শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের সময়টা খুব ভালো যাচ্ছে না। আইপিওর এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে ইলন মাস্কের সম্পদমূল্যেও।
বুধবার স্পেসএক্সের প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ১৩২ দশমিক ৬২ ডলার। অথচ জুন মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সময় প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ১৩৫ ডলার। অর্থাৎ আইপিও মূল্যের তুলনায় শেয়ারটির দাম এখন কমে গেছে। খবর বিবিসির।
তালিকাভুক্তির পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম একসময় সর্বোচ্চ ২২৫ ডলারে উঠেছিল। সেই উচ্চতার সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমান দাম প্রায় ৪১ শতাংশ কম। ফলে আইপিওর সময় বা তার কাছাকাছি সময়ে যাঁরা শেয়ার কিনেছিলেন, তাঁদের অনেকেরই লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে অস্থিরতা দেখা গেলেও স্পেসএক্সের পতন ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। বুধবার নাসডাক সূচক কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। অথচ একই দিনে স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমেছে ২ শতাংশের বেশি।
তালিকাভুক্তির পর থেকেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। শুরুতে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে কোম্পানিটির বাজারমূল্য একসময় আমাজন ও মাইক্রোসফটকেও ছাড়িয়ে যায়। তবে পরে শেয়ারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বিবিসিকে বলেন, শুরুতে অনেক বিনিয়োগকারী স্পেসএক্সকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে স্পেসএক্স ইলন মাস্কের এআই স্টার্টআপ এক্সএআইকে অধিগ্রহণ করে। পরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএআই রাখা হয়। এর মাধ্যমে এআইভিত্তিক ব্যবসায় প্রবেশ করে স্পেসএক্স।
এক্সএআই মূলত বিতর্কিত চ্যাটবট গ্রকের জন্য পরিচিত। তবে অধিগ্রহণের পর স্পেসএক্স এখন অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের ডেটা সেন্টার ভাড়া দিচ্ছে।
স্পেসএক্সের মূল ব্যবসা হলো রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণ। পাশাপাশি স্টারলিংক নামে স্যাটেলাইটভিত্তিক টেলিযোগাযোগ সেবাও পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি টেনেসির মেমফিস এলাকায় একটি বড় ডেটা সেন্টার প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর স্টারলিংক সেবার মূল্য কমানোর ঘোষণা দিলে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম এক দিনেই ৮ শতাংশ কমে যায়।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্রোকারসের প্রধান বাজার বিশ্লেষক স্টিভ সসনিক রয়টার্সকে বলেন, সম্প্রতি এমন কোনো ইতিবাচক ঘটনা ঘটেনি, যার কারণে বিনিয়োগকারীরা স্পেসএক্সের শেয়ার নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারেন।
আগস্টে তালিকাভুক্তির পর প্রথম ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে স্পেসএক্সের। সেই ফলাফল বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।
স্টিভ সসনিক আরও বলেন, ‘কোনো শেয়ারের দাম আইপিও মূল্যের চেয়ে কয়েক ডলার কমে যাওয়া মানেই বড় বিপর্যয় নয়। তবে স্পেসএক্সের মতো কোম্পানির শেয়ারের দিকে বিনিয়োগকারীরা নিবিড়ভাবে নজর রাখেন। এই কোম্পানির শেয়ারের দাম কমা বা বাড়া বাজার ও বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রভাব ফেলে।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও স্পেসএক্স তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
কমেছে মাস্কের সম্পদমূল্য
স্পেসএক্সের মূল্যায়নের কল্যাণে ইলন মাস্ক গত ১২ জুন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হন। তিনি ১২ দিন এই খেতাব ধরে রাখেন। মূলত শেয়ারের দামের ওঠানামার ওপর ধনীদের সম্পদমূল্য নির্ভর করে।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় মাস্কের সম্পদমূল্যও কমেছে। বুধবার এক দিনেই তাঁর সম্পদমূল্য কমেছে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বা ৪৮০ কোটি ডলার। বর্তমানে মাস্কের সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৬০ বিলিয়ন ডলার বা ৮৬ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পর তাঁর সম্পদমূল্য ১৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি কমেছে।