দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের শুরুটা হয়েছে দরপতন দিয়ে। আগের দিনের ধারাবাহিকতায় রবিবারও মুনাফা তুলে নেওয়ার হিড়িকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করেছেন।
এর পাশাপাশি মার্জিন বিধিতে প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার কারণেও বাজারে টানা বিক্রি চাপ ছিল, যা বাজারের গতিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের ৫,৯০০ পয়েন্ট থেকে ৪৪.৬ পয়েন্ট কমে ৫,৮৫৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
দিনের শুরুতে কিছু শেয়ারে কেনাকাটার চাপে পতন কিছুটা সামলানো গেলেও, মার্জিন বিধির সংশোধনী নিয়ে খসড়া প্রস্তাব প্রকাশের পরপরই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের কারণে নতুন করে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
বিশেষ করে বিমা খাতের শেয়ারগুলোতে টানা বিক্রি ছিল, কারণ বিনিয়োগকারীরা ভাবছেন এই খাতের শেয়ারগুলো হয়তো আর মার্জিন সুবিধার আওতায় থাকবে না।
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেশ ভালো থাকলেও লেনদেন আগের দিনের ১১.২ বিলিয়ন টাকা থেকে কমে ১০.৭ বিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে, যা ৪.৩ শতাংশ কম।
খাতের হিসেবে লেনদেনে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল ওষুধ ও রসায়ন (১৪.৯%), এরপর টেক্সটাইল (১৪.৭%) এবং সাধারণ বিমা (১২.৫%) খাত।
রবিবার বাজারে প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ বিমা (-৩.১%), পাট (-২.০%) এবং জীবন বিমা (-১.৯%) খাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে।
অন্যদিকে, মিউচুয়াল ফান্ড (১.৯%), সিরামিক (০.৯%) এবং টেক্সটাইল (০.৩%) খাতে সবচেয়ে ভালো রিটার্ন পাওয়া গেছে।
বাজারে মোট ৩৯৬টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ৯৭টির দাম বেড়েছে, ২৪২টির দাম কমেছে এবং ৫৭টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
বন্দরনগরীর পুঁজিবাজার, অর্থাৎ সিএসইর সূচকও নেতিবাচক ছিল। সিএসইর সিলেক্টিভ ক্যাটাগরিস ইনডেক্স (সিএসসিএক্স) ৬১.৩ পয়েন্ট এবং সার্বিক শেয়ার প্রাইস ইনডেক্স (সিএএসপিআই) ৬৬.২ পয়েন্ট কমেছে।