প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৩:১০ পিএম
আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ২০:০৮ পিএম
আগামী সপ্তাহে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, যে প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে ঢাকা সন্তুষ্ট নয়। তবে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর হতে পারে।
বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সবশেষ ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে তখনো নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য ছিল না।
হুমায়ুন কবির বলেন, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ কারণেই আমন্ত্রণের প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকা সন্তুষ্ট নয়।
তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।
বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়। তবে বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকায় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সম্মেলনে যাচ্ছেন না তিনি।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকার।
তবে এরপর দুই দেশের সম্পর্কের কয়েকটি বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের আলোচনায় সামনে আসে।
গত ৫ অগাস্ট দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর ঢাকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই ওই ঘটনার পর নয়াদিল্লিকে ‘কূটনৈতিক অনুকূল পরিবেশ’ তৈরিসহ দুটি শর্তের কথা জানায় বাংলাদেশ।
ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।
ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ তারা যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও গত মঙ্গলবার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আন্তরিক এবং বিষয়টিকে শুধু ভারতের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি যখন শর্ত হিসেবে সামনে আনা হয়েছে, তখন নয়াদিল্লির সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন।
ফলে ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে ঢাকার উত্থাপিত বিষয়গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।





