Logo
Logo
×

ভিজ্যুয়াল ।  আর্ট-রিভিউ

ইমপ্রেশনিজমের যে উচ্চতায় ভ্যান গঘ

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬। ০২:২৩ পিএম

আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬। ১৪:৫৭ পিএম

ইমপ্রেশনিজমের যে উচ্চতায় ভ্যান গঘ

শিল্পের ইতিহাসে এমন শিল্পীর সংখ্যা খুব বেশি নেই, যাঁর জীবন ছিল এতটা বেদনাময়, অথচ মৃত্যুর পর যাঁর শিল্প হয়ে উঠেছে কোটি মানুষের বিস্ময়। ভিনসেন্ট ভ্যান গখ (১৮৫৩–১৮৯০) সেই বিরল নামগুলোর অন্যতম।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি সিদ্ধান্ত নেন চিত্রশিল্পী হওয়ার। এরপর সময় পান মাত্র দশ বছর। এই স্বল্প সময়েই তিনি এঁকেছিলেন প্রায় ৯০০টি চিত্রকর্ম এবং ১,১০০-এরও বেশি স্কেচ ও অঙ্কন—যা শিল্পের ইতিহাসে এক অসাধারণ সৃজনযজ্ঞ।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তিনি লড়েছেন দারিদ্র্য, নিঃসঙ্গতা, মানসিক অস্থিরতা ও অসুস্থতার সঙ্গে। একই বিষয়কে তিনি বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন—সানফ্লাওয়ার, গমক্ষেত, আত্মপ্রতিকৃতি কিংবা রাতের আকাশ—প্রতিটি ক্যানভাসে যেন ফুটে উঠেছে তাঁর অন্তর্দহন, আশা আর বেঁচে থাকার আকুতি। এই অনন্য শিল্পভাষাই পোস্ট-ইমপ্রেশনিজমকে নিয়ে গেছে নতুন এক উচ্চতায়।

কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো, জীবদ্দশায় ভ্যান গখ প্রায় কোনো স্বীকৃতিই পাননি। তাঁর মৃত্যুর সময় খুব কম মানুষই জানত এই শিল্পীর নাম। অথচ আজ তাঁর চিত্রকর্ম বিক্রি হয় কোটি কোটি ডলারে; তাঁর শিল্প ছড়িয়ে আছে জাদুঘর থেকে শুরু করে পোস্টার, বই, নোটবুক, টি-শার্ট, মগ—এমনকি দৈনন্দিন জীবনের অসংখ্য সামগ্রীতেও। তাঁর জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র, লেখা হয়েছে অসংখ্য বই, গবেষণা ও প্রবন্ধ।

এই আয়োজনে তুলে ধরা হয়েছে ভিনসেন্ট ভ্যান গখের কয়েকটি অনন্য ও অবশ্যদ্রষ্টব্য চিত্রকর্ম। এটি তাঁর সমগ্র শিল্পজগতের পূর্ণ তালিকা নয়; বরং এমন কিছু নির্বাচিত সৃষ্টি, যেগুলো তাঁর শিল্পীসত্তার বিবর্তন, দৃষ্টিভঙ্গি এবং অনুভূতির গভীরতাকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। শুরুর দিকের দ্য পটেটো ইটার্স থেকে শুরু করে মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে আঁকা ডঃ গ্যাচেটের প্রতিকৃতি—প্রতিটি ছবিই একেকটি জীবন্ত অধ্যায়, যেখানে রঙের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক শিল্পীর সংগ্রাম, যন্ত্রণা এবং অমর হয়ে ওঠার গল্প।

চলুন, ভ্যান গখের ক্যানভাসে প্রবেশ করি—যেখানে প্রতিটি তুলির আঁচড় শুধু একটি ছবি নয়, বরং এক অনন্ত জীবনের ভাষ্য।

দ্য স্টারি নাইট, ১৮৮৯

কিছু কিছু সৃষ্টি এমন থাকে যা কখনো কখনো স্রষ্টাকেও ছাড়িয়ে যায়। তাতে অবশ্য স্রষ্টারই সার্থকতা। ভিনসেন্ট ভ্যান গখের স্টারি নাইট অনেকটা এমনই। ১৮৮৮ সালে নিজের কান নিজেই কেটে ফেলেছিলেন তিনি। এরপর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে স্বেচ্ছায় ফ্রান্সের সেইন্ট রেমি-ডি প্রদেশের একটি আশ্রমে ভর্তি হন। সেখানে ১৮৮৯ সালে তার ঘরের পুবমুখী জানালা থেকে দেখে এঁকেছিলেন এটি। শুনে অবাক লাগলেও, তিনি তেলরঙে আঁকা এই রাতের আকাশটি এঁকেছিলেন ভোরবেলায়, ঠিক সূর্য ওঠার একটু আগে। দিনের বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন আবহাওয়াকে কেন্দ্র করে দৃশ্যটিকে তিনি এঁকেছিলেন ২১ বার।

অদ্ভুত হলেও সত্য, ২১টি স্কেচের একটিতেও তার ঘরের জানালার লোহার গরাদগুলো নেই। আর ভ্যান গখের অন্যতম সেরা সৃষ্টি হলেও তিনি তার ভাই, থিওকে লেখা চিঠিতে এই ছবিটির কথা বিশেষভাবে বলেননি। ছবিটি ছিল তার কাছে ব্যর্থ একটি সৃষ্টি। গ্রিফিথ পার্ক অবজারভেটরির এক গবেষণায় দেখা গেছে, গখ বসন্তের সেই রাতে চাঁদ, শুকতারা আর অন্যান্য তারার অবস্থান একদম ঠিকমতো দেখিয়েছিলেন ছবিটিতে।

তিনি সবসময় চোখের সামনে যা দেখতেন তার পূঙ্খানুপুঙ্খ ছবি আঁকলেও, এখানে এসে তিনি তার ধারা পাল্টান। ছবিটিতে তিনি যে গ্রামের দৃশ্যটি এঁকেছেন, তা পুরোপুরিভাবে তার কল্পনাপ্রসূত ছিল। চোখের সামনে সেটি ছিল না। ‘চিরাচরিত ভ্যান গখ’ থেকে হয়তো এটি সাময়িক সময়ের বিরতিই বটে। ছবিটিতে নীল রঙের আধিক্য লক্ষ্যণীয়। তা কিছুটা অপার্থিব আর স্বপ্নের মতো মনে হয়। তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছিল। হতাশা আর মনের ভেতরকার দ্বন্দ্বকে তুলির আঁচড়ে তিনি ক্যানভাসে তুলে ধরেছিলেন বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত। গাঢ় রঙের ব্যবহার এমনভাবে করেছেন যে তা সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মাত্র এক বছর আগেই আঁকা ‘স্টারি নাইট ওভার দ্য রোন’ এর তুলনায় ‘স্টারি নাইট’ কিছুটা অস্থির। এটি ১৯৪১ সাল থেকে নিউ ইয়র্কের মিউজিয়াম অভ মডার্ন আর্টে সংরক্ষিত আছে। নিঃসন্দেহে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় চিত্রকর্মের মধ্যে একটি।

ভ্যান গখের কাছে এই ছবিটি ছিল ব্যর্থ। ছবি সূত্র: মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট

দ্য পটেটো ইটার্স, ১৮৮৫

এটি গখের আঁকা প্রথম ছবি না হলেও তার প্রথম মাস্টারপিস। ১৮৮৫ সালে আঁকা এ ছবিটি এখন আমস্টারডামের ভ্যান গখ মিউজিয়ামে আছে। র‍্যামব্র‍্যান্ডের অনুসরণ করতে গিয়েই হয়তো গখ এখানে বেছে নিয়েছিলেন একরঙা অন্ধকার পরিবেশ। শ্রমজীবী, খেটে-খাওয়া মানুষ আর তাদের সাদামাটা জীবনের প্রতি ভালোবাসা থেকেই গখ এঁকেছিলেন ছবিটি।

ছবিটিকে বাস্তবসম্মত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ইচ্ছাকৃতভাবেই অমার্জিত মানুষদের বেছে নিয়েছিলেন। যে হাত দিয়ে চাষীরা মাটি চাষ করেন সে হাত তো এবড়োখেবড়ো হওয়ারই কথা। ছবিতে শীতের রাতে জীর্ণ কুটিরে পাঁচজন মানুষের দেখা মেলে যাদের মধ্যে চারজন নারী আর একজন পুরুষ। অন্ধকারে আঁকা সত্ত্বেও তাদের মিশ্র অভিব্যক্তির বাস্তব চিত্র এঁকেছেন গখ। দেখলে মনে হবে একটু কান পাতলেই তাদের কথা শোনা সম্ভব। নেদারল্যান্ডসের কৃষক পরিবার দ্য গ্রুটসকে মডেল ধরে ছবিটি আঁকা। ছবিটি এসব পরিশ্রমী মানুষের প্রতি গখের মমত্ববোধ আর অনুরাগেরই পরিচয় বহন করে। তিনি চেয়েছিলেন মানুষ যেন এসব খেটে-খাওয়া শ্রমিকদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের মূল্য দিতে শেখে। ছবিটি দু’বার চুরি গিয়েছিল। ছবিটি গখের শিল্পীজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এত সব ছবি আঁকার পরও ১৮৮৭ সালে তার বোনকে লেখা চিঠিতে বলেন, নিউয়েনেন/নেনেন- এ আঁকা সেরা ছবি ছিল এটি।

খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে ছবিটি।  ছবি সূত্র: ফ্লিকার

ভাস উইথ ফিফটিন সানফ্লাওয়ারস, ১৮৮৮

ভিনসেন্ট ভ্যান গখের সবচেয়ে পরিচিত সৃষ্টি নিঃসন্দেহে ‘সানফ্লাওয়ার’ সিরিজ। ১৮৮৭ থেকে ১৮৮৯ সালের মধ্যে আঁকা দুটি সিরিজে মোট ১২টি চিত্রকর্ম রয়েছে, যা বর্তমানে টোকিও, লন্ডন, আমস্টারডাম ও মিউনিখসহ বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত। যদিও তিনি নিজে কখনো এগুলোকে ‘সানফ্লাওয়ার’ নামে অভিহিত করেননি।‘ভাস উইথ ফিফটিন সানফ্লাওয়ারস’ ছবিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উজ্জ্বল হলুদ রঙের সাহসী ব্যবহার এবং প্রচলিত নিয়ম ভেঙে আঁকার স্বাতন্ত্র্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অনেক শিল্পসমালোচকের মতে, সূর্যমুখীর মাধ্যমে গখ যেন নিজের অনুভূতি ও ব্যক্তিত্বকেই প্রকাশ করেছিলেন।সূর্যমুখী ছিল গখের কাছে ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতীক। গ্রীষ্মের মতোই এর আয়ু স্বল্প—যেমন ছিল তাঁর নিজের জীবনও। কিন্তু অল্প সময়ের সেই সৃষ্টিশীল জীবন তাঁকে শিল্পের ইতিহাসে চিরস্থায়ী করে তুলেছে। ১৯৮৭ সালে এই চিত্রকর্মটি এক জাপানি সংগ্রাহক নিলামে ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কিনেছিলেন, যা সে সময়ের একটি বিশ্বরেকর্ড ছিল।

গখ তার অনুভূতির বহিঃপ্রকাশের জন্য সূর্যমুখীকে ব্যভার করেছেন সর্বোত্তম উপায়ে, ছবিসূত্রঃ ভ্যান গঘ যাদুঘর, আমস্টারডাম

আইরিসেস, ১৮৮৯

ভ্যান গখের আঁকা সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে আইরিসেস একটি। মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে ১৮৮৯ সালে সেইন্ট রেমির সেই আশ্রমে তিনি এটি এঁকেছিলেন। আশ্রমে ভর্তি হয়ে প্রথম সপ্তাহেই এটি এঁকেছিলেন। ছবি আঁকতে সমর্থ হওয়ায় মানসিক ভারসাম্য হারাননি বলে মনে করেছিলেন তিনি। তাই তিনি অনেকটা আশ্বস্ত হয়েই ছবি আঁকা চালিয়ে যান। মোট ১৩০টি ছবি এঁকেছিলেন আশ্রমে।

প্রথমদিকে আঁকা ছবি বলে এতে অস্থিরতার ছাপ নেই। দিন যত গিয়েছে তার ছবিগুলো বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ছিলো। তিনি অনেক উৎফুল্ল হয়ে অনুরাগ নিয়ে ছবিটি এঁকেছিলেন। আশ্রমের বাইরে তাকে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই তিনি এর অনুপ্রেরণা পান। আইরিসের প্রতিটি পাপড়ি এখানে মৌলিক। সূক্ষ্মভাবে তিনি ফুলের সৌন্দর্য বুঝে গেছিলেন। জাপানি ‘উকিও-এ’ (কাঠের ব্লকপ্রিন্ট) – এর বিশেষ অনুরাগী ছিলেন আর এ ছবিতে এর প্রভাব স্পষ্ট। গখ এ ছবিকে তার সেরা শিল্পকর্ম ভাবেননি। বরং তিনি একে নিয়েছিলেন স্রেফ অনুসন্ধান হিসেবে। কিন্তু তার ভাই, থিও প্যারিসে এ ছবিটির প্রদর্শনী করিয়েছিলেন গখের মৃত্যুর আগেই। ছবিটি ১৯৮৭ সালে বিক্রি হয়েছিল ৫৩.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে (আজকের দিনে এর সমপরিমাণ মূল্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। সর্বকালের সবচেয়ে দামি চিত্রকর্মের মধ্যে এটি ১৫ তম। লস অ্যাঞ্জেলেসের গেটি মিউজিয়ামে এটি এখন সংরক্ষিত আছে।

১৮৮৯ সালে সেইন্ট রেমির সেই আশ্রমে গিয়ে প্রথম সপ্তাহেই ছবিটি এঁকেছিলেন তিনি।  ছবিসূত্র : জে পল গেটি মিউজিয়াম

ক্যাফে ট্যারেস অ্যাট নাইট, ১৮৮৮

এর আরেক নাম দ্য ক্যাফে ট্যারেস অন দ্য প্লেস ড্যু ফোরাম। এটি গখ এঁকেছিলেন ১৮৮৮ এর সেপ্টেম্বরে। এই ছবিতেই তিনি প্রথম নেপথ্যে ‘তারাভরা আকাশ’ আঁকেন। এখনও দর্শনার্থীরা এই ক্যাফের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দিক থেকে এরকম দৃশ্য দেখতে পাবেন। জায়গাটি এখনও আছে, তবে এখন এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ক্যাফে ভ্যান গখ’। গখের এই ছবিটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা হয়েছে। অনেক তর্কবিতর্কও হয়েছে যে এই ছবি কি আসলে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা লাস্ট সাপার-এর সৃষ্টিশীল নবরূপায়ন? যথেষ্ট যুক্তিও দিয়েছেন এর সমর্থকেরা। তবে এই চিত্রকর্ম এখন পপুলার কালচারের অংশ হয়ে গেছে। ছবিতে ক্যাফের বাইরের দিকটি দেখা যাচ্ছে। দেখলে মনে হবে যেন কোনো নিশ্চিন্ত দর্শকের স্বচ্ছন্দ কল্পনা। যেন কেউ কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছাড়াই চোখের সামনে থাকা সৌন্দর্যকে উপভোগ করছেন। গখ তাই বলেছিলেন যে, দিনের থেকে রাত আরো বেশি জীবন্ত, আরো বর্ণিল। উষ্ণ হলুদ, সবুজ আর কমলা রঙের তীক্ষ্ণ বৈসাদৃশ্য সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রাতের ছবি হওয়া সত্ত্বেও এতে কালো রঙটি অনুপস্থিত। মূলত এই ছবি দিয়েই গখ তার আইকনিক ‘তারাভরা আকাশ’ আঁকা শুরু করেন। ট্রিলজিই বলা চলে যা পূর্ণতা পায় স্টারি নাইট ওভার দ্য রোন আর স্টারি নাইটের মাধ্যমে।

ছবিটি তিনি স্মৃতি থেকে নয়, বরং সামনে বসে-দেখে-উপভোগ করে আঁকেন তিনি। ছবিটির কোথাও তার স্বাক্ষর নেই, তবে তার চিঠিগুলো থেকে গবেষকেরা নিশ্চিত হয়েছেন এটি তারই আঁকা। অবাক করার মতো ব্যাপারটি হলো, এই চিত্রকর্মটিতেও তারার অবস্থানগুলো একদম ঠিক। সবচেয়ে বেশি পুনরুৎপন্ন চিত্রকর্মের মধ্যে এটি দ্বিতীয় অবস্থানে আছে, স্টারি নাইটের ঠিক পরেই। এটি এখন সংরক্ষিত আছে নেদারল্যান্ডসের ক্রোলার ম্যুলার জাদুঘরে।

১৮৮৮ সালে গখ এখানেই বসে এঁকেছিলেন ছবিটি, আগের মতোই আছে জায়গাটি। ছবিসুত্রঃ উইকিমিডিয়া  

আমন্ড ব্লোজমস, ১৮৯০

১৮৮৮ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের সেইন্ট-রেমি ও আর্লসে অবস্থানকালে ভিনসেন্ট ভ্যান গখ প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে অসাধারণ কিছু চিত্রকর্ম আঁকেন। ‘আমন্ড ব্লোজমস’ তার অন্যতম। ফুলগাছ ছিল তাঁর কাছে আশা ও নতুন জীবনের প্রতীক, আর খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে সেগুলো আঁকতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

ছবিটি তিনি এঁকেছিলেন তাঁর ভাই থিও ভ্যান গখ ও ভাবি জো–এর নবজাতক ছেলে ভিনসেন্ট উইলেম-এর জন্ম উপলক্ষে। ছেলের নাম বড় ভাইয়ের নামে রাখার পাশাপাশি থিও চিঠিতে লিখেছিলেন, “আমি চাই আমার সন্তান তোমার মতোই সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হোক।” আনন্দিত গখ এই ছবিটি ভ্রাতুষ্পুত্রকে উপহার দেন। বসন্তের শুরুতে ফুটে ওঠা আমন্ড ফুল নবজীবনের প্রতীক। জাপানি উকিও-য়ে শিল্পশৈলীর প্রভাব—উজ্জ্বল রং ও গাঢ় আউটলাইন—এ ছবিতে স্পষ্ট হলেও, এটি একই সঙ্গে ভ্যান গখের নিজস্ব স্বতন্ত্র শৈলীরও নিদর্শন। থিও দম্পতি ছবিটি সন্তানের বিছানার ওপরে টাঙিয়ে রেখেছিলেন, আর জো গখকে লিখেছিলেন যে ছোট্ট ভিনসেন্ট ছবিটি খুব পছন্দ করেছে। নিয়তির নির্মম পরিহাস—নবজীবনের প্রতীক হয়ে ওঠা এই চিত্রকর্ম আঁকার মাত্র কয়েক মাস পরই ভিনসেন্ট ভ্যান গখ আত্মহত্যা করেন।

ভ্রাতুষ্পুত্রের জন্মদিনের উপহার ছিল ছবিটি। ছবিসূত্রঃ ভ্যান গঘ যাদুঘর, আমস্টারডাম

সর্বকালের সেরা একজন চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গখ। বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলায় তার অবদান অনস্বীকার্য। তার আরও অনেক কালজয়ী ছবির মধ্যে অ্যাট এটারনিটিস গেইট, স্টারি নাইট ওভার দ্য রোন, বেডরুম ইন আর্লস, হুইটফিল্ড উইথ ক্রোওস, হুইটফিল্ড উইথ সাইপ্রেসেস, দ্য রেড ভিনেয়ার্ড, দ্য নাইট ক্যাফে অন্যতম। 

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে