Logo
Logo
×
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিআইডি

খবর ।  সরকার

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৭:৪৭ পিএম

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকারের মেয়াদে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।

এ ছাড়া শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘জনগণ সময়মতো ঠিক করবে, তারা কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকবে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।’’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘‘তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।’’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।’’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’’

সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে শিল্পসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট সমস্যাটি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।

২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলোও দীর্ঘদিনের বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’’

সভায় বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগ কখন শেষ করা হবে, তার সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের সময় এসব সময়সীমায় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাতের কোনো ক্ষতি হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের স্বার্থের বিষয় নয়। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

‘হতাশ হওয়ার কারণ নেই’

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ইতোমধ্যে অবগত। সরকার সমস্যাগুলো গোপন না করে খোলাখুলিভাবে তুলে ধরেছে এবং কীভাবে সেগুলো সমাধান করতে চায়, তা জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এতটুকু আমরা আপনাদের জানাতে চেয়েছি যে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার মতো কারণ নেই।’’

সরকারের পরিকল্পনাগুলো যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সফলভাবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, পুরো দেশ উপকৃত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তারেক রহমান।

আলোচনায় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। ‘তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তারাও তা সঠিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া বড় ধরনের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর দল প্রয়োজন বলেও জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’’

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম এবং সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভসহ অন্যরা সভায় অংশ নেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খানও সভায় উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: ইউএনবি

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে