কাঁচা মরিচসহ বেশ কিছু সবজির দাম কমায় রাজধানীর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কমেছে মুরগির দামও। তবে নতুন করে বেড়েছে চালের দাম। বিশেষ করে চিকন ও মিনিকেট চালের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
খুচরা বাজারে এদিন প্রতি কেজি মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৮ টাকা এবং কাটারি নাজির ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে ব্র্যান্ড ও মানভেদে মিনিকেট চালের দামে পার্থক্য রয়েছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরাও চালের দাম বাড়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের হিসাবে, গত এক সপ্তাহে মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বলেন, কয়েক ধাপে হাতবদল ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে চালের দাম কখনো দুই-তিন টাকা বাড়ে, আবার কখনো কমে।
তিনি বলেন, “পাইজাম (মাঝারি চাল) বস্তা কিনতে দিতে হচ্ছে বস্তা প্রতি ২২শ থেকে সাড়ে ২২শ টাকা। তাহলে কেজি পড়ছে ৪৫ টাকা। ছোট দোকানে কেজিতে একটু বেশি হবে। তারা বিক্রি করছেন ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।”
কমেছে কাঁচা মরিচের দাম
আমদানি বাড়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে কমছে কাঁচা মরিচের দাম। গত ১৪ আগস্ট খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রায় ২০০ টাকা। এক সপ্তাহ পর তা কমে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় নেমেছে।
কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে মানভেদে কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় মরিচের চালান বাড়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া। তাঁর মতে, সরবরাহ বাড়ায় দামও কমছে।
এদিকে গত সপ্তাহে বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ৮০ টাকার ওপরে থাকলেও শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে দাম কিছুটা কমেছে।
মোহাম্মদপুর টাউনহল কাঁচাবাজারে শসা বিক্রি হয়েছে কেজি ৬০ টাকা। কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ৪০ টাকা এবং আড়তে ২০ টাকা কেজি দরে শসা পাওয়া যাচ্ছে। তবে আড়ত থেকে কিনতে হলে লটে কিনতে হচ্ছে।
পেঁপে খুচরা বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পাইকারিতে ২০ টাকা এবং আড়তে ১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি খুচরায় ৬০ টাকা, পাইকারিতে ৪০ টাকা এবং আড়তে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি।
চাল কুমড়া, ঢেঁড়স, করলা ও পটল খুচরা বাজারে কেজি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব সবজির দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মিষ্টি কুমড়ার দাম ১৫ টাকা কমে কেজি ২৫ টাকায় নেমেছে।
তবে বেগুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লম্বা বেগুন ১২০ টাকা এবং গোল বড় বেগুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা আজমল হোসেন বলেন, “গত সপ্তাহ থেকেই আড়তে প্রচুর মাল আসছে। ফলে ধীরে ধীরে দামও কমছে। অন্য কোনো ঝামেলা (প্রাকৃতিক দুর্যোগ) না হলে, দাম আরও কমবে।”
পেঁয়াজ-আলুতেও স্বস্তি
পেঁয়াজের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা ছিল। এ সপ্তাহে মানভেদে পাইকারিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং খুচরায় ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও দুই কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে।
আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা কমে ২৫ টাকায় নেমেছে।
কমেছে মুরগির দাম
মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার দাম কমে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় নেমেছে।
সোনালি মুরগির দামও কমেছে। গত শুক্রবার কেজি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা থাকলেও এ সপ্তাহে তা ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে ডিমের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।