Logo
Logo
×

অর্থনীতি ।  শিল্প ও বাণিজ্য

চালুর দুই দিনের মাথায় আবার বন্ধ যমুনা সার কারখানা

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬। ০১:৩০ পিএম

চালুর দুই দিনের মাথায় আবার বন্ধ যমুনা সার কারখানা

গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছিল জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা। তবে চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার বিকেলে কারখানার বয়লারে ত্রুটি ধরা পড়ার পর উৎপাদন বন্ধ করা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণেই বয়লারে এ সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রয়েছে।

কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, গ্যাস সংকট কাটার পর সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আবার উৎপাদন শুরু হয়েছিল। দুই দিন চলার পর বুধবার বিকেলে বয়লারে সমস্যা দেখা দেয়।

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শুক্রবারের মধ্যে ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হলে কারখানা আবার উৎপাদনে ফিরবে।

পুরোদমে উৎপাদনে যেতে না পারলেও দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টন সার উৎপাদন করা হয়েছে।

যমুনা সার কারখানা দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বর্তমানে কার্যকর উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টনের মধ্যে নেমে এসেছে।

কারখানাটিতে গ্যাস ও যান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকার নজির রয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২৩ মাস উৎপাদন বন্ধ ছিল।

পরে উৎপাদন শুরু হলেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে আবার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হয়নি।

শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ পাওয়ার পর সোমবার গভীর রাতে উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু বয়লারের ত্রুটির কারণে মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেল।

যমুনা সার কারখানা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের তালিকাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে।

কারখানার কর্মকর্তাদের হিসাবে, স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ থাকলে এখানে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব। এতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা হয়।

অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও যন্ত্রপাতি সচল রাখতে গ্যাসের প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় শুধু গ্যাস বিল বাবদ মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে