চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) ১৫ বছরের জন্য বিদেশি টার্মিনাল অপারেটরের কাছে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প তথ্য অনুযায়ী, দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় এনসিটির আধুনিকীকরণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পটি এর আগে ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। এবারের অনুমোদন মূলত ১৫ বছরের জন্য টার্মিনাল পরিচালনার খসড়া চুক্তিকে ঘিরে।
বর্তমানে এনসিটি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক কোম্পানি লিমিটেড। এখানে বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়, যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনারের প্রায় ৪৪ শতাংশই এনসিটির মাধ্যমে খালাস হয়েছে। ফলে পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে বিদেশি অপারেটর আনার আলোচনা থমকে গিয়েছিল। খসড়া চুক্তি পর্যালোচনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় তখন প্রক্রিয়াটি শেষ করা সম্ভব হয়নি। নতুন সরকারের অধীনে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে।
গত মে মাসে পিপিপি মডেলের আওতায় এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য গঠিত কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সে সময় ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব পর্যালোচনায় থাকার কথা জানানো হয়েছিল। পরে আলোচনা কমিটিকে সহায়তা করতে ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পটির ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের যাচাই-বাছাই, চুক্তির কাঠামো তৈরি, প্রস্তাব আহ্বান, চুক্তিপত্র প্রস্তুত এবং নির্বাচিত অপারেটরের সঙ্গে আলোচনায় সহায়তা করছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল চালু রয়েছে; এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)।
এর মধ্যে এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ২২ বছরের চুক্তিতে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে।
এনসিটির প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
এরই মধ্যে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসকে দীর্ঘমেয়াদি পিপিপি চুক্তির আওতায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে লালদিয়ার সঙ্গে এনসিটির গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, এনসিটি ইতোমধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং এতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে।