Logo
Logo
×

লাইফস্কেপ ।  মিউজিক

‘মথুরা’ দিয়ে নতুন করে আলোচনায় অংকন

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৮:০৮ পিএম

আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ২০:২০ পিএম

‘মথুরা’ দিয়ে নতুন করে আলোচনায় অংকন

‘উপ’, ‘বড়াই করে’ ও ‘লং ডিসট্যান্স লাভ’ একাধিক গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন তরুণ সংগীতশিল্পী অংকন কুমার। এবার কোক স্টুডিও বাংলার নতুন মৌসুমে ‘মথুরা’ গান দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। ছয় বছর আগে লেখা ও সুর করা গানটিতে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন নন্দিতা।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর গানটি প্রকাশের পর শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রকাশের মাত্র চার দিনের ব্যবধানে গানটির ভিডিও দেখা হয়েছে ৩৩ লাখের বেশিবার।

খুলনায় এক ঝড়বৃষ্টির রাতে গানটি লিখেছিলেন অংকন। তখনো সংগীতশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়নি। নিজের চারপাশের প্রকৃতি, ভালো লাগা, ভালোবাসা ও ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে তৈরি হয়েছিল ‘মথুরা’।

গানটিতে উঠে এসেছে ভালোবাসার অপূর্ণতা, বিরহ এবং না-বলা অনুভূতির গল্প। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রেমের ঘটনা থেকে গানটির জন্ম হয়নি বলে জানিয়েছেন অংকন। বরং ভালোবাসার সম্পর্কের পরিচিত অনুভূতিগুলোই এতে এক হয়েছে।

অংকনের ভাষায়, প্রতিটি প্রেমের গল্প আলাদা হলেও অনুভূতির জায়গায় সবার মধ্যে এক ধরনের মিল রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর গানের কথায় ফিরে ফিরে আসে।

ঝড়বৃষ্টি ও গিটারের মেলবন্ধন

‘মথুরা’ গানের সংগীতায়োজনে গিটার ও পারকাশনের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের শব্দ। অংকন জানান, গিটার ও পারকাশনের প্রতি তাঁর বিশেষ ভালো লাগা থেকেই গানটিতে এসব বাদ্যযন্ত্রের উপস্থিতি রাখা হয়েছে।

গানের আবহ তৈরিতে প্রকৃতির শব্দ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে শ্রোতাদের সামনে একটি অনুভূতিনির্ভর সংগীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।

পুরোনো বাংলা গানেই সংগীতের শুরু

অংকনের সংগীতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে শৈশব থেকেই। বাড়িতে মা-বাবার পছন্দের পুরোনো দিনের বাংলা গান শুনে বড় হয়েছেন তিনি। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত, কবীর ও লালনের গান ছিল তাঁর শৈশবের সংগীতজগতের অংশ।

বিশেষ করে আশি ও নব্বইয়ের দশকের গান তাঁর কাছে ছিল খুবই প্রিয়।

পরবর্তী সময়ে শাস্ত্রীয় সংগীতও শিখেছেন অংকন। তবে নজরুলের গানের প্রতি তাঁর আলাদা আকর্ষণ সব সময়ই ছিল। ভবিষ্যতে নিজের জন্য গান তৈরি করলে সেমি-ক্ল্যাসিক্যাল ঘরানার কিছু করার ইচ্ছাও ছিল তাঁর।

এই সংগীতচর্চা ও শৈশবের শ্রবণ অভিজ্ঞতা তাঁর নিজস্ব গানের ধরনে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা যায়।

অংকন কুমার

পেশা নয়, ভালোবাসার জায়গা সংগীত

সংগীতকে প্রচলিত অর্থে পেশা হিসেবে দেখতে চান না অংকন। তাঁর কাছে গান তৈরি করা মূলত ভালো লাগার বিষয়। কাজের বাইরে ছবি আঁকা, ফুটবল খেলা, ভ্রমণ এবং বাংলা খাবারের প্রতি রয়েছে তাঁর আগ্রহ।

নিজের জীবনযাপন সম্পর্কে অংকন বলেন, তাঁর কাজ মূলত প্রকল্পভিত্তিক। কোনো প্রকল্প থাকলে কাজ করেন, অন্য সময় নিজের মতো করে কাটান।

গান তৈরির ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতির প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন এই শিল্পী। তাঁর মতে, প্রতিটি গানের আলাদা অনুভূতিকে যথাযথভাবে প্রকাশ করাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে ‘এক আমি’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অংকন। এই কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে রয়েছে।

হাবিব ওয়াহিদের সংগীত পরিচালনা ও প্রযোজনার দক্ষতার প্রশংসা করে অংকন জানান, গানটির নিজের অংশের সুর থেকে শুরু করে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পর্যন্ত সবকিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন হাবিব ওয়াহিদ।

তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে অসাধারণ বলে উল্লেখ করেছেন অংকন।

সামনে দুই–তিনটি ইপি প্রকাশের পরিকল্পনা

‘মথুরা’র কাজ শেষ হলেও নতুন গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অংকন। ইতিমধ্যে কয়েকটি গানের পরীক্ষামূলক রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। সেগুলোর মূল রেকর্ডিং ও সংগীতায়োজন শেষে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

সামনে দুই থেকে তিনটি ইপি প্রকাশ করতে চান তিনি। এর মধ্যে একটি ইপিতে থাকবে পপ ও আরঅ্যান্ডবি ঘরানার গান। আরেকটি হবে পুরোপুরি আরঅ্যান্ডবি নির্ভর।

এ ছাড়া নিজের জন্য আলাদা একটি ইপি তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। সেখানে পুরোনো দিনের বাংলা গানের আবহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নিজের লেখা কয়েকটি গান রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই সংগীতশিল্পী।

‘মথুরা’র সাফল্যের মধ্য দিয়ে অংকনের সংগীতযাত্রায় যুক্ত হলো নতুন একটি অধ্যায়। পুরোনো বাংলা গানের প্রভাব, ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং সমসাময়িক সংগীতের মেলবন্ধনে সামনে তাঁর নতুন কাজগুলো শ্রোতাদের জন্য কী অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে