প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৯ এএম
শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দেওয়া হয়েছে, তাতে সৃষ্টি হয়েছে গুরুতর জখমের চিহ্ন। ছবি: পুলিশের সৌজন্যে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগের বিস্তারিত উঠে এসেছে পুলিশের অভিযোগপত্রে। শিশুটিকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া, চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটানো, নোড়া দিয়ে দাঁত ভেঙে দেওয়া এবং শৌচাগারে আটকে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট ঢাকার আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন উত্তরা-পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া। এতে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি আক্তার এবং বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছেন। বিচারক সোহেল রানার আদালতে মামলাটির বিচার হবে।
তদন্ত কর্মকর্তা রোবেল মিয়া জানিয়েছেন, তদন্তে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুই আসামি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিশুটিকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যায় শিশুটি। ওই বাসার ছোট শিশুদের দেখাশোনা করাই ছিল তার প্রধান দায়িত্ব।
নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে শিশুটিকে কাজে নেওয়া হয়। মেয়ের ভবিষ্যৎ বিয়ে ও অন্যান্য খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে তাকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন হোটেলকর্মী বাবা গোলাম মোস্তফা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় কাজ শুরু করার পর থেকেই শিশুটির ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
গত ৩১ জানুয়ারি সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি আক্তার ফোন করে শিশুটির বাবাকে তার অসুস্থতার কথা জানান। মেয়েকে নিতে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও পোড়া ক্ষত দেখতে পান বাবা। পরে শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেদিন রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সাফিকুর রহমান ও রুপালী খাতুন জামিনে মুক্তি পান। বীথি আক্তার ও সুফিয়া বেগম কারাগারে রয়েছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে জবানবন্দি দেয় নির্যাতনের শিকার শিশুটি।
সেই জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গৃহকর্ত্রী বীথি আক্তার গরম খুন্তি দিয়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দিতেন। ব্যথায় চিৎকার করলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করতেন। তার ঊরু, দুই হাত ও পিঠে আঘাত করা হতো।
শিশুটির অভিযোগ, তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হতো। একপর্যায়ে নোড়া দিয়ে দাঁতও ভেঙে দেওয়া হয়।
বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীর বিরুদ্ধেও নির্যাতনের অভিযোগ করেছে শিশুটি।
জবানবন্দিতে সে আরও জানিয়েছে, তাকে শৌচাগারে আটকে রাখা হতো। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় শৌচাগারের পানি এবং টুথপেস্ট খেতে বাধ্য হয়েছে সে।
বাবা দেখতে এলে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন আড়াল করতে তাকে বড় আকারের পোশাক পরানো হতো বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর শিশুটিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
জবানবন্দিতে যা বলেছেন অভিযুক্তরা
গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইলের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বীথি আক্তার। সেখানে তিনি শিশুটিকে তিন থেকে চার দিন মারধরের কথা স্বীকার করলেও গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অন্য আসামি সুফিয়া বেগমও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নারকেল তেল ও সাবান চুরির মিথ্যা অভিযোগ করায় তিনি শিশুটিকে দুই দিন মারধর করেছিলেন।
সুফিয়া আরও জানান, গৃহকর্ত্রী বীথি আক্তারও বিভিন্ন সময়ে শিশুটিকে মারধর করতেন।
একটি ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, বীথি তাকে খুন্তি গরম করে আনতে বলেছিলেন। তিনি তা না করায় বীথি নিজেই রান্নাঘরে গিয়ে খুন্তি গরম করেন এবং শিশুটির বাঁ ঊরুতে ছ্যাঁকা দেন।
শিশুটির চিৎকার শুনে পরে সেখানে গিয়ে ঠান্ডা পানি ও ক্রিম লাগিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানান সুফিয়া।
এদিকে অভিযোগপত্রে সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানের বিরুদ্ধেও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য, স্ত্রী দীর্ঘদিন শিশুটিকে নির্যাতন করলেও তিনি তা দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন। ফলে এ ঘটনার দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
তবে সাফিকুর রহমানের আইনজীবী আরিফুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
তার দাবি, শিশুটি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছে, সে সাফিকুর রহমানকে কখনো দেখেনি। সাবেক এমডি নিজে তাকে মারধর করেননি। অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ায় এখন আদালতেই মামলার মোকাবিলা করবেন তারা।
অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, মেয়ের শরীরের ক্ষতচিহ্ন এখনো রয়ে গেছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং আগের তুলনায় কম দেখতে পায় সে।
বর্তমানে শিশুটিকে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
তিনি বলেন, মেয়ের শরীরের ক্ষতচিহ্ন দেখলে এখনো ভয় লাগে। এমন নির্যাতন যেন আর কোনো শিশুকে সহ্য করতে না হয়, সে জন্য অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগের বিস্তারিত উঠে এসেছে পুলিশের অভিযোগপত্রে। শিশুটিকে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া, চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটানো, নোড়া দিয়ে দাঁত ভেঙে দেওয়া এবং শৌচাগারে আটকে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট ঢাকার আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন উত্তরা-পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া। এতে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি আক্তার এবং বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছেন। বিচারক সোহেল রানার আদালতে মামলাটির বিচার হবে।
তদন্ত কর্মকর্তা রোবেল মিয়া জানিয়েছেন, তদন্তে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুই আসামি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিশুটিকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যায় শিশুটি। ওই বাসার ছোট শিশুদের দেখাশোনা করাই ছিল তার প্রধান দায়িত্ব।
নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে শিশুটিকে কাজে নেওয়া হয়। মেয়ের ভবিষ্যৎ বিয়ে ও অন্যান্য খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে তাকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন হোটেলকর্মী বাবা গোলাম মোস্তফা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় কাজ শুরু করার পর থেকেই শিশুটির ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
গত ৩১ জানুয়ারি সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি আক্তার ফোন করে শিশুটির বাবাকে তার অসুস্থতার কথা জানান। মেয়েকে নিতে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও পোড়া ক্ষত দেখতে পান বাবা। পরে শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেদিন রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সাফিকুর রহমান ও রুপালী খাতুন জামিনে মুক্তি পান। বীথি আক্তার ও সুফিয়া বেগম কারাগারে রয়েছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে জবানবন্দি দেয় নির্যাতনের শিকার শিশুটি।
সেই জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গৃহকর্ত্রী বীথি আক্তার গরম খুন্তি দিয়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকা দিতেন। ব্যথায় চিৎকার করলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করতেন। তার ঊরু, দুই হাত ও পিঠে আঘাত করা হতো।
শিশুটির অভিযোগ, তার চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হতো। একপর্যায়ে নোড়া দিয়ে দাঁতও ভেঙে দেওয়া হয়।
বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীর বিরুদ্ধেও নির্যাতনের অভিযোগ করেছে শিশুটি।
জবানবন্দিতে সে আরও জানিয়েছে, তাকে শৌচাগারে আটকে রাখা হতো। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় শৌচাগারের পানি এবং টুথপেস্ট খেতে বাধ্য হয়েছে সে।
বাবা দেখতে এলে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন আড়াল করতে তাকে বড় আকারের পোশাক পরানো হতো বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর শিশুটিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
জবানবন্দিতে যা বলেছেন অভিযুক্তরা
গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইলের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বীথি আক্তার। সেখানে তিনি শিশুটিকে তিন থেকে চার দিন মারধরের কথা স্বীকার করলেও গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অন্য আসামি সুফিয়া বেগমও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নারকেল তেল ও সাবান চুরির মিথ্যা অভিযোগ করায় তিনি শিশুটিকে দুই দিন মারধর করেছিলেন।
সুফিয়া আরও জানান, গৃহকর্ত্রী বীথি আক্তারও বিভিন্ন সময়ে শিশুটিকে মারধর করতেন।
একটি ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, বীথি তাকে খুন্তি গরম করে আনতে বলেছিলেন। তিনি তা না করায় বীথি নিজেই রান্নাঘরে গিয়ে খুন্তি গরম করেন এবং শিশুটির বাঁ ঊরুতে ছ্যাঁকা দেন।
শিশুটির চিৎকার শুনে পরে সেখানে গিয়ে ঠান্ডা পানি ও ক্রিম লাগিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানান সুফিয়া।
এদিকে অভিযোগপত্রে সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানের বিরুদ্ধেও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য, স্ত্রী দীর্ঘদিন শিশুটিকে নির্যাতন করলেও তিনি তা দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন। ফলে এ ঘটনার দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
তবে সাফিকুর রহমানের আইনজীবী আরিফুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
তার দাবি, শিশুটি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছে, সে সাফিকুর রহমানকে কখনো দেখেনি। সাবেক এমডি নিজে তাকে মারধর করেননি। অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ায় এখন আদালতেই মামলার মোকাবিলা করবেন তারা।
অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, মেয়ের শরীরের ক্ষতচিহ্ন এখনো রয়ে গেছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং আগের তুলনায় কম দেখতে পায় সে।
বর্তমানে শিশুটিকে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তার বাবা।
তিনি বলেন, মেয়ের শরীরের ক্ষতচিহ্ন দেখলে এখনো ভয় লাগে। এমন নির্যাতন যেন আর কোনো শিশুকে সহ্য করতে না হয়, সে জন্য অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি।