প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৯ এএম
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে আরব নেতা মনসুর আব্বাসের ভূমিকা ও সরকার গঠনে সম্ভাব্য জোটের সমীকরণের প্রতীকী চিত্র। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ
ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে চলছে তুমুল প্রচারণা। আর এই প্রচারকে যারা হালকাভাবে দেখছেন, তাদের মনে হতেই পারে; দেশটির ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় হুমকি বুঝি এক সময়ের দন্তচিকিৎসক, বর্তমানে রাজনীতিবিদ মনসুর আব্বাস।
কয়েক মাস ধরে ইসলামপন্থী দল ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আমের প্রধান আব্বাস অনিচ্ছাকৃতভাবেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন।
নেতানিয়াহু এসব প্রচারে ইহুদি ভোটারদের সতর্ক করছেন; তিনি ক্ষমতা হারালে পরবর্তী সরকারের প্রকৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে উঠবেন আব্বাস। তাকে ইসরায়েলের ভেতরের একটি হুমকি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি বহু ডানপন্থী ইসরায়েলির সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চালিকাশক্তি হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।
কিন্তু বাস্তবে আব্বাস যে বিষয়গুলোকে নিজের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন, সেগুলোর সঙ্গে পশ্চিম তীর বা গাজার সম্পর্ক খুবই কম। বরং তার মূল মনোযোগ ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের নিয়ে, যারা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ এবং সহিংস অপরাধ ও বৈষম্যমূলক আবাসন নীতির মতো সমস্যায় ভুগছেন।
নেতানিয়াহুর লাগাতার আক্রমণকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে একটি বিষয়। আর সেটি হলো, আব্বাস শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ বা সরকার গঠনের নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠতে পারেন। এর আগেও তিনি এমন ভূমিকা পালন করেছেন।
ইসরায়েলের বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী নেতারা আব্বাসের সমর্থন না নিলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মতো বড় জোট গঠন তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। এই কারণে আব্বাসকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী আরব রাজনীতিবিদদের একজন বলা হচ্ছে।
আরও বিস্ময়কর কারণ হলো, রা’আম একটি সামাজিকভাবে রক্ষণশীল দল। ১৯৯৬ সালে ইসরায়েলের ইসলামিক মুভমেন্টের একটি শাখা দলটি প্রতিষ্ঠা করে। সংগঠনটির লক্ষ্য মুসলিম পরিচয়কে শক্তিশালী করে ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন।
ফলে উদারপন্থী দলগুলোর সঙ্গে রা’আমের সম্ভাব্য জোট একধরনের অস্বাভাবিক রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস বলেন, তার সবচেয়ে বড় প্রেরণা শুধু যাকে তিনি “বর্ণবাদী, ফ্যাসিবাদী সরকার” বলেন, তাকে পরাজিত করা নয়। বরং তার লক্ষ্য এমন একটি সরকার গঠন করা, যেখানে আরব নাগরিকেরা “অংশীদার হবে, যেখানে আমাদের কণ্ঠ ও আমাদের প্রভাব থাকবে।”
উত্তর ইসরায়েলের বেদুইন শহর তুবা-জানগারিয়ায় কয়েকশ ভোটারের সমাবেশে তিনি বলেন, “ক্ষমতাবানদের টেবিলে আমরা এতিম হয়ে থাকব না।” সেখানে তিনি আরব ও ইহুদিদের মধ্যে অংশীদারত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
কেউ কেউ তাকে দেশের সবচেয়ে ধূর্ত রাজনীতিবিদ বলেন
২০২১ সালে প্রথম বড় পরিসরে আলোচনায় আসেন আব্বাস। সে সময় তিনি নেতানিয়াহুর নতুন সরকারে যোগ দেওয়ার জন্য তার সঙ্গে আলোচনা করেন। এতে এক ইসলামপন্থী দলের জন্য ঐতিহাসিক একটি মাইলফলকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কারণ কার্যত নেতানিয়াহুর অনুমোদন নিয়েই দলটি সরকারে ঢুকতে পারত।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আব্বাস নেতানিয়াহুর বিরোধীদের সঙ্গে জোট বেঁধে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন। পরের বছর নেতানিয়াহু আবার প্রধানমন্ত্রীর পদ ফিরে পান এবং ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ডানপন্থী সরকার গঠন করেন। এরপর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
ওই হামলার পর অনেক ইসরায়েলি সব ফিলিস্তিনিকে, এমনকি ইসরায়েলের আরব নাগরিকদেরও সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেন। ৫২ বছর বয়সী আব্বাস এর জবাবে ইসরায়েলি ইহুদিদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা আরও বাড়ান। ৭ অক্টোবরের হামলার দিনই তিনি ওই হামলার নিন্দা জানান।
গাজা সীমান্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ইসরায়েলিদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করতেও তিনি সহায়তা করেন। তিনি বারবার হামাসের নিন্দা করে বলেছেন, সহিংসতার ব্যবহার শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদেরই ক্ষতি করেছে। তারপরও ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে সব দিক থেকেই আক্রমণের মুখে রয়েছেন আব্বাস।
নেতানিয়াহু এবং তার মিত্ররা তাকে সন্ত্রাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল, এমনকি তার চেয়েও খারাপ কিছু হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
অন্যদিকে একসময় আব্বাসকে সাহসী পথপ্রদর্শক বলে প্রশংসা করা জায়নবাদী বিরোধী নেতারাও এখন প্রকাশ্যে তার থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন। ডানপন্থী ভোটারদের আকৃষ্ট করার প্রতিযোগিতায় তারা এমন অবস্থান নিয়েছেন।
আর অন্য আরব দলগুলোর নেতারা ইসরায়েলের সব সরকারকেই বাইরে থেকে সমালোচনা করার তুলনামূলক সহজ পথ বেছে নেয়। তারা কোনো সরকারে যোগ দেয় না। তারা প্রায় আব্বাসকে ‘বিক্রি হয়ে যাওয়া’ রাজনীতিবিদ বলে আখ্যা দেন।
তবু আব্বাস নিরুৎসাহিত নন।
তুবা-জানগারিয়ার সমাবেশে সন্ধ্যার সময় শত শত মুসলিম পুরুষ সাদা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে তার বক্তব্য শুনছিলেন। ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা আব্বাস নেতৃত্ব নিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “একজন নেতার নিজের বেছে নেওয়া পথে আস্থা থাকতে হবে।” কয়েক দিন পর নাজারেতে এক সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে সাহসী রাজনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, মধ্য-বামপন্থী আইনপ্রণেতা এবং পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোইৎজ রা’আমের প্রার্থী তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকবেন। মূলধারার আরব ও জায়নবাদী ইহুদি রাজনীতিবিদদের মধ্যে এ ধরনের জোট আগে দেখা যায়নি।
সেগালোইৎজকে পাশে নিয়ে হিব্রু ভাষায় আব্বাস বলেন, “পরিবর্তন আনতে হলে অন্য মানুষটিকে শত্রু হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে দেখতে হবে।”
‘জ্বলন্ত সমস্যা’
গ্যালিলি অঞ্চলের মাঘার শহরে জন্ম আব্বাসের। সেখানে দ্রুজ, খ্রিস্টান ও মুসলিম; তিন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। রাজনীতিতে আসার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না।
তার বাবা ছিলেন মুদি দোকানি এবং একই সঙ্গে ‘মুসলিহ’। অর্থাৎ স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় যাকে মানুষ শান্তি-প্রতিষ্ঠাকারী বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ডাকতেন।
আব্বাস বলেন, স্কুলে পড়ার সময়ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ হলে তাকে প্রায়ই মীমাংসা করতে বলা হতো।
বহু বছর পর তিনি যখন দন্তচিকিৎসক, তখন তার নিজ শহরে দ্রুজ ও খ্রিস্টানদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। আব্বাস এক মাস নিজের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রেখে সমঝোতার মধ্যস্থতা করেন। শেষ পর্যন্ত শান্তি ফিরে আসে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করা হয়।
মানুষের জন্য আরও কিছু করতে চেয়ে আব্বাসের মনে হয়, একমাত্র পথ হলো “রাষ্ট্রের ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার করা।”
২০১৯ সালে নেসেটে প্রবেশের পর থেকে বিবাহিত ও তিন সন্তানের বাবা আব্বাস ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের যেসব সমস্যাকে “জ্বলন্ত সমস্যা” বলেন, সেগুলোর ওপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আরব অধ্যুষিত এলাকায় ব্যাপক সহিংস অপরাধ ও চাঁদাবাজি।
তুবা-জানগারিয়া থেকে ফেরার পথে আব্বাস বলেন, এসব সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা তাকে নিজেকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। সংগঠিত অপরাধী চক্রের পাশাপাশি আরব, ইহুদি এবং পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকেও তিনি সহিংসতার হুমকি পেয়েছেন।
জাতীয় পর্যায়ে আব্বাস অবশ্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন ইহুদি নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার প্রচেষ্টার কারণে। ২০২১ সালের মে মাসে ইসরায়েলে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লে তিনি লদ শহরের একটি পুড়ে যাওয়া সিনাগগ পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন শহরটির ডানপন্থী ইহুদি মেয়র। আব্বাস সিনাগগটি পুনর্নির্মাণে সহায়তার প্রস্তাব দেন ও সহিংসতার নিন্দা জানান। এর জন্য কিছু আরব তার পদত্যাগও দাবি করেন।
তাদের বক্তব্য ছিল, তখন ইসরায়েলি পুলিশ আরব নাগরিকদের ব্যাপকভাবে আটক করছিল, অথচ আব্বাস অন্যদিকে মনোযোগ দিচ্ছিলেন। প্রভাবশালী আরব সাংবাদিক মোহাম্মদ মাগাদলি বলেন, “তখন এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।”
তিনি বলেন, “ইসলামিক মুভমেন্টের সবচেয়ে বড় নেতাদের একজন আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘তুমি বলতে পারো, মনসুর আব্বাস আমাদের কাছে শেষ।’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত আব্বাস তাদের বোঝাতে সক্ষম হন যে, সেটিই সঠিক কাজ ছিল।”
যৌথ ভবিষ্যৎ
২০২১ সালে নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে রা’আমের যোগ দেওয়া ছিল একটি ঐতিহাসিক মোড়। আরব দলগুলো সাধারণত সরকারের বাইরে থেকেই ইসরায়েলি নীতির সমালোচনা ও প্রতিবাদ করত। আব্বাসের যুক্তি, বড় অর্জন পেতে হলে ক্ষমতার ভেতরে থাকতে হবে। এর ফলে আরব নাগরিকদের অপছন্দের কোনো সরকারি নীতির দায়ও নিতে হলে তিনি বলেন, “আমরা সেই মূল্য দিতে প্রস্তুত।”
তবে কিছু আরব নাগরিকের কাছে মনে হচ্ছে, আব্বাস ইতিমধ্যেই খুব বেশি মূল্য দিচ্ছেন। পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে আব্বাস খুব কম কথা বলেন।
কারণ ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা কতটা অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সে বিষয়ে তিনি সতর্ক।
আগস্টে একটি দলীয় সম্মেলনে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থনের কথা তিনি সংক্ষেপে উল্লেখ করলে কয়েকজন বিরোধী নেতা; যারা ভবিষ্যতে তার সম্ভাব্য জোটসঙ্গী হতে পারেন, তীব্র সমালোচনা করেন।
ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের মধ্যেও প্রশ্ন আছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে যখন কয়েক দশক হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, তখন আব্বাস কেন এর বিরুদ্ধে আরও বেশি কথা বলেননি।
আরব-ইহুদি সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করা আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভসের সহ-সভাপতি বাশায়ের ফাহুম-জায়ুসি বলেন, “আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে এই আপসগুলোর মূল্য নিয়ে খুব তীব্র বিতর্ক রয়েছে।”
তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলবেন, এই আপসের মূল্য অনেক বেশি। তাদের মতে, আব্বাস জায়নবাদী দলগুলোর নিয়ম মেনে খুব বেশি খেলছেন। অন্য আরব দলগুলো বরং বলবে; ‘আমি যেমন, আমাকে তেমনভাবেই গ্রহণ করো।’”
ইসলামিক মুভমেন্টের চেয়ারম্যান সাফওয়াত ফ্রেইজ বলেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা আব্বাসের সব কথা পছন্দ না করলেও অনেকেই বোঝেন, আপস তার রাজনৈতিক পদ্ধতিরই অংশ। অন্যদিকে অতীতে দেওয়া ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের কারণে ডানপন্থীদের তীব্র আক্রমণের মুখেও রয়েছেন তিনি।
এক সময় তিনি বলেছিলেন, জেরুজালেমে ইসরায়েলিদের “কোনো অধিকার নেই” এবং তারা “এই ভূমিতে অনুপ্রবেশকারী।” আব্বাস বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে ইহুদি ইসরায়েলিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুব কম ছিল। এটি তার “পরিস্থিতি, প্রেক্ষাপট ও মানুষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বোঝাপড়াকে” প্রভাবিত করেছিল। এখন তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে।
তিনি বলেন, “হয়তো পেছনে তাকালে দেখব; এখানে একটি বাক্য, সেখানে আরেকটি বাক্য আছে, যা আজ আমি বলতাম না।” আব্বাসের দাবি, তিনি ফিলিস্তিনি ইস্যু ত্যাগ করেননি। বরং সংঘাত সমাধানের জন্য তিনি আরও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছেন।
তার মতে, এর শুরু হওয়া উচিত ইসরায়েলের ভেতরে আরব ও ইহুদিরা একসঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে পারে, এটি প্রমাণের মাধ্যমে। ফলে আশা তৈরি হবে এবং “আমরা একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে পারি, এই আস্থা” ফিরে আসবে।
অপ্রত্যাশিত এক অংশীদারত্ব
সেগালোইৎজের সঙ্গে আব্বাসের জোট ভবিষ্যতের একটি মডেল হতে পারে। সেগালোইৎজ স্মরণ করেন, একসময় নেসেটের অধিবেশন কক্ষে তারা একসঙ্গে নির্বাচন করার বিষয়ে রসিকতা করেছিলেন। সে সময় সেগালোইৎজ ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী। আব্বাসও একই জোট সরকারের অংশ ছিলেন।
সেগালোইৎজ আরব সম্প্রদায়ের অপরাধ দমনকে নিজের অন্যতম প্রধান দায়িত্বে পরিণত করেছিলেন। তিনি সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করেন। তার দায়িত্বকালে হত্যার হার ১৬ শতাংশ কমেছিল বলে তিনি জানান। এ কারণে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের কাছে সেগালোইৎজের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
২০২২ সালে নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় ফিরে কট্টর ডানপন্থী ইতামার বেন-গভিরকে পুলিশের দায়িত্ব দেন। এরপর সেগালোইৎজের নেওয়া উদ্যোগগুলো পরিত্যক্ত হয় এবং হত্যাকাণ্ড দ্রুত বাড়তে থাকে। আব্রাহাম ইনিশিয়েটিভসের হিসাবে, গত বছর রেকর্ড ২৫২ আরব নাগরিক নিহত হয়েছেন।
তবে আব্বাস-সেগালোইৎজ জোট নিখুঁত নয়। সেগালোইৎজ আরবি বলতে পারেন না। ফলে প্রচারণার সময় কখনো কখনো বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আব্বাস সমকামী অধিকারের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষ সেগালোইৎজ সমকামী অধিকারের পক্ষে। তার নিজের মেয়েও সমকামী।
আরও অনেক ইস্যুতে তারা একমত নন। দুজনের ভাষায়, সেসব বিষয়ে তারা “একমত না হওয়ার বিষয়ে একমত” থাকবেন। আব্বাসের জন্য সাবেক প্যারাট্রুপার সেগালোইৎজকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করা ডানপন্থীদের আক্রমণ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সরকার রা’আমের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হলে বিরোধী নেতাদের উদ্বেগও কিছুটা কমতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে সেগালোইৎজ বলেন, তিনি জানেন ইসলামপন্থী একটি দলের প্রার্থী তালিকায় যোগ দেওয়ার কারণে “নেসেটের সব পাগলাটে মানুষ” তাকে আক্রমণ করবে। এখানে তিনি ‘মেশুগেনেহ’ শব্দটি ব্যবহার করেন। ইদ্দিশ ভাষায় যার অর্থ পাগল মানুষ।
তিনি বলেন, “কিন্তু আমি মনসুরকে বিশ্বাস করি। সে সাহসী মানুষ এবং তার সাহসের মূল্যও সে দেয়। আমার কাছে সে ইসরায়েলের ভবিষ্যতের জন্য একধরনের আশা।” এই আশার পরীক্ষা হবে ২৭ অক্টোবর।
উত্তর ইসরায়েলের আরেক শহর সাখনিনে নির্বাচনী প্রচারে শেষ বক্তৃতার পরও আব্বাস বেশ কিছুক্ষণ থেকে যান। হাসিমুখে সেলফি তুলছিলেন, পরিচিতদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন।
৫৩ বছর বয়সী ভোটার ইহসান বশির আব্বাসের কাছে অনুরোধ করেন, অপরাধের হার কমানোর স্বার্থে হলেও যেন তিনি পরবর্তী সরকারে যোগ দেন। এমনকি সেই সরকার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন হলেও। বশির বলেন, “আমার এক ছেলে আর চার মেয়ে। তারা বাইরে বের হলে আমি ভয় পাই।”
আব্বাস হাসলেন এবং মাথা নেড়ে সায় দিলেন। তার আশা, রা’আম অনেক আসন জিতবে এবং নতুন সরকার বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।


@^-6ab629d426bf8.jpg)
