ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কানাডা অংশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি-মার্কিন গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক সঞ্জয় দেবের পরিবেশনা ছিল নিঃসন্দেহে গর্বের একটি মুহূর্ত। তবে তার কণ্ঠের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে তার পরা বিশেষ পোশাকটি, যা ছিল বাংলাদেশের প্রতি এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী শ্রদ্ধাঞ্জলি।
সঞ্জয় পরেছিলেন কালো প্যান্টের সঙ্গে গাঢ় লাল মখমলের ফুলহাতা জ্যাকেট। প্রথম দেখায় এটি ছিল রাজকীয় ও মঞ্চোপযোগী একটি পোশাক। কিন্তু কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, জ্যাকেটটির প্রতিটি নকশায় লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের পরিচয়।
উদ্বোধনী পরিবেশনার সময় সঞ্জয় বারবার দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন জ্যাকেটের হাতার একটি বিশেষ অংশের দিকে। সেখানে সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। বিশ্বকাপের বিশাল মঞ্চে এই ছোট্ট ইঙ্গিত যেন কোটি বাংলাদেশির আবেগকে প্রতিনিধিত্ব করছিল।
জ্যাকেটটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল এর সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি। পতাকার প্রতীকের পাশাপাশি জরির সুতার কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ- যা শক্তি, সাহস ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। একই সঙ্গে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলার নকশা, যা পোশাকটিকে আরও শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক গভীরতা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনেক শিল্পী নিজেদের দেশের পরিচয় তুলে ধরতে পোশাক ব্যবহার করেন। সঞ্জয় দেবও সেই ধারায় নিজের স্টাইলকে পরিণত করেছেন সাংস্কৃতিক বক্তব্যে। এটি শুধু একটি জ্যাকেট ছিল না; বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রকৃতি ও জাতীয় চেতনাকে বহন করা এক পরিধেয় শিল্পকর্ম।
সঞ্জয়ের এই বিশেষ পোশাকের নকশা করেন কোরিওগ্রাফার "ছায়া কুমার" এবং স্টাইলিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন "জেসমিন প্যাটেল"। তাদের সৃজনশীলতায় তৈরি এই জ্যাকেট বিশ্বকাপের ঝলমলে মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দেব শুধু গানই গাননি; তার পোশাকের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখিয়েছেন, নিজের শিকড়কে সঙ্গে নিয়েই বৈশ্বিক মঞ্চে দাঁড়ানো যায় সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে।