সিন্ডি ক্রফোর্ড সুপারমডেল থেকে বিশ্বব্যাপী জীবনধারার প্রতীক
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬। ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬। ১৩:৪২ পিএম
শেয়ার
Facebook
Twitter
LinkedIn
Whatsapp
Messenger
Telegram
Email
Threads
হার্ব রিটস ১৯৮৮ সালে একটি স্টুডিও সেশনে এই ছবিটি তোলে
কিছু মুখ পুরোনো হয় না; বরং সময়ই তাদের নতুন করে আবিষ্কার করে।বিশ্ব ফ্যাশনের ইতিহাসে এমন কিছু মুখ রয়েছে, যাদের দেখলেই একটি যুগের কথা মনে পড়ে। সিন্ডি ক্রফোর্ড সেই বিরল মানুষদের একজন। তাঁকে শুধু একজন সফল মডেল বললে ভুল হবে। তিনি ছিলেন এমন এক সময়ের প্রতীক, যখন একজন মডেল কেবল পোশাক প্রদর্শন করতেন না; তিনি হয়ে উঠতেন একটি ব্র্যান্ড, একটি স্বপ্ন, একটি জীবনধারার প্রতীক।
বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের কাছে সিন্ডি ক্রফোর্ড মানেই ছিল সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস এবং সহজাত ব্যক্তিত্বের এক অনন্য মিশেল। তাঁর মুখের বাঁ পাশের ছোট্ট তিলটি একসময় এতটাই পরিচিত হয়ে ওঠে যে সেটিই তাঁর স্বাক্ষরে পরিণত হয়। নব্বইয়ের দশকের সুপারমডেলদের কথা উঠলে নাওমি ক্যাম্পবেল, লিন্ডা ইভানজেলিস্তা, ক্রিস্টি টার্লিংটন কিংবা ক্লডিয়া শিফারের সঙ্গে যে নামটি সমান গুরুত্ব নিয়ে উচ্চারিত হয়, সেটি সিন্ডি ক্রফোর্ড। কিন্তু এই কিংবদন্তির শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পৃথিবীতে।
১৯৯০ সালে প্যাট্রিক ডেমার্শেলিয়ার রেভলন এর একটি বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইনের জন্য তোলা হয়েছিল।
মধ্য-পশ্চিম আমেরিকার এক সাধারণ মেয়ে
সিন্ডি ক্রফোর্ড জন্মগ্রহণ করেন ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডিক্যাল্ব শহরে। তাঁর পরিবার ছিল মধ্যবিত্ত। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় তিনি ছিলেন মেধাবী। বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং বিদ্যালয়ে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করেন।পরিবার চেয়েছিল তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন প্রকৌশলী বা বিজ্ঞানী হোন। কিন্তু ভাগ্য তাঁর জন্য অন্য এক পথ বেছে রেখেছিল।
১৯৮২ ইলিনয়ের একজন স্থানীয় সংবাদপত্রের ফটোগ্রাফার প্রথম তাঁর একটি ছবি তোলেন।
ভুট্টাক্ষেত থেকে বিশ্বমঞ্চে
কৈশোরে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে তিনি একটি ভুট্টাক্ষেতে কাজ করতেন। সেখানেই স্থানীয় এক আলোকচিত্রী তাঁর ছবি তোলেন। ছবিগুলো স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে। অনেকেই তাঁকে মডেলিং করার পরামর্শ দেন। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, এটি শুধু সৌন্দর্যের জগৎ নয়; এটি আত্মপ্রকাশেরও একটি বড় ক্ষেত্র। এই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবন বদলে দেয়।
১৯৯২ সালের প্যারিস ফ্যাশন উইকে শ্যানেল ব্র্যান্ডের ফ্যাশন শোতে পিয়েরে ভৌতিয়ার এই ছবিটি তোলেন।
যেখানে স্বপ্নের শুরু
মডেলিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পর সিন্ডি নিউইয়র্কে চলে আসেন। শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। অসংখ্য অডিশন, প্রত্যাখ্যান এবং কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তাঁকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু খুব দ্রুতই তাঁর স্বাভাবিক সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং ক্যামেরার সামনে সহজাত স্বাচ্ছন্দ্য তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। ফ্যাশন সম্পাদক, আলোকচিত্রী এবং ডিজাইনাররা বুঝতে শুরু করেন—এই তরুণীর মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি তিল, যা হয়ে উঠেছিল পরিচয়ের প্রতীক
অনেকেই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখের বাঁ পাশের তিলটি অপসারণ করতে। তাঁদের ধারণা ছিল, এই তিল তাঁর পেশাগত সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে। কিন্তু সিন্ডি নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে বদলাতে রাজি হননি। সময়ের সঙ্গে সেই তিলই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। যা একসময় দুর্বলতা বলে মনে করা হয়েছিল, সেটিই পরে তাঁর স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৮৯ সালেপ্যাট্রিক ডেমার্শেলিয়ার বিশ্ববিখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ (ইউএস এডিশন)-এর একটি ফটোশুটের অংশ ছিল।
বিশ্ব যখন তাঁকে চিনতে শুরু করল
আশির দশকের শেষভাগে সিন্ডি ক্রফোর্ড একের পর এক আন্তর্জাতিক সাময়িকীর প্রচ্ছদে স্থান পেতে শুরু করেন। ভোগ, এল, কসমোপলিটান, হার্পার্স বাজারসহ বিশ্বের প্রভাবশালী ফ্যাশন সাময়িকীগুলোর প্রচ্ছদে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলে। এর পাশাপাশি তিনি শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর প্রদর্শনী মঞ্চে নিয়মিত অংশ নিতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শুধু একজন মডেল নন, বরং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম প্রধান মুখে পরিণত হন।
২০২৩ সালে টমাস হোয়াইটসাইড অ্যাারাবিয়ান ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ টি তোলেন।
যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে
সিন্ডি ক্রফোর্ড সুপারমডেল থেকে বিশ্বব্যাপী জীবনধারার প্রতীক
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬। ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬। ১৩:৪২ পিএম
শেয়ার
Facebook
Twitter
LinkedIn
Whatsapp
Messenger
Telegram
Email
Threads
কিছু মুখ পুরোনো হয় না; বরং সময়ই তাদের নতুন করে আবিষ্কার করে।বিশ্ব ফ্যাশনের ইতিহাসে এমন কিছু মুখ রয়েছে, যাদের দেখলেই একটি যুগের কথা মনে পড়ে। সিন্ডি ক্রফোর্ড সেই বিরল মানুষদের একজন। তাঁকে শুধু একজন সফল মডেল বললে ভুল হবে। তিনি ছিলেন এমন এক সময়ের প্রতীক, যখন একজন মডেল কেবল পোশাক প্রদর্শন করতেন না; তিনি হয়ে উঠতেন একটি ব্র্যান্ড, একটি স্বপ্ন, একটি জীবনধারার প্রতীক।
বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের কাছে সিন্ডি ক্রফোর্ড মানেই ছিল সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস এবং সহজাত ব্যক্তিত্বের এক অনন্য মিশেল। তাঁর মুখের বাঁ পাশের ছোট্ট তিলটি একসময় এতটাই পরিচিত হয়ে ওঠে যে সেটিই তাঁর স্বাক্ষরে পরিণত হয়। নব্বইয়ের দশকের সুপারমডেলদের কথা উঠলে নাওমি ক্যাম্পবেল, লিন্ডা ইভানজেলিস্তা, ক্রিস্টি টার্লিংটন কিংবা ক্লডিয়া শিফারের সঙ্গে যে নামটি সমান গুরুত্ব নিয়ে উচ্চারিত হয়, সেটি সিন্ডি ক্রফোর্ড। কিন্তু এই কিংবদন্তির শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পৃথিবীতে।
১৯৯০ সালে প্যাট্রিক ডেমার্শেলিয়ার রেভলন এর একটি বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইনের জন্য তোলা হয়েছিল।
মধ্য-পশ্চিম আমেরিকার এক সাধারণ মেয়ে
সিন্ডি ক্রফোর্ড জন্মগ্রহণ করেন ২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডিক্যাল্ব শহরে। তাঁর পরিবার ছিল মধ্যবিত্ত। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় তিনি ছিলেন মেধাবী। বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং বিদ্যালয়ে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করেন।পরিবার চেয়েছিল তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন প্রকৌশলী বা বিজ্ঞানী হোন। কিন্তু ভাগ্য তাঁর জন্য অন্য এক পথ বেছে রেখেছিল।
১৯৮২ ইলিনয়ের একজন স্থানীয় সংবাদপত্রের ফটোগ্রাফার প্রথম তাঁর একটি ছবি তোলেন।
ভুট্টাক্ষেত থেকে বিশ্বমঞ্চে
কৈশোরে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে তিনি একটি ভুট্টাক্ষেতে কাজ করতেন। সেখানেই স্থানীয় এক আলোকচিত্রী তাঁর ছবি তোলেন। ছবিগুলো স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে। অনেকেই তাঁকে মডেলিং করার পরামর্শ দেন। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, এটি শুধু সৌন্দর্যের জগৎ নয়; এটি আত্মপ্রকাশেরও একটি বড় ক্ষেত্র। এই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবন বদলে দেয়।
১৯৯২ সালের প্যারিস ফ্যাশন উইকে শ্যানেল ব্র্যান্ডের ফ্যাশন শোতে পিয়েরে ভৌতিয়ার এই ছবিটি তোলেন।
যেখানে স্বপ্নের শুরু
মডেলিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পর সিন্ডি নিউইয়র্কে চলে আসেন। শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। অসংখ্য অডিশন, প্রত্যাখ্যান এবং কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তাঁকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু খুব দ্রুতই তাঁর স্বাভাবিক সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং ক্যামেরার সামনে সহজাত স্বাচ্ছন্দ্য তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। ফ্যাশন সম্পাদক, আলোকচিত্রী এবং ডিজাইনাররা বুঝতে শুরু করেন—এই তরুণীর মধ্যে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি তিল, যা হয়ে উঠেছিল পরিচয়ের প্রতীক
অনেকেই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন মুখের বাঁ পাশের তিলটি অপসারণ করতে। তাঁদের ধারণা ছিল, এই তিল তাঁর পেশাগত সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে। কিন্তু সিন্ডি নিজের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে বদলাতে রাজি হননি। সময়ের সঙ্গে সেই তিলই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। যা একসময় দুর্বলতা বলে মনে করা হয়েছিল, সেটিই পরে তাঁর স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৮৯ সালেপ্যাট্রিক ডেমার্শেলিয়ার বিশ্ববিখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ (ইউএস এডিশন)-এর একটি ফটোশুটের অংশ ছিল।
বিশ্ব যখন তাঁকে চিনতে শুরু করল
আশির দশকের শেষভাগে সিন্ডি ক্রফোর্ড একের পর এক আন্তর্জাতিক সাময়িকীর প্রচ্ছদে স্থান পেতে শুরু করেন। ভোগ, এল, কসমোপলিটান, হার্পার্স বাজারসহ বিশ্বের প্রভাবশালী ফ্যাশন সাময়িকীগুলোর প্রচ্ছদে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলে। এর পাশাপাশি তিনি শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর প্রদর্শনী মঞ্চে নিয়মিত অংশ নিতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শুধু একজন মডেল নন, বরং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম প্রধান মুখে পরিণত হন।
২০২৩ সালে টমাস হোয়াইটসাইড অ্যাারাবিয়ান ভোগ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ টি তোলেন।
যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে