব্যয়ের মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর মধ্যকার পরিসংখ্যানগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করত।

কিন্তু হল ও উডফোর্ড অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করেন। তারা সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে ব্যক্তি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং আচরণকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেন।

তাদের গবেষণা দেখিয়েছে, সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও ব্যয়ের সিদ্ধান্ত কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও মূল্য নির্ধারণের মতো কার্যক্রম সামগ্রিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতিকে কীভাবে প্রভাবিত করে।

এসব মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শুধু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় না। ভবিষ্যতে অর্থনীতির অবস্থা কেমন হতে পারে, সেই প্রত্যাশাও তাদের সঞ্চয়, ব্যয় ও পণ্যের দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলে।

এ কারণে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কর্তৃপক্ষ যখন আগাম জানায়, তারা সুদের হার, সরকারি ব্যয় কিংবা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তখন সেই ঘোষণার মাধ্যমে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করা সম্ভব হয়।

এভাবে মানুষের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকে বিবেচনায় নিয়ে আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা যায়। এর মাধ্যমে অর্থনীতিতে মন্দা ও অতিরিক্ত উত্থানের ঝুঁকি কমিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়।

দুই অর্থনীতিবিদের এই গবেষণা সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে নতুন তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকটের সময় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা বোঝার ক্ষেত্রে তাদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে