প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৪:১১ পিএম
সকালে ঘুম থেকে উঠে, বিকেলের আড্ডায় কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ চা অনেকের নিত্যদিনের অভ্যাস। গরমের দিনে ঠান্ডা চাও জনপ্রিয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চা কি শরীরের প্রতিদিনের পানির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে?
চায়ে ক্যাফিন থাকায় অনেকের ধারণা, এটি শরীর থেকে পানি বের করে দিয়ে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে। তবে সাধারণ পরিমাণে চা পান করলে এমনটি হয় না বলে মনে করেন পুষ্টিবিদেরা। চায়ের বড় অংশই পানি হওয়ায় এর তরল শরীরের পানির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টিবিদ অ্যামি শাপিরোর ভাষ্য, ক্যাফিন প্রস্রাবের পরিমাণ কিছুটা বাড়াতে পারে। কিন্তু সাধারণ পরিমাণে চা পান করলে এতে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হওয়ার কথা নয়।
এক কাপ চায়ের বেশির ভাগই পানি। ফলে চা পান করার মাধ্যমে যে তরল শরীরে যায়, সেটিও দৈনিক তরল গ্রহণের হিসাবের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে সব ধরনের চায়ে ক্যাফিনের পরিমাণ এক নয়। কালো চায়ে তুলনামূলক বেশি ক্যাফিন থাকে। এক কাপ কালো চায়ে প্রায় ৪০ থেকে ৭০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফিন থাকতে পারে।
গ্রিন টি ও সাদা চায়ে সাধারণত ক্যাফিনের পরিমাণ কিছুটা কম, প্রায় ২০ থেকে ৪৫ মিলিগ্রামের মধ্যে। অন্যদিকে ক্যামোমাইল, পুদিনা ও রুইবসের মতো ভেষজ চায়ে স্বাভাবিকভাবে ক্যাফিন থাকে না।
যাঁরা ক্যাফিন কমাতে চান, তাঁদের জন্য কম ক্যাফিনযুক্ত বা ক্যাফিনবিহীন চা বিকল্প হতে পারে। তবে সাধারণ পরিমাণে ক্যাফিনযুক্ত চাও শরীরের তরল চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে।
তার মানে অবশ্য এই নয় যে পানি বাদ দিয়ে শুধু চায়ের ওপর নির্ভর করা উচিত। বিশুদ্ধ পানি শরীরের জন্য সরাসরি ও সহজ তরলের উৎস। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া, শরীরচর্চা কিংবা বেশি ঘাম হলে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
প্রতিদিন একজন মানুষের কতটা তরল প্রয়োজন, তা বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া ও ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
সমস্যা হতে পারে চায়ের সঙ্গে যা মেশানো হয়
চা নিজে যতটা না সমস্যা তৈরি করে, অনেক সময় তার সঙ্গে যোগ করা অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি উপাদান বা ঘন দুধই পানীয়টিকে বেশি ক্যালরিযুক্ত করে তোলে।
কিছু আইস টি বা চা-ভিত্তিক মিশ্র পানীয়ে কোমল পানীয়ের মতোই বেশি চিনি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত চা পান করলে বাড়িতে তৈরি এবং কম চিনি দেওয়া চা তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প হতে পারে।
দুধ বা দুগ্ধজাত উপাদান অল্প পরিমাণে যোগ করলে সাধারণত বড় সমস্যা হয় না। তবে দিনে বারবার চায়ের সঙ্গে বেশি চিনি, মিষ্টি দুধ বা সুগন্ধযুক্ত মিষ্টি উপাদান নিলে মোট চিনি ও ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।
ক্যাফিনের মোট পরিমাণের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। দিনে একাধিক কাপ চা পান করলে প্রতিটি কাপের ক্যাফিন যোগ হয়ে মোট গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
অ্যামি শাপিরো সাধারণভাবে দিনে মোট ৪০০ মিলিগ্রামের কম ক্যাফিন গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ক্যাফিনে সবার প্রতিক্রিয়া এক নয়। কেউ অল্প পরিমাণেই অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা ঘুমের সমস্যা অনুভব করতে পারেন।
বিকেল বা রাতে চা পানের পর ঘুমের সমস্যা হলে চা খাওয়ার সময় এগিয়ে আনা কিংবা ক্যাফিনবিহীন চা বেছে নেওয়া যেতে পারে।
আয়রন শোষণেও প্রভাব ফেলতে পারে
চায়ে থাকা ট্যানিন খাবার থেকে পাওয়া উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শোষণ কিছুটা কমাতে পারে। যাঁদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে বা যাঁরা নিরামিষভোজী, তাঁদের জন্য বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এ কারণে খাবারের সঙ্গে চা না খেয়ে দুই বেলার খাবারের মাঝামাঝি সময়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে খাবার থেকে আয়রন শোষণের ওপর চায়ের সম্ভাব্য প্রভাব কমানো যেতে পারে।
যাঁদের আগে থেকেই আয়রনের ঘাটতি ধরা পড়েছে, তাঁদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী চা পানের সময় ও পরিমাণ ঠিক করা ভালো।
সব মিলিয়ে চা দৈনিক তরল গ্রহণের অংশ হতে পারে, কিন্তু বিশুদ্ধ পানির পুরোপুরি বিকল্প নয়। বিশেষ করে চায়ের সঙ্গে কতটা চিনি, দুধ বা অন্য মিষ্টি উপাদান যোগ করা হচ্ছে এবং সারাদিনে মোট কতটা ক্যাফিন গ্রহণ করা হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
