প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ এএম
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু। আগুন থেকে বাঁচতে দোতলা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন এক ব্যক্তি। অন্যদিকে দুই শিশুসন্তানসহ নিখোঁজ এক দম্পতি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না স্বজনরা।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একের পর এক উঠে আসছে এমন মর্মান্তিক ঘটনা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার পর এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক ও ব্যবস্থাপকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে। একই সঙ্গে আগুনের কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে। স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেলেও ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া কোনো মরদেহের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যেভাবে শুরু ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টটি মূলত কাঠ ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত ছিল। প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে নির্মিত তিনতলা স্থাপনাটিতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল।
শনিবার সকালে যখন আগুন লাগে, তখন রিসোর্টের অনেক পর্যটক ঘুমিয়ে ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। এরপর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন এবং সকাল আটটার দিকে সেখানে পৌঁছান।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পুরো স্থাপনাটি পুড়ে যায়।
সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থান এবং প্রবল বাতাসের কারণে কাঠের ভবনটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
আগুন লাগার পর কয়েকটি কক্ষে থাকা পর্যটকরা বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ ভবনের ওপর থেকে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচান। আবার কয়েকজন বের হতে না পেরে ভেতরেই আটকা পড়েন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, রিসোর্টটির তৃতীয় তলার দুটি শৌচাগারে চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকে। শনিবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা ১০ জনে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস।
উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরাও অংশ নেন।
বেড়াতে গিয়ে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু
রিসোর্টটির অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর একটি ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা আশিকুল ইসলাম ও তার স্বজনদের পরিবার।
আশিকুল ইসলাম (৩৫) স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, স্ত্রীর বোনসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
তাদের শনিবার সকালে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফেরার প্রস্তুতির আগেই আগুনে সবকিছু বদলে যায়।
স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে আশিকুলের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), শ্যালিকা মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ফারিহা কবির (৩৩), ফারিহার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফায়িজান আহমেদ এবং কৌশিক জেরিফ (২৪) মারা গেছেন।
আশিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় তারা ঘুমিয়ে ছিলেন। জীবন বাঁচাতে তিনি দোতলা থেকে লাফ দেন। এরপর কী ঘটেছে, তা তার মনে নেই।
এ ঘটনায় আশিকুলের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা নূর আলমও হারিয়েছেন স্ত্রী ও সন্তানকে।
নূর আলম জানান, স্ত্রী ফারিহা কবির বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তারপরও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন।
তিনি নিজেও পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজারে যান। তবে জরুরি দাপ্তরিক কাজ থাকায় শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন।
পরদিন সকালে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে জানতে পারেন, তার স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া আরও কয়েকজন প্রাণে বেঁচেছেন।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দময় একটি ভ্রমণ এভাবে শোকের ঘটনায় পরিণত হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
দুই শিশুসন্তানসহ নিখোঁজ দম্পতি, অপেক্ষায় পরিবার
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে আরেক পরিবারের চারজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
তারা হলেন নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।
নাহিদুর রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে চাকরি করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকতেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নাহিদ ও আফসানা।
আফসানা তার মায়ের কাছে রিসোর্টটির পরিবেশের বর্ণনাও দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, কাঠের তৈরি রিসোর্টের এক পাশের বারান্দা থেকে সমুদ্র এবং অন্য পাশ থেকে পাহাড় দেখা যায়।
সকালের নাশতায় বুফে ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু পরদিন সকাল থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আফসানার বড় বোন ফারজানা মতিন জানান, শনিবার সকাল সাতটার দিক থেকে নাহিদ ও আফসানার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।
প্রথমে পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, বেড়াতে গিয়ে হয়তো তারা কোথাও ব্যস্ত রয়েছেন।
পরে দুপুরের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
রিসোর্টটির নাম ও অবস্থানের সঙ্গে আফসানাদের বেড়াতে যাওয়ার তথ্য মিলে যাওয়ায় স্বজনরা সম্ভাব্য দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেন।
এরপর কক্সবাজারের হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা।
আহত ও নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় খোঁজ নেওয়া হলেও চারজনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরে রিসোর্টের নথি থেকে নাহিদুর রহমানের নাম ও মুঠোফোন নম্বর পাওয়ার তথ্য পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
এতে রিসোর্টে ওই পরিবারের অবস্থানের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও তাদের পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
ফারজানা মতিন বলেন, দুই ভাগনি ইনায়া ও ইহানাকে ঘিরেই ছিল দুই পরিবারের আনন্দ। নিয়মিত ভিডিও কলে কথা হতো তাদের সঙ্গে।
দুই শিশুর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
চারজনের নিখোঁজ হওয়ার খবরে পরিবারের সদস্যরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নাহিদের ভাই ও বন্ধুরাও সেখানে খোঁজ নিতে যান।
তবে স্বজনরা মৃত্যুর আশঙ্কা করলেও নিখোঁজ এই চারজনকে নিহত হিসেবে নিশ্চিত করেনি প্রশাসন।
অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না রিসোর্টে
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, কাঠের তৈরি এ ধরনের স্থাপনায় আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
বিশেষ করে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
কিন্তু টুপটুপ রিসোর্টে এসব ব্যবস্থার কোনোটি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এমনকি রিসোর্টটির ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাঠের তৈরি ভবনে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এর সঙ্গে সমুদ্রের তীব্র বাতাস যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
রিসোর্টটি নির্মিত হয়েছিল মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে। স্থাপনাটির জায়গার মালিকানা নিয়েও বিরোধ থাকার তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা।
এদিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এটি এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মালিক-ব্যবস্থাপকসহ মামলা, গ্রেপ্তার একজন
অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাতে উখিয়া থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।
মামলার বাদী হয়েছেন থানার উপপরিদর্শক আশীষ কুমার সূত্র ধর।
প্রকাশিত মামলাসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদ ও ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্য একটি প্রতিবেদনে রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান মিয়া, ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদ ও ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনসহ চারজনের নাম এজাহারে উল্লেখ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে আসামির নাম ও সংখ্যার বিস্তারিত বিবরণে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে মামলার পূর্ণ এজাহার ছাড়া সব আসামির পরিচয় নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, ঘটনার পর রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হবে নিহতদের পরিচয়
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আগুনে অধিকাংশ মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় শুধু চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ কারণে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহ, নিখোঁজ ব্যক্তি ও পরিচয় শনাক্তকরণ নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সে জন্য ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিআইডির কক্সবাজারের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, জেলা সদর হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজনে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এর ফলে স্বজনদের দেওয়া পরিচয় ও সম্ভাব্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার, ছয়জন আহত, একটি মামলা, একজনের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয় নিশ্চিত হয়েছে।
তবে আগুনের চূড়ান্ত কারণ, সব মরদেহের পরিচয় এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিণতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
