Logo
Logo
×

অর্থনীতি ।  এনার্জি

১২ কেজি এলপিজির দাম এক লাফে বাড়ল ২৫২ টাকা

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬। ০৫:৪৯ পিএম

আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬। ১৭:৫৫ পিএম

১২ কেজি এলপিজির দাম এক লাফে বাড়ল ২৫২ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজিতে প্রায় ২১ টাকা বাড়ায় বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়।

এর আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। গত মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল।

রবিবার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন মূল্য সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।

নতুন হিসাবে বেসরকারি এলপিজির প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। আগে তা ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। এই দর অনুযায়ী বাজারে থাকা বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।

এলপিজির মূল্য এমন সময়ে বাড়ানো হলো, যখন গত তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা। নির্ধারিত দামের তুলনায় ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও কোথাও ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম দ্রুত বেড়েছিল। যুদ্ধবিরতি শুরু হলে পরে দাম কমতে থাকে। গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা চললেও অক্টোবরের সমন্বয়ে দেশে আবার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হলো।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশে এলপিজির দামে রেকর্ড বৃদ্ধি দেখা যায়। ওই মাসের শুরুতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক দফায় ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়। পরে ১৯ এপ্রিল আবারও ২১২ টাকা বাড়ে। এরপর জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমানো হয়েছিল।

বিইআরসি প্রতি মাসেই বেসরকারি এলপিজির দাম সমন্বয় করে। তবে কমিশনের নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না; এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ বেশি।

পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের কারণে অনেক পরিবার রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে।

অন্যদিকে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা। আগে তা ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি উৎপাদনের প্রধান দুই উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের আন্তর্জাতিক মূল্যকে ভিত্তি ধরে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হয়।

এই দুই উপাদানের মূল্য প্রতি মাসে প্রকাশ করে সৌদি আরামকো, যা সৌদি কার্গো মূল্য বা সিপি নামে পরিচিত। এই মূল্য এবং আমদানিকারকদের চালানের ভিত্তিতে ডলারের গড় বিনিময় হার হিসাব করে দেশের বাজারের জন্য এলপিজির দাম ঠিক করে বিইআরসি।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে