Logo
Logo
×

ভিজ্যুয়াল ।  অ্যানিমেটেড স্টোরি

শহর পরিষ্কারে যে ঝুঁকিতে কর্মীরা

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬। ০৪:১৮ পিএম

আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬। ১৭:৪৮ পিএম

শহর পরিষ্কারে যে ঝুঁকিতে কর্মীরা

ঘর পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিনই নানা ধরনের আবর্জনা ফেলতে হয়। কিন্তু নিজের ঘর পরিচ্ছন্ন রাখার এই কাজেই অনেক সময় এমন ভুল করি, যার ঝুঁকি নিতে হয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের।

বাসাবাড়ির আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব। কাজটি যেমন পরিশ্রমের, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও ভরা। বিশেষ করে সব ধরনের বর্জ্য একসঙ্গে ফেলে দিলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

কোথায় ভুল করছি আমরা?

আবর্জনার ধরন এক নয়। কিছু বর্জ্য পচনশীল, কিছু পুনঃচক্রায়ণের মাধ্যমে আবার শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয়। আবার কিছু ফেলে দেওয়া জিনিস অন্য কারও কাজে লাগতে পারে।

এর পাশাপাশি রয়েছে মানবদেহের তরলে ভেজা বর্জ্য, দুর্গন্ধ ও জীবাণুযুক্ত আবর্জনা এবং বিভিন্ন ধারালো বা সুচালো বস্তু। কিন্তু বাংলাদেশে সব জায়গায় বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী আলাদা বিনে ফেলার সর্বজনীন ব্যবস্থা নেই। ফলে বেশির ভাগ মানুষ সব ধরনের ময়লা একসঙ্গেই ফেলে থাকেন।

অনেকে আবার নির্দিষ্ট স্থান বাদ দিয়ে রাস্তাঘাট, জলাশয়, জঙ্গল কিংবা পাহাড়েও আবর্জনা ফেলে দেন। দুটি অভ্যাসই পরিবেশ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর।

পরিবেশের পাশাপাশি ঝুঁকিতে মানুষও

যত্রতত্র ময়লা ফেলার ফলে মাটিদূষণ, পানিদূষণ, জলাবদ্ধতা এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতির মতো নানা সমস্যা তৈরি হয়। তবে সব আবর্জনা একসঙ্গে ফেলার আরেকটি বড় ক্ষতি হয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের।

বাসাবাড়ির আবর্জনা সংগ্রহের পর সেগুলো ধরন অনুযায়ী আলাদা করার কাজও তাঁদের করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই খালি হাতে দুর্গন্ধযুক্ত ও জীবাণুযুক্ত বর্জ্যের সংস্পর্শে আসতে হয় তাঁদের। প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পোশাক বা মাস্কও অনেকের থাকে না।

ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে বর্জ্য থেকে জীবাণু হাতে লেগে যেতে পারে। ধারালো বর্জ্যে হাত কেটে যেতে পারে, আবার সুচালো বস্তু আঙুলে ঢুকে যেতে পারে।

কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়?

প্রস্রাব বা রক্তে ভেজা বর্জ্যে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক থাকতে পারে। ডায়াপারে থাকতে পারে মলের জীবাণু। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাতে কোনো কাটাছেঁড়া থাকলে কিংবা এসব বর্জ্য চোখ-মুখে লাগলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

কাঁচা মাংসের রসেও জীবাণু থাকতে পারে। মাছের কাঁটা ফুটে যাওয়া, ভাঙা কাচে কেটে যাওয়া কিংবা অন্যান্য ধারালো বস্তুর আঘাতেও হাতে সংক্রমণ হতে পারে।

দূষিত ধারালো বা সুচালো বস্তুর মাধ্যমে ধনুষ্টঙ্কারের জীবাণু ছড়াতে পারে। আবার হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি বা এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের সংস্পর্শে থাকা বর্জ্য থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এমন ঝুঁকির মধ্যেই দিনের পর দিন কাজ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। কখনো ফেলে দেওয়া ছেঁড়া পুতুল বা ব্যাগ কুড়িয়ে নিয়ে কেউ সেটি পরিষ্কার করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। অথচ এসব বস্তুর গায়েও থাকতে পারে অসংখ্য জীবাণু।

নিরাপদে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ি

অনেক উন্নত দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আবর্জনার ধরন অনুযায়ী আলাদা করে ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও নাগরিকদের নিজেদেরই নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য পৌঁছে দিতে হয়। নিয়ম ভাঙলে শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।

বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের সুবিধা থাকায় নাগরিকদের জন্য কাজটি তুলনামূলক সহজ। তাই এই সুবিধার পাশাপাশি দায়িত্বশীল হওয়াটাও জরুরি।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা যেতে পারে—

* ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন এবং ব্যাগের মুখ ভালোভাবে আটকে দিন।

* সিরিঞ্জসহ ধারালো বা সুচালো বর্জ্য, ধাতব বস্তু, কাচ, টিউবলাইট ও বাল্ব শক্ত প্লাস্টিকের কনটেইনারে ভরে মুখ স্কচটেপ দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ করুন।

* ছোট ধারালো বর্জ্য কনটেইনারে রাখা সম্ভব না হলে পুরু কাপড়ে মুড়িয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলুন।

* ডায়াপার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, ব্যবহৃত কনডম এবং পোষা প্রাণীর মলমূত্র কাগজে ভালোভাবে মুড়িয়ে ফেলুন।

* কীটনাশক, শক্তিশালী পরিষ্কারক, রাসায়নিক বা ওষুধের ফাটা বোতল ও মোড়ক আলাদাভাবে মুড়িয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। অক্ষত বোতল হলে মুখ শক্ত করে আটকে ফেলুন।

* রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য আলাদাভাবে মুড়িয়ে মুখ বন্ধ করে ফেলা ভালো।

* ব্যাটারি অন্য বর্জ্য থেকে আলাদা করে ফেলুন।

নিজের ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যারা আমাদের ফেলে দেওয়া বর্জ্য সরিয়ে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখেন, তাঁদের নিরাপত্তার কথাও ভাবা জরুরি। ছোট কিছু সচেতনতা তাঁদের জন্য বড় ঝুঁকি কমাতে পারে।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে