প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ এএম
বাংলাবাজার পত্রিকা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬। ০২:২৮ পিএম
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬। ১৫:২০ পিএম
বিশ্বের ফ্যাশন জগতে বেশ কিছু নাম আজ প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষের কাছেই মোটামুটি পরিচিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রিশ্চিয়ান দিওর, শ্যানেল, লুঁই ভ্যুঁতো, গুচ্চি, প্রাদা, টিফ্যানি এণ্ড কো., ফেণ্ডি সহ আরও বেশ কিছু নাম। আর এই সকল নামের পেছনে রয়েছে একটি সমন্বিত প্রতিষ্ঠান- এলভিএমএইচ।
সাহসী সূচনা
১৯৮৪ সালে বার্নার্ড আর্নল্ট নামের একজন ব্যবসায়ী জগতে এলেন— ক্রিশ্চিয়ান ডিয়র নামের ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি হবে। ডিয়রের মূল প্রতিষ্ঠান 'ব্যুজাক' দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় ফরাসি সরকার প্যারিসের ক্রিশ্চিয়ান ডিয়রসহ উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত আরও বেশ কিছু পোশাক প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন মালিকানা খুঁজছিল। সেই সময়ের ৩৫ বছর বয়সী যুবক আর্নল্ট নিজের পরিবার থেকে ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ফরাসি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিয়ে 'ব্যুজাক' ক্রয় করেন—উদ্দেশ্য উক্ত ডিয়র ব্র্যান্ডগুলোর মালিকানা লাভ করা।
১৯৮৯ সালে, অর্থাৎ ব্যুজাক ক্রয়ের মোটামুটি দুই বছরের মধ্যেই তিনি বছরে ১৫ মিলিয়ন ডলার আয়ের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২০ গুণ লাভজনক ও বৃহত্তর করে তুলতে সক্ষম হন। আর এটা করতে গিয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রতিষ্ঠানকে কিছুটা নেতিবাচক দিকে ঠেলে দেন, ৯,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেন এবং এর ডিসপোজেবল ডায়াপার বিভাগসহ টেক্সটাইল ব্যবসায়ের বেশিরভাগ অংশ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি করে দেন। তবে এর পেছনে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল 'লুই ভিঁতো মোয়েত হেননেসি' (এলভিএমএইচ) এর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া। প্রতিষ্ঠানটি তখনই ছিল বেশ কিছু ফ্যাশন হাউস ও স্পিরিট প্রস্তুতকারক সহ ৭১টি প্রতিষ্ঠানের একটি সংঘ। ১৯৯০ সালে তিনি এর মালিকানা লাভের চেষ্টা শুরু করেন।

বার্নার্ড আর্নল্ট বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিলাসবহুল ব্র্যান্ড সমন্বিত প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ এর চেয়ারম্যান এবং সিইও ।
এরপর থেকে আর্নল্ট কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করে উক্ত প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা সব ৭টি বিলাসবহুল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আসেন, এবং ৭১ বছর বয়সে নিজেকে পৌঁছে দেন ফোর্বস-এ প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের তালিকায়।
বর্তমানে এলভিএমএইচ বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান বিলাসবহুল পণ্যের সমন্বিত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের সফলতা অন্যদেরও উৎসাহিত করছে এরকম কিছু করার জন্য। ২০১৮ সালে CNBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর্নল্ট বলেন,
"৯০ এর দশকে আমি বিলাসবহুল পণ্যের একটি সমন্বিত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা ভাবি। আর এজন্য আমাকে অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। আমার মনে আছে, সকলে আমাকে বলেছিল, 'এতগুলো ব্র্যান্ডকে একত্র করার কোনো মানে হয় না'। কিন্তু আমি সফল হই। আর বিগত ১০ বছর যাবৎ আমাদের সকল প্রতিদ্বন্দ্বীই এই কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য পুরস্কারস্বরূপ। আমার মনে হয় না তারা সফল হতে পেরেছে, কিন্তু তারা চেষ্টা করছে।"
লুই ভুঁতোর ইতিকথা
লুই ভুঁতোর মহাকাব্যিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল মূলত বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ভ্রমণকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও আধুনিক ডিজাইনের ভ্রমণোপযোগী ব্যাগ তৈরির মাধ্যমে। এই কাজে তিনি ব্যবহার করতেন পশুর চামড়া ও মানসম্মত কাপড়ের মতো বিশ্বমানের সব উপকরণ।
১৮৩৫ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে লুই ভুঁতো নিজের গ্রাম ছেড়ে প্যারিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রায় এক বছর ধরে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অবশেষে তিনি কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ননগরী প্যারিসে পৌঁছান। সেখানে এসে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একজন প্যাকার ও ট্রাঙ্ক নির্মাতার কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দেন তিনি। একজন কাঠমিস্ত্রির ছেলে হওয়ায় কাঠের সূক্ষ্ম নকশা তৈরির কাজে তিনি আগে থেকেই পারদর্শী ছিলেন। ফলে সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নান্দনিক নকশার ট্রাঙ্ক তৈরি করে মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানেই নিজেকে একজন অসাধারণ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলেন।
শিক্ষানবিশ থাকাকালীনই অভিজাত ও বিত্তশালী নারীদের বাসভবনে গিয়ে তাদের দীর্ঘ ভ্রমণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গোছানো ও প্যাকিং করার দায়িত্ব পেতেন তিনি। এই কাজের মাধ্যমেই এ বিষয়ে গভীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তার এই বিশ্বস্ত গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন টুইলারিস প্যালেসের সম্রাজ্ঞী ইউজিন ও তাঁর সহচরীরা।

লুই ভুঁতোর একটি আইকনিক হেডকোয়ার্টার্স ও স্টোর
১৮৫৪ সালে 'রু ন্যুভ দ্য ক্যাপুচিন্স'-এর প্লেস ভেন্দোম এলাকার বিখ্যাত কুতুর হাউসগুলোর খুব কাছেই তিনি নিজের স্বাধীন ব্যবসা শুরু করেন। কাঠ, সিল্ক ও স্যাটিনের কাজে গভীর অভিজ্ঞতা থাকায় বিখ্যাত কুতুর হাউসের মালিকেরা নিজেদের তৈরি পোশাক ও সামগ্রী সুরক্ষিতভাবে প্যাকিংয়ের জন্য প্রায়শই তাঁকে নিয়োগ দিতেন। ঐতিহ্যবাহী ডোম বা গম্বুজ আকৃতির ট্রাঙ্কের বদলে ভুঁতো তৈরি করেন উপরিভাগে চ্যাপ্টা ডিজাইনের ট্রাঙ্ক। এগুলো পরিবহনে যেমন ছিল সহজ, তেমনি একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে রাখাও যেত অনায়াসে। এই উদ্ভাবনী নকশার ট্রাঙ্কই তাকে বিশ্বজুড়ে 'মাস্টার লাগেজ-মেকার' হিসেবে এক অনন্য খ্যাতি এনে দেয়। এরপর তিনি 'ত্রিয়ানন ক্যানভাস' নামের বিশেষ কাপড় দিয়ে ট্রাঙ্কগুলো আবৃত করা শুরু করেন—যা যেমন ছিল আভিজাত্যে ভরা, তেমনি ছিল সম্পূর্ণ ওয়াটারপ্রুফ বা পানিরোধী।
উচ্চমানের উপাদান, নিখুঁত অভ্যন্তরীণ গঠন এবং চমৎকার নির্মাণশৈলীর কারণে ভুঁতোর তৈরি এই 'ডিলাক্স ট্রাঙ্ক' তৎকালীন যেকোনো সাধারণ লাগেজের তুলনায় ছিল এককথায় অতুলনীয়। এরপর থেকে তার ব্যবসার সফলতা কেবলই ঊর্ধ্বমুখী গতি পায়। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের সংস্কৃতিতে আসা দ্রুত পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের সক্ষমতাই ছিল লুই ভুঁতোর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পরবর্তী সময়ে, ১৯৭৭ সালে লুই ভুঁতোর প্রপৌত্রী ওডির স্বামী হেনরি রিকামিয়ার এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দূরদর্শী, বিনয়ী ও স্বকীয় ব্যবসানীতি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়।
মুট হ্যানেসির ইতিকথা
ক্রিশ্চিয়ান ডিয়র পারফিউম, ডম পেরিনিম শ্যাম্পেন ও হ্যানেসি এস.এ. কনিয়াক-এর মতো বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত 'মুট হ্যানেসি' ফান্সের একটি অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত ও সফল এন্টারপ্রাইজ। আড়াইশ বছরেরও বেশি সময় আগে আরম্ভ হওয়া একজন ফরাসি মদ বিক্রেতার ছোট এই ব্যবসা আজ ওয়াইন, স্পিরিট, কসমেটিকস ও সুগন্ধি প্রস্তুতকারক হিসেবে বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থান অধিকার করে আছে।
পরিবেশকদের ওপর নিজের তৈরি পণ্য বিক্রি করার প্রক্রিয়ায় হতাশ হয়ে জঁ মুট ১৯৭৩ সালে 'মুট এ কোম্পানি' প্রতিষ্ঠা করেন। পুত্র জঁ-লুইয়ের সাথে কাজ করে মুট খুব দ্রুত ক্রেতাদের সাথে এক চমৎকার সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন আর্থ-সামাজিকভাবে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব।

ক্রিশ্চিয়ান ডিয়র-এর একটি শোরুম
১৭৫০ সালে পিতাপুত্র তাদের পণ্যের নিয়মিত ক্রেতা 'মাদাম দু পম্পাদর'-এর সাথে যৌথভাবে ব্যবসা শুরু করেন। একই বছর থেকেই মুট জার্মানি, স্পেন, ইস্টার্ন ইউরোপ ও আমেরিকাতে শ্যাম্পেন বিক্রি করতে শুরু করেন। ১৭৯২ সালে জঁ মুট মারা গেলে তার নাতি জঁ-রেমি ব্যবসার হাল ধরেন এবং তার হাতেই প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী সাফল্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়। নেপোলিয়নের সাথে বন্ধুত্ব তার ব্যবসাকে দীর্ঘদিন ধরে একটি সুরক্ষিত ও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ১৮৩২ সালে জঁ-রেমি অবসর গ্রহণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বর্তায় তার পুত্র ভিক্টর ও জামাতা পিয়ের-গ্যাব্রিয়েল শাঁদ দ্য ব্রিয়ালিসের ওপর। এই নতুন অংশীদার ব্যবসায় নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় 'মুট এ শাঁদ'।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ব্যবসায় কিছুটা বাধা সৃষ্টি হলেও প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সংকট কাটিয়ে ওঠে এবং আরও সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। ১৯৫০-এর দশকে ফান্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ওয়াইন ক্রেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পল রুইট-জাঁ দ্য ভন, যার যোগদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সফলতা আরও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
অনেক চড়াই-উতরাই পার করার পরে 'মুট এ শাঁদ' ১৯৭১ সালে ফান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম কনিয়াক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'জ্যাস হ্যানেসি এ কো কোম্পপানি'-র সাথে যৌথ ব্যবসায় যুক্ত হয়। নতুন এই প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় 'মুট এ হ্যানেসি'। এই নতুন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থান যথেষ্ট প্রসারিত ছিল, এবং এর ফলে বিদেশের বাজারের চাহিদা মেটাতেও তারা সম্পূর্ণ সফল হয়। মুট-হ্যানেসির সংযুক্ত হওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল ১৯২৯ সালের একটি প্রাদেশিক আইন, যেখানে শ্যাম্পেন উৎপাদনের জন্য ভূমির পরিমাণ ৩৮,০০০ হেক্টরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ট্যানি এ কো.-এর একটি শোরুম
১৯৭৩ সালে মুট-হ্যানেসি, ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা ভ্যালিতে 'ডোম শ্যান্ড' নামের ওয়াইনারি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও দৃঢ় করে তোলে। এই সাফল্যের মূল কৃতিত্ব ছিল অ্যালান শোলিয়ারের, যিনি ছিলেন দে ভন-এর একজন শিষ্য। তার নেতৃত্বে মুট-হ্যানেসি একটি রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি থেকে বেশ খানিকটা বেরিয়ে আগ্রাসী প্রচারের নীতিতে ব্যবসা পরিচালনা করতে শুরু করে।
১৯৮৭ সালের মার্জার বা সংযুক্তি
১৯৮৭ সালের জুন মাসে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি মার্জার বা বাণিজ্যিক সংযুক্তিকরণের চুক্তি স্বাক্ষর হয়— যার এক পক্ষে ছিল 'লুই ভুঁতো' এবং অন্য পক্ষে ছিল 'মুট-হ্যানেসি'। এই চুক্তির ফলে একদিকে লুই ভুঁতো যেমন বিলাসবহুল পণ্যের ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়াতে সক্ষম হয়, অন্যদিকে মুট-হ্যানেসি অন্য কোনো মালিকের কাছে বিক্রি হওয়া থেকে রক্ষা পায়। নিজ নিজ ব্যবস্থাপনা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে উভয় প্রতিষ্ঠানই একে অপরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে প্রতিপালন করে। মুট-হ্যানেসি, লুই ভুঁতোর চেয়ে আয় এবং ৭১টি বড় প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে এর চেয়ারম্যান অ্যালান শোলিয়ারকেই সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান 'লুই ভুঁতো মুট হ্যানেসি' (এলভিএমএইচ) এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়, এবং রিকামিয়ার প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বলাভ করেন।
এই সংমিশ্রণ শক্তিতে পরিণত হয়। কারণ লুই ভুঁতোর ব্যবস্থাপকদের মতে, মুট-হ্যানেসি তাদের প্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করে নিতে চাইছিল। রিকামিয়ার ও ভুঁতো পরিবারের ৬০% শেয়ার, সংযুক্ত এলভিএমএইচ-এ মাত্র ১৯% শেয়ারের সমর্থক ছিল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা নিয়ে মাসের পর মাস ধরে চলতে থাকা অসন্তোষের একপর্যায়ে রিকামিয়ার, তরুণ ভবন নির্মাতা ও অর্থনৈতিক কৌশলী বার্নার্ড আর্নল্টকে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয়ের আহ্বান জানান। যদিও নিজের অবস্থানকে শক্ত করার জন্য রিকামিয়ার তাকে আহ্বান জানান, কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আর্নল্টের নিজস্ব লক্ষ্য ছিল। ফরাসি বিনিয়োগকারী ব্যাংক 'লাগার্দার' ও মদ ব্যবসায়ের অন্যতম ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান 'গিনেস'-এর সহায়তায় আর্নল্ট নিজের জন্য এলভিএমএইচ -এর ৪৫% শেয়ার কিনে নেন।
শোলিয়ার পদত্যাগ করার পর, আর্নল্ট ও রিকামিয়ারের মধ্যে ১৮ মাসব্যাপী আইনি যুদ্ধ চলতে থাকে। লুই ভুঁতোর সফলতার মাধ্যমে LVMH-এর আয়ের ৩২%-এর উপর তা থাকা সত্ত্বেও আর্নল্টের বিরুদ্ধে রিকামিয়ার এই প্রতিষ্ঠানকে নিজের মালিকানা এনে দিতে ব্যর্থ হন। তাছাড়া, আর্নল্টের পক্ষে মুট-হ্যানেসি পরিবারও ছিল। আদালতের রায় আর্নল্টের পক্ষে গেলে রিকামিয়ার পদত্যাগ করেন। এরপর আর্নল্ট, রিকামিয়ারের বিশ্বস্ত শীর্ষস্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করে, পণ্ডিত ব্যক্তিত্বদের একত্রিত করে নিজের বিলাসবহুল সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে শুরু করেন। আর এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের বিশ্ব ব্যবসায়ের বিলাসবহুল পণ্যের সমন্বিত প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচ।
