ঝুম বৃষ্টি, জানালার কাচে জলের ফোঁটার শব্দ, আর বাইরে এক অদ্ভুত ধূসর চারপাশ—মেঘলা দিনের এই স্নিগ্ধতা কার না ভালো লাগে! কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধে তখনই, যখন এই চড়া আর্দ্রতার দিনে একটু বাইরে বের হতে গেলেই সাধের মেকআপ গলে যাওয়ার জোগাড় হয়। কখনো মুখ তেলতেলে হয়ে যায়, আবার কখনো বৃষ্টির সামান্য ছাঁটেই কাজল লেপ্টে একাকার।
আসলে বর্ষার এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় রূপচর্চার ব্যাকরণটা একটু বদলে যায়। পোশাকের সাথে মেকআপের মেলবন্ধনটা এখানে হতে হবে এক্কেবারে নিখুঁত, লাইটওয়েট আর ওয়াটারপ্রুফ। এই মেঘলা দিনেও কীভাবে নিজেকে এক ফালি রোদের মতো সতেজ আর গ্ল্যামারাস রাখবেন, সেই গল্পটাই আজ বলা যাক।
ছবি: এ আই নির্মিত
বর্ষার মেকআপের মূল রসায়ন: 'লেস ইজ মোর'
বর্ষার মেকআপের একমাত্র গোপন সূত্র হলো—যত কম লেয়ার, তত বেশি স্থায়িত্ব। আপনি যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান কিংবা সাধারণ কোনো আড্ডায় যান, এই আর্দ্র আবহাওয়ায় ভারী ফাউন্ডেশন কিন্তু আপনার ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু।
গল্পের শুরুটা হওয়া চাই একটা চমৎকার ওয়াটার-বেসড বা ম্যাটিফাইং প্রাইমার দিয়ে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ একদম লক করে দেয়। এই সিজনে ভারী লিকুইড ফাউন্ডেশনকে পুরোপুরি ছুটি দিয়ে বেছে নিন লাইটওয়েট কোনো বিবি বা সিসি ক্রিম। আর পুরো বেসটাকে সেট করতে ব্যবহার করুন হালকা লুজ ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার। চড়া রোদের মেকআপের মতো এখানে গ্লো-এর ছড়াছড়ি থাকবে না, বরং ফিনিশটা হবে এক্কেবারে ম্যাট, যা বৃষ্টির ফোঁটাকেও টেক্কা দেবে।
চোখের ক্ষেত্রে সাধারণ কাজল বা লাইনার ব্যবহার করলে বৃষ্টির ছাঁটে চোখের চারপাশ কালো হয়ে ভূত তৈরি হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তাই এখানে মাস্ট হলো স্মাজ-প্রুফ জেল লাইনার আর ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা। আর ঠোঁটে ক্রিমি গ্লসের বদলে লং-লাস্টিং ম্যাট লিপস্টিক কিংবা একটা চনমনে লিপ টিন্ট—ব্যস, আপনার ক্যানভাস তৈরি!
আন্তর্জাতিক ও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের সিলমোহর
যেহেতু বর্ষার আবহাওয়া খুবই বৈরী, তাই এই সময়ে ত্বকের সুরক্ষা এবং মেকআপের স্থায়িত্বের জন্য আন্তর্জাতিক ও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের ওপর ভরসা করাটা বুদ্ধিমানের কাজ।
পারফেক্ট বেস ও প্রাইমার: মেকআপের শুরুতেই একটা ম্যাট ও স্মুদ ফিনিশের জন্য লরিয়েল ইনফ্যালিবল ম্যাট প্রাইমার বা এস্টি লডার ম্যাটিফায়ার হতে পারে দারুণ অপশন। আর ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে প্রফেশনালদের প্রথম পছন্দ ম্যাক স্টুডিও ফিক্স ফ্লুইড (ম্যাট) অথবা ফেন্টি বিউটি প্রো ফিল্টার ম্যাট ফাউন্ডেশন, যা এই চড়া আর্দ্রতাতেও গলে যায় না।
চোখের জাদুকরী ছোঁয়া: বৃষ্টির পানিতেও চোখের সাজ ধরে রাখতে মেবেলাইন ল্যাশ ওয়াটারপ্রুফ মাস্কারা কিংবা ডিওর ডিওরশো ওয়াটারপ্রুফ মাস্কারার জুড়ি মেলা ভার। লাইনারের জন্য বেছে নিতে পারেন ইংলট এএমসি ম্যাট জেল লাইনার।
লং-লাস্টিং ঠোঁট: ঠোঁটের রঙ যাতে বাতাসে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য আনাস্তাসিয়া বেভারলি হিলস লিকুইড লিপস্টিক অথবা হুদা বিউটি লিকুইড ম্যাটের চমৎকার সব আর্দি ও বেরি শেড মনসুন মেকআপে দারুণ মানিয়ে যায়।
ছবি: এ আই নির্মিত
রূপান্তরের পর: বর্ষার সেই সিগনেচার লুক
সব টেকনিক আর প্রফেশনাল টাচ-আপের পর ফাইনাল লুকটা ঠিক কেমন দেখাবে? চোখ বন্ধ করে ভিজ্যুয়ালাইজ করার দরকার নেই, এই চমৎকার বর্ণনাটাই আপনাকে সেই ফ্রেমে নিয়ে যাবে।
ছবিতে মডেলের দিকে তাকালে শুরুতেই আপনার চোখ আটকে যাবে তার মুখের এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতায়। অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব বা চড়া মেকআপের কোনো লেয়ার নেই, পুরো বেসটা একদম ন্যাচারাল ম্যাট। চোখের পাতায় কোনো জাঁকজমক রঙ বা ভারী শ্যাডো নেই, বরং হালকা একটা নুড বা পিচ টোনের ওপর ডার্ক আইলাইনার আর ঘন মাসকারার প্রলেপ চোখ দুটিকে করে তুলেছে দারুণ এক্সপ্রেসিভ আর সতেজ। মেঘলা দিনের এই নিস্তেজ ভাবটা কাটাতে ঠোঁটে ব্যবহার করা হয়েছে একটি মনসুন-ফ্রেন্ডলি সফট বেরি বা ডিপ কোরাল শেডের ম্যাট লিপস্টিক, যা পুরো অবয়বে একটা ইনস্ট্যান্ট ব্রাইটনেস এনে দিয়েছে। আর এই স্যাঁতসেঁতে বাতাসে চুল যাতে ফ্রিজি বা উস্কোখুস্কো না দেখায়, সেজন্য চুলগুলোকে আলতো করে বেঁধে করা হয়েছে একটি চমৎকার মেসে বান অথবা হাই টপ-নট পনিটেল।
এই লুকটি কেবল আরামদায়কই নয়, বরং বর্ষার যেকোনো এডিটোনিয়াল শুট বা স্ট্রিট স্টাইল ফিচারের জন্য এক্কেবারে একশতে একশ!
ছবি: এ আই নির্মিত
যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে
ঝুম বৃষ্টি, জানালার কাচে জলের ফোঁটার শব্দ, আর বাইরে এক অদ্ভুত ধূসর চারপাশ—মেঘলা দিনের এই স্নিগ্ধতা কার না ভালো লাগে! কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধে তখনই, যখন এই চড়া আর্দ্রতার দিনে একটু বাইরে বের হতে গেলেই সাধের মেকআপ গলে যাওয়ার জোগাড় হয়। কখনো মুখ তেলতেলে হয়ে যায়, আবার কখনো বৃষ্টির সামান্য ছাঁটেই কাজল লেপ্টে একাকার।
আসলে বর্ষার এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় রূপচর্চার ব্যাকরণটা একটু বদলে যায়। পোশাকের সাথে মেকআপের মেলবন্ধনটা এখানে হতে হবে এক্কেবারে নিখুঁত, লাইটওয়েট আর ওয়াটারপ্রুফ। এই মেঘলা দিনেও কীভাবে নিজেকে এক ফালি রোদের মতো সতেজ আর গ্ল্যামারাস রাখবেন, সেই গল্পটাই আজ বলা যাক।
ছবি: এ আই নির্মিত
বর্ষার মেকআপের মূল রসায়ন: 'লেস ইজ মোর'
বর্ষার মেকআপের একমাত্র গোপন সূত্র হলো—যত কম লেয়ার, তত বেশি স্থায়িত্ব। আপনি যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান কিংবা সাধারণ কোনো আড্ডায় যান, এই আর্দ্র আবহাওয়ায় ভারী ফাউন্ডেশন কিন্তু আপনার ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু।
গল্পের শুরুটা হওয়া চাই একটা চমৎকার ওয়াটার-বেসড বা ম্যাটিফাইং প্রাইমার দিয়ে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ একদম লক করে দেয়। এই সিজনে ভারী লিকুইড ফাউন্ডেশনকে পুরোপুরি ছুটি দিয়ে বেছে নিন লাইটওয়েট কোনো বিবি বা সিসি ক্রিম। আর পুরো বেসটাকে সেট করতে ব্যবহার করুন হালকা লুজ ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার। চড়া রোদের মেকআপের মতো এখানে গ্লো-এর ছড়াছড়ি থাকবে না, বরং ফিনিশটা হবে এক্কেবারে ম্যাট, যা বৃষ্টির ফোঁটাকেও টেক্কা দেবে।
চোখের ক্ষেত্রে সাধারণ কাজল বা লাইনার ব্যবহার করলে বৃষ্টির ছাঁটে চোখের চারপাশ কালো হয়ে ভূত তৈরি হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। তাই এখানে মাস্ট হলো স্মাজ-প্রুফ জেল লাইনার আর ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা। আর ঠোঁটে ক্রিমি গ্লসের বদলে লং-লাস্টিং ম্যাট লিপস্টিক কিংবা একটা চনমনে লিপ টিন্ট—ব্যস, আপনার ক্যানভাস তৈরি!
আন্তর্জাতিক ও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের সিলমোহর
যেহেতু বর্ষার আবহাওয়া খুবই বৈরী, তাই এই সময়ে ত্বকের সুরক্ষা এবং মেকআপের স্থায়িত্বের জন্য আন্তর্জাতিক ও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের ওপর ভরসা করাটা বুদ্ধিমানের কাজ।
পারফেক্ট বেস ও প্রাইমার: মেকআপের শুরুতেই একটা ম্যাট ও স্মুদ ফিনিশের জন্য লরিয়েল ইনফ্যালিবল ম্যাট প্রাইমার বা এস্টি লডার ম্যাটিফায়ার হতে পারে দারুণ অপশন। আর ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে প্রফেশনালদের প্রথম পছন্দ ম্যাক স্টুডিও ফিক্স ফ্লুইড (ম্যাট) অথবা ফেন্টি বিউটি প্রো ফিল্টার ম্যাট ফাউন্ডেশন, যা এই চড়া আর্দ্রতাতেও গলে যায় না।
চোখের জাদুকরী ছোঁয়া: বৃষ্টির পানিতেও চোখের সাজ ধরে রাখতে মেবেলাইন ল্যাশ ওয়াটারপ্রুফ মাস্কারা কিংবা ডিওর ডিওরশো ওয়াটারপ্রুফ মাস্কারার জুড়ি মেলা ভার। লাইনারের জন্য বেছে নিতে পারেন ইংলট এএমসি ম্যাট জেল লাইনার।
লং-লাস্টিং ঠোঁট: ঠোঁটের রঙ যাতে বাতাসে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য আনাস্তাসিয়া বেভারলি হিলস লিকুইড লিপস্টিক অথবা হুদা বিউটি লিকুইড ম্যাটের চমৎকার সব আর্দি ও বেরি শেড মনসুন মেকআপে দারুণ মানিয়ে যায়।
ছবি: এ আই নির্মিত
রূপান্তরের পর: বর্ষার সেই সিগনেচার লুক
সব টেকনিক আর প্রফেশনাল টাচ-আপের পর ফাইনাল লুকটা ঠিক কেমন দেখাবে? চোখ বন্ধ করে ভিজ্যুয়ালাইজ করার দরকার নেই, এই চমৎকার বর্ণনাটাই আপনাকে সেই ফ্রেমে নিয়ে যাবে।
ছবিতে মডেলের দিকে তাকালে শুরুতেই আপনার চোখ আটকে যাবে তার মুখের এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতায়। অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব বা চড়া মেকআপের কোনো লেয়ার নেই, পুরো বেসটা একদম ন্যাচারাল ম্যাট। চোখের পাতায় কোনো জাঁকজমক রঙ বা ভারী শ্যাডো নেই, বরং হালকা একটা নুড বা পিচ টোনের ওপর ডার্ক আইলাইনার আর ঘন মাসকারার প্রলেপ চোখ দুটিকে করে তুলেছে দারুণ এক্সপ্রেসিভ আর সতেজ। মেঘলা দিনের এই নিস্তেজ ভাবটা কাটাতে ঠোঁটে ব্যবহার করা হয়েছে একটি মনসুন-ফ্রেন্ডলি সফট বেরি বা ডিপ কোরাল শেডের ম্যাট লিপস্টিক, যা পুরো অবয়বে একটা ইনস্ট্যান্ট ব্রাইটনেস এনে দিয়েছে। আর এই স্যাঁতসেঁতে বাতাসে চুল যাতে ফ্রিজি বা উস্কোখুস্কো না দেখায়, সেজন্য চুলগুলোকে আলতো করে বেঁধে করা হয়েছে একটি চমৎকার মেসে বান অথবা হাই টপ-নট পনিটেল।
এই লুকটি কেবল আরামদায়কই নয়, বরং বর্ষার যেকোনো এডিটোনিয়াল শুট বা স্ট্রিট স্টাইল ফিচারের জন্য এক্কেবারে একশতে একশ!
ছবি: এ আই নির্মিত
যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে