Logo
Logo
×

লাইফস্কেপ ।  ফ্যাশন

প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ সুপারমডেল: তিন দশক ধরে ফ্যাশন দুনিয়ায় টাইসন জাদু

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬। ০৪:২১ পিএম

আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬। ১৩:২৮ পিএম

প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ সুপারমডেল: তিন দশক ধরে ফ্যাশন দুনিয়ায় টাইসন জাদু

নব্বইয়ের দশকে ফ্যাশন সাম্রাজ্যে যখন নারী সুপারমডেলদের রাজত্ব, ঠিক তখনই পুরুষ মডেলিংকে মূলধারার পপ-কালচারে রূপান্তর করেছিলেন ব্রঙ্কসের এক তরুণ।

একটি পার্কের ঘটনা

১৯৯০-এর দশকের প্রেক্ষাপট। ফ্যাশন দুনিয়ায় তখন নাওমি ক্যাম্পবেল, সিন্ডি ক্রফোর্ড কিংবা লিন্ডা ইভাঞ্জেলিস্টাদের মতো নারী সুপারমডেলদের অভূতপূর্ব তারকা-খ্যাতি ও দাপট। পুরুষ মডেলরা তখনো নেহাতই পোশাক প্রদর্শনের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ অনুষঙ্গ। সেই চেনা সমীকরণ এক ঝটকায় বদলে দিয়েছিলেন একজন মানুষ টাইসন বেকফোর্ড।

নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে বেড়ে ওঠা এই মার্কিন তরুণের ফ্যাশন দুনিয়ায় আগমন যেন কোনো সিনেমার দৃশ্যপট! ১৯৯২ সালে নিউ ইয়র্কের ওয়াশিংটন স্কোয়ার পার্কে অলস হেঁটে যাওয়ার সময় ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘দ্য সোর্স’-এর প্রতিনিধি এরিক লরেন কাউন্সেলের নজরে পড়েন তিনি। সেখান থেকেই মডেলিং জগতে তাঁর ঐতিহাসিক পদার্পণ।

মাত্র এক বছরের মধ্যে তাঁর ক্যারিয়ার এমন এক অবিশ্বাস্য বাঁক নেয়, যা তাঁকে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দাঁড় করায়।

টাইসন বেকফোর্ড— আধুনিক পুরুষ ফ্যাশনের এক স্বতন্ত্র মুখ। আলোকচিত্রী: অলিভার হ্যাডলি পিয়ার্স   

ঐতিহাসিক মাইলফলক

১৯৯৩ সালে ফ্যাশন জায়ান্ট ‘রালফ লরেন পোলো’-র সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তিতে আবদ্ধ হন টাইসন বেকফোর্ড। রালফ লরেনের নিজস্ব আর্কাইভ অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে বেকফোর্ড ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ সুপারমডেল হিসেবে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক অবস্থান তৈরি করেন।

রালফ লরেন থেকে বিশ্বমঞ্চে ‘সুপারমডেল’ তকমা

পোলো-র বিজ্ঞাপনে টাইসনের উপস্থিতি পুরুষ ফ্যাশনের সম্পূর্ণ নতুন এক ছবি তৈরি করেছিল, আত্মবিশ্বাসী, ক্রীড়াবিদসুলভ, পরিশীলিত এবং একই সাথে আমেরিকান জীবনধারার অকৃত্রিম প্রতীক।

ব্রিটিশ ভোগ-এর মতে, ১৯৯০-এর দশকে রালফ লরেন পোলো-র মূল মুখ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর টাইসন বেকফোর্ড সফলভাবে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বাইরে বিনোদন জগতেও ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।

তবে শুধু রালফ লরেনেই তিনি থেমে থাকেননি। দ্রুতই তাঁর পদচারণা ছড়িয়ে পড়ে গুচি, টমি হিলফিগার, এবং ক্যালভিন ক্লেইন এর মতো জায়ান্ট ব্র্যান্ডে। দাঁড়িয়েছেন কিংবদন্তি ফ্যাশন আলোকচিত্রী হার্ব রিটসের ক্যামেরার সামনেও।

বিজ্ঞাপন, ম্যাগাজিন প্রচ্ছদ, রানওয়ে থেকে সম্পাদকীয়—সবখানেই ছিল তার স্থান। বর্তমানে বিখ্যাত তাকে ফ্যাশন জগতের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘লেজেন্ডস’ শ্রেণিতে রেখেছে।

১৯৯০-এর দশকের রালফ লরেন পোলো স্পোর্ট বিজ্ঞাপনে ঐতিহাসিক পোজে টাইসন বেকফোর্ড। আলোকচিত্রী: ব্রুস ওয়েবার

জনপ্রিয় সংস্কৃতির রূপকার

টাইসন বেকফোর্ডের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব ছিল তিনি নিজেকে কেবল ক্যাটওয়াক বা ফটোশুটের ফ্রেমে বন্দি রাখেননি; তিনি হয়ে উঠেছিলেন পপ-কালচারের ব্র্যান্ড আইকন।

টেলিভিশন উপস্থাপনা, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে হলিউডের রূপালী পর্দায় ছিল তাঁর সাবলীল উপস্থিতি। ‘জুল্যান্ডার’, ‘বাইকার বয়েজ’, ‘অ্যাডিক্টেড’ এবং ‘ইনটু দ্য ব্লু’-এর মতো আলোচিত চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। পরবর্তীতে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘মেক মি আ সুপারমডেল’-এ উপস্থাপক হিসেবেও তিনি কাজ করেন।

ভোগ ম্যাগাজিনের মতে, নব্বইয়ের দশকে টাইসন বেকফোর্ড, মার্কাস শেঙ্কেনবার্গ, মার্ক ভ্যান্ডারলু এবং টনি ওয়ার্ডের মতো মডেলেই ফ্যাশনের চারদেওয়াল ডিঙিয়ে জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।

মডেল: টাইসন বেকফোর্ড। আলোকচিত্রী : কাহ পুন

তিন দশক পরও সমান ভাস্বর

তিন দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, অথচ টাইসন বেকফোর্ডের জাদু আজও সমান সক্রিয়। ২০২৫ সালেও ভোগ ও জিকিউ-এর এডিটোরিয়ালে দেখা গেছে তাঁকে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও রালফ লরেনের পুরুষদের ফ্যাশন শোতে রানওয়ে মাতিয়েছেন তিনি।

এটাই হয়তো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক, তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট দশকের মডেল হয়ে আটকে থাকেননি।

ডি স্কোয়ার্ড২ এর রানওয়েতে অল-ব্ল্যাক লেদার লুকে সুপারমডেল টাইসন বেকফোর্ড । ছবি : ভোগ রানওয়ে

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে