দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপাচার্যের সাক্ষাৎ
সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য দ্বিতীয় সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি দেন। পাশাপাশি সমাবর্তন আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
কারা অংশ নেবেন, জানাবে বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে কোন কোন শিক্ষাবর্ষের গ্র্যাজুয়েটরা এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন, কতজন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করতে পারবেন এবং অনুষ্ঠান কোথায় অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
সমাবর্তন বক্তা কে থাকবেন এবং অংশগ্রহণের নিবন্ধনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার তথ্যও পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
এক দশক পর দ্বিতীয় সমাবর্তন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৫ বছর পর ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে ১৯৯৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী ৪ হাজার ৯৩২ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নিয়েছিলেন।
প্রথম সমাবর্তনের প্রায় এক দশক পর এবার দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এ আয়োজন তাই গুরুত্বপূর্ণ একটি একাডেমিক অনুষ্ঠান হিসেবে সামনে এসেছে।
দীর্ঘ সময় পর সমাবর্তনের আয়োজন হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ অনুষ্ঠান ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এবার ঠিক কোন ব্যাচ বা শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।