প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
জার্সিতে ৯০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য, শ্রমিকের ভাগে কত
ফুটবল ক্লাবের অফিসিয়াল জার্সি তৈরি করতে শ্রমিকদের ঘণ্টায় ১ পাউন্ডেরও কম মূল মজুরি দেওয়া হচ্ছে। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬। ০৩:১৪ পিএম
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬। ১২:৫৭ পিএম
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে প্রায়ই বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের অর্থবিত্ত নিয়ে সংবাদ হয়। এক ক্লাব ছেড়ে আরেক ক্লাবে খেলোয়াড় যাচ্ছেল বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে। আবার এমনও সংবাদ পাওয়া যায়, অমুক খেলোয়াড়ের জার্সি নিলামে এত টাকায় বিক্রি। অর্থাৎ ফুটবল ক্লাবগুলো মানেই যেন অর্থের ঝনঝনানি।
কিন্তু যে জার্সি পরে খেলোয়াড়রা খেলেন, বিশ্বজুড়ে তাদের পরিচিতি হয়; সেই জার্সি তৈরির শ্রমিকরা আসলে কয় টাকা মজুরি পায়, তা কয়জন জানে।
এনিয়ে সম্প্রতি বিবিসি স্পোর্টস এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় কিছু ফুটবল ক্লাবের অফিসিয়াল জার্সি তৈরি করতে শ্রমিকদের ঘণ্টায় ১ পাউন্ডেরও কম মূল মজুরি দেওয়া হচ্ছে।
বিবিসির অনুসন্ধানে অফিসিয়াল রেপ্লিকা জার্সির সরবরাহব্যবস্থা অনুসরণ করে কম্বোডিয়ার দুটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে কাজের পরিবেশকে শ্রমিকেরা “ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছেন।
ভক্তরা ক্রমবর্ধমান জার্সির দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করার পর এই সরবরাহব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শুরু করে বিবিসি। অনেক সমর্থকই এখন সস্তা নকল জার্সির দিকে ঝুঁকছেন।
বাওকার গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি ও ট্র্যাক্স অ্যাপারেল কারখানার ভেতর থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে; আর্সেনাল, সেল্টিক, লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের জার্সি সেখানে তৈরি হচ্ছে।
কারখানার শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, জীবিকা চালানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন লাইনের অংশ হিসেবে একজনকে দিনে ৭০০টি পর্যন্ত পোশাক তৈরির কাজে যুক্ত থাকতে হয়।
দুর্লভ কিছু সাক্ষাৎকারে, যেগুলো নথিপত্রের মাধ্যমে সমর্থিত এবং পরিচয় গোপন রেখে প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে শ্রমিকেরা আরও জানিয়েছেন; কারখানার ভেতরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ওঠে। এছাড়া উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ না হলে গালমন্দ ও চিৎকারের শিকার হতে হয়। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকারবিষয়ক নেটওয়ার্ক ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন বলেছে, এসব তথ্য “খুবই হতাশাজনক” একটি চিত্র তুলে ধরে। সংস্থাটির মুখপাত্র এমা ভগৎ বলেন, “বিশ্বের বহু পোশাকশ্রমিক প্রতিদিনই এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন।”
কম মজুরি ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার মতো একই ধরনের সমস্যা কম্বোডিয়ার পোশাকশিল্পের বিভিন্ন কারখানাতেও আগে উঠে এসেছে।
গত বছর প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণত ৮৫ পাউন্ড দামের একটি জার্সির মধ্যে ৮ পাউন্ড ৫০ পেন্স যায় কাপড়, সেলাই ও পরিবহনে। ৩৭ পাউন্ড ৪৫ পেন্স যায় খুচরা বিক্রেতার কাছে, ১৬ পাউন্ড ২৫ পেন্স নির্মাতার, ৯ পাউন্ড ৫০ পেন্স বিপণনে এবং ১৩ পাউন্ড ৬০ পেন্স ভ্যাট হিসেবে।
গত এক দশকে জার্সির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং শীর্ষ ক্লাবগুলোর সঙ্গে ব্যয়বহুল কিট চুক্তিও এই দাম বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
অ্যাডিডাসের নিজস্ব মালিকানায় এই দুই কারখানার কোনোটিই নেই। তবে দুটিই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সরবরাহকারী এবং অ্যাডিডাসের কর্মপরিবেশসংক্রান্ত মানদণ্ড মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্টটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ২০ দলের মধ্যে আটটিকে কিট সরবরাহ করে।
অ্যাডিডাস বলেছে, “২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা আমাদের সরবরাহব্যবস্থায় ন্যায্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে নানা ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।”
প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, “প্রতি বছর প্রায় ১,২০০ কারখানা অডিটের মাধ্যমে আমরা সরবরাহকারীদের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করি। প্রয়োজন হলে তাদের সঙ্গে কাজ করে সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন নিশ্চিত করি।”
উৎপাদন লাইনের জীবন
যে ক্লাব শপগুলোতে এসব জার্সি বিক্রি হবে, সেখান থেকে প্রায় ছয় হাজার মাইল দূরে বাওকার গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির ভেতরে একটি বৈঠক চলছে।
বিবিসি স্পোর্টের হাতে আসা একটি ছবিতে দেখা যায়, দেয়ালে অ্যাডিডাসের লোগোর নিচে ম্যানেকুইনে বেনফিকা, অ্যাস্টন ভিলা ও সেল্টিকের জার্সি পরানো রয়েছে।
নম পেন শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত কারখানাটিতে প্রায় ৩,৪০০ মানুষ কাজ করেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। প্রায় ১০ মাইল পূর্বে ট্র্যাক্স অ্যাপারেলে কাজ করেন আরও ৩,২০০ শ্রমিক।
থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে কাপড় আমদানি করার পর একজন দক্ষ দর্জি প্রথমে একটি নমুনা তৈরি করেন, যা অনুসরণ করে অন্য শ্রমিকেরা কাজ করেন। এরপর সেলাই, ইস্ত্রি ও প্যাকেজিংসহ জার্সি তৈরির বেশিরভাগ ধাপ এসব কারখানাতেই হয়।

সমর্থকদের সামনে জার্সির নকশা প্রকাশের কয়েক মাস আগেই শুরু হয়ে যায় এর উৎপাদন। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ
‘এই জার্সিগুলোতে কম্বোডিয়ার শ্রমিকদের ঘাম মিশে আছে’
শ্রমিকেরা সাধারণত সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে আট ঘণ্টা করে কাজ করেন। বিবিসির দেখা পাঁচটি বেতনস্লিপ অনুযায়ী, তাদের মাসিক মূল বেতন ২১০ থেকে ২২০ ডলার, যা প্রায় ১৫৮ থেকে ১৬৬ পাউন্ড। আর এই বেতন স্থানীয় ন্যূনতম মজুরি আইন মেনে দেওয়া হচ্ছে।
তিনটি বেতনস্লিপে দেখা যায়, ওভারটাইম ও বিভিন্ন ভাতা যোগ করলে মাসিক আয় প্রায় ৩০০ ডলার বা ২২৬ পাউন্ড পর্যন্ত হয়। যদিও এজন্য উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়।
বাওকারের এক শ্রমিক বলেন, “এই টাকায় চলা খুব কঠিন।” ভাড়া, খাবার ও ইউটিলিটি বিল দেওয়ার পর হাতে প্রায় কিছুই থাকে না বলেও জানান তিনি।
ট্র্যাক্সের আরেক শ্রমিক বলেন, “আমি চাই আন্তর্জাতিক ক্রেতারা জানুক, তারা যে একটি জার্সি কেনেন, তার দাম একজন শ্রমিকের দুই সপ্তাহের বেতনের চেয়েও বেশি।” তার ভাষায়, “এই প্রতিটি জার্সিতে কম্বোডিয়ার শ্রমিকদের ঘাম মিশে আছে।”
ট্র্যাক্স জানিয়েছে, এ বছর তাদের শ্রমিকদের গড় মাসিক আয় ৩০৫ থেকে ৩৪২ ডলার বা ২৩০ থেকে ২৫৮ পাউন্ডের মধ্যে।
অ্যাডিডাস বলেছে, তাদের কম্বোডিয়ার কিছু সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে গড় নিট বেতন অ্যানকার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জীবনধারণযোগ্য মজুরির মানদণ্ডের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি।
প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, শ্রমিকেরা “সাধারণত স্থানীয় ন্যূনতম মজুরির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি আয় করেন।”
বাওকার এনিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
‘একটা জার্সি ১২০ ডলারে বিক্রি হয়, ৬০০টার থেকে তারা কত আয় করে’
বাওকার কারখানার ভেতরে তোলা আরেকটি ছবিতে থার্মোমিটারে ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ আর্দ্রতা দেখা যায়।
ইস্ত্রি বিভাগে কাজ করা এক শ্রমিক বলেন, “এই তাপের চাপ সত্যিই আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে।”
দুই কারখানার শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, দলগতভাবে দিনে ৩০০ থেকে ৭০০টি পর্যন্ত পণ্য তৈরির লক্ষ্য পূরণের চাপ থাকে।
একজন শ্রমিক বলেন, “একটু ভাবুন, একটি জার্সি দোকানে ১২০ ডলার বা প্রায় ৯০ পাউন্ডে বিক্রি হয়। তাহলে ৬০০টি জার্সি থেকে তারা কত আয় করে? তারা বিপুল অর্থ আয় করে, কিন্তু শ্রমিকদের দেয় প্রায় কিছুই না।”
অন্য শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ না হলে গালমন্দ করা হয়।
বাওকারের আরেক শ্রমিক বলেন, “কোটা পূরণ করতে না পারলে তারা আমাদের বকাঝকা করে, চিৎকার করে এবং চাকরি ছেড়ে দিতে বলে।”
একই শ্রমিক জানান, উন্মুক্ত বৈদ্যুতিক তারে স্পর্শ লেগে তিনি দুবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বহুবার বিষয়টি জানিয়েছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয়বার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পরই তারা ব্যবস্থা নেয়।”
অ্যাডিডাস জানিয়েছে, দুই কারখানাতেই “তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা” রয়েছে, তাদের নীতিমালায় “কোনো ধরনের হয়রানি অনুমোদিত নয়”, এবং বাওকারের নথিতে “বিদ্যুৎসংক্রান্ত কোনো দুর্ঘটনা” পাওয়া যায়নি।
ট্র্যাক্স স্বীকার করেছে যে কখনো কখনো তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তবে তারা বলেছে শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং তাদের কাজের পদ্ধতি “উৎপাদন লক্ষ্য জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়।”
এই ধরনের উদ্বেগ কম্বোডিয়ার পোশাকশিল্পে ব্যাপক।
২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬৯ শতাংশ কারখানায় অতিরিক্ত তাপ নিয়ে সমস্যা রয়েছে এবং ৮৪ শতাংশে শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে ঘাটতি রয়েছে।
স্পোর্টসগুডস ইন্টলিজেন্সের মতে, বিশ্বে ফুটবল জার্সির বাজার বছরে প্রায় ৯০০ কোটি ডলার। এটি মূলত অফিসিয়াল জার্সির বাজারের তথ্য। এর বাইরে আনঅফিসিয়াল জার্সির বাজার আছে।

পোশাক উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র কান্দাল প্রদেশে অবস্থিত বাওকার গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ
কম্বোডিয়া থেকে ক্লাব শপে
ইংল্যান্ডে আগস্ট ব্যাংক হলিডে। প্রিমিয়ার লিগের দুই শীর্ষ দল অ্যাস্টন ভিলা ও আর্সেনাল মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভিলা পার্কে জড়ো হয়েছেন কয়েক দশ হাজার সমর্থক। তাদের অনেকের গায়েই কম্বোডিয়ায় তৈরি জার্সি।
আর্সেনালের সর্বশেষ হোম জার্সি মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে তারও কয়েক মাস আগে ট্র্যাক্স কারখানার ভেতরে সেই জার্সির ছবি বিবিসির কাছে পাঠানো হয়।
দুই ক্লাবের সমর্থকেরাই বলেছেন, অফিসিয়াল জার্সির দাম এখন অতিরিক্ত হয়ে গেছে। এক অ্যাস্টন ভিলা সমর্থক চ্যাম্পিয়নস লিগ ব্যাজসহ নিজের জার্সির জন্য ৯৫ পাউন্ড খরচ করেছেন।
তিনি বলেন, “সিজন টিকিট কিনলেন। এরপর তিনটা জার্সি অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ পাউন্ড। এটা হাস্যকর।”
এক আর্সেনাল সমর্থক বললেন, পুরো পরিবারের জন্য জার্সি কেনার খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, “এখন আমার ছোট বাচ্চা আছে, তাদের জন্যও কিট কিনছি। ফলে খরচ বাড়ছে। অফিসিয়াল কিট নিলে মোটেও সস্তা নয়।”
বিভিন্ন গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী অফিসিয়াল ফুটবল টিমওয়্যারের বাজার কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডের।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শ্রমিক অধিকার সংগঠন দ্য সলিডারিটি সেন্টারের ডেভ ওয়েলশ বলেন, “ফুটবল জার্সির ওপর যে পরিমাণ মূল্য বাড়িয়ে বিক্রি করা হয়, এত লাভজনক ব্র্যান্ড মার্কেট কল্পনা করাই কঠিন।”
তবে পুমা ও আমব্রোর সাবেক কিট ডিজাইনার রব ওয়ার্নার গত বছর বিবিসি স্পোর্টকে বলেছিলেন, জার্সির দামের পেছনের অর্থনীতি আরও জটিল।
তিনি বলেন, “লাভের বড় অংশ খুচরা বিক্রেতা পায়। কারণ দলটি কতটা সফল হবে তার ওপর তাদের বিক্রি অনেক নির্ভর করে। ফলে এটি এক ধরনের ঝুঁকি।”
তিনি আরও বলেন, “এর সঙ্গে কিট চুক্তির খরচ বাড়ার বিষয়ও যোগ করতে হবে। আর ব্র্যান্ডগুলো শীর্ষ ক্লাবগুলোকে যে বিপুল অর্থ দেয়, তার একটি অংশ তো তাদের তুলতেই হবে।”
অ্যাডিডাস প্রিমিয়ার লিগের ২০ দলের মধ্যে আটটিকে কিট সরবরাহ করে। এর পাশাপাশি উত্তর আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড জাতীয় দলকেও কিট দেয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট নাইকি তিনটি প্রিমিয়ার লিগ দল ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলকে কিট সরবরাহ করে।
নাইকির ফুটবল জার্সি থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তৈরি হয়েছে, আর সাম্প্রতিক সময়ে জর্জিয়াতেও উৎপাদন হচ্ছে।
নাইকি দেশভিত্তিক বেতনের তথ্য প্রকাশ করে না। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের প্রধান সরবরাহকারীদের ৭১ শতাংশ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জীবনধারণযোগ্য মজুরি মানদণ্ডের সমান বা তার বেশি বেতন দেয়।
প্রিমিয়ার লিগের তিনটি দলকে কিট সরবরাহকারী হামেলও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
‘খেলায় সম্মানই হওয়া উচিত ন্যূনতম মানদণ্ড’
গত এক দশকে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রিমিয়ার লিগের রেপ্লিকা জার্সির গড় দাম ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই দাম বৃদ্ধিই ১২ পাউন্ডের মতো কম দামে বিক্রি হওয়া নকল জার্সির চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
এসব নকল জার্সির বড় একটি অংশ আসে চীন থেকে। সমর্থকদের নকল জার্সি না কিনতে সতর্ক করা হয়েছে।
পুলিশ বলেছে, এসব পণ্য “নিরাপত্তা মানদণ্ড বা শ্রমিকদের অধিকার বিবেচনা না করেই তৈরি হতে পারে।”
ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডসও সতর্ক করে বলেছে, “নকল পণ্যের ব্যবসায়ীদের কোনো নৈতিকতা নেই, কোনো মানদণ্ডও নেই।”
প্রিমিয়ার লিগ আশা করে, ক্লাবগুলো তাদের কিট প্রস্তুতকারক এবং সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে যথাযথ যাচাই করবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রচারসংগঠন লেবার বিহাইন্ড দ্য লেবেলের আনা ব্রায়ার বলেন, “খেলায় সম্মানই হওয়া উচিত ন্যূনতম মানদণ্ড।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রমিকদের সম্মানের সঙ্গে আচরণ করা না হলে কোনো ক্লাব তাদের নাম সেই জার্সিতে দেবে না। ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে এমন একটি শক্ত বার্তা দেওয়া দরকার।”
