Logo
Logo
×
মাহদী আমিন বললেন ‘অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা’, টিআইবি দিল হয়রানির তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ছবি: এআই

খবর ।  দেশ

মাহদী আমিন বললেন ‘অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা’, টিআইবি দিল হয়রানির তথ্য

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৭:৫১ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন দাবি করেছেন, বিএনপি সরকার গত সাত মাসে অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। তবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বাকস্বাধীনতা চর্চার কারণে হয়রানি ও আটক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে মৃত্যু এবং গুমের তথ্য তুলে ধরেন।

রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে মঙ্গলবার টিআইবি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকার অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের জঞ্জাল একবারে মূলোৎপাটন করা কঠিন।

তিনি বলেন, এই সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একবারও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় মদদে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যু ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলের মত, পথ বা ভিন্ন আদর্শও হরণ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেখছি ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা, যেখানে ক্ষেত্রবিশেষে অশালীন বা অশ্রাব্য আচরণও করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা দেখছি সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতা এবং সহাবস্থান। কারণ, এটাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা।

রাষ্ট্র পরিচালনায় কোথাও ঘাটতি থাকলে তা সংশোধনের মাধ্যমে সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় বলে জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার থাকবে। সফল হওয়ার জন্য কাউকে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল করতে হবে না। প্রত্যেকে নিজ নিজ মেধার ভিত্তিতে সরকারের সহযোগিতা পাওয়ার অধিকার পাবেন।

এরপর ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তার কাছে থাকা তথ্য ভিন্ন কথা বলছে। উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা চর্চার কারণে কমপক্ষে ৫২টি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগকে আটক করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা চর্চার কারণে এই আইনে আটক করা প্রত্যাশিত ছিল না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৭৩০ টির বেশি। এর মধ্যে ৫০৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৫১ টি। সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত একটি গুমের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জড়িত। এ বিষয়গুলো উদ্বেগজনক।

আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দ্বিতীয় দফায় যেসব অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে, একটির ক্ষেত্রেও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এটি অপ্রত্যাশিত। পরিবর্তন কিছুই হয়নি। এক বা একাধিক ব্যক্তির হাতে পুরো আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া এখন এক ধরনের জিম্মি দশার মধ্যে আছে।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রকাঠামোকে জবাবদিহিমূলক জায়গায় নিতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া অংশগ্রহণমূলক না হলে তা চাপিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে যারা অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, যারা দায়ী, তাদের ওপরই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটি কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না।

পরে আবার বক্তব্য দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় মদদে কিছু হচ্ছে না। আগে একটি নির্দিষ্ট অফিস বা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপ করা হতো। এখন রাষ্ট্রের কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে।

গত সাত মাসে রাষ্ট্রীয় মদদে কিংবা রাজনৈতিক কারণে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, ‘এই স্পিরিটটাকে আমরা ধরে রাখতে চাই’। তিনি বলেন, ‘একটা সময় ওপর দিক থেকে চাপিয়ে দেওয়া হতো, আর এখন যখন নিচ থেকে খবর ওপরের দিকে আসে, তখন অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে তার বিরুদ্ধে। এটাই তো একটা বড় ধরনের পরিবর্তন।’

আলোচনা সভায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এ খাতে অনেক সমস্যা রয়েছে। এগুলো ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা। এক দিন বা এক মাসে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে আগামী ছয় মাস, দুই বছর ও পাঁচ বছরে কীভাবে পরিবর্তন আনা যায়, তা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১০ বছরে জ্বালানি খাতে যতটা সম্ভব স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরকার নারী ও তরুণদের যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। এত দিন যে সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ছিল, তার ক্ষমতার উৎস কখনোই জনগণ ছিল না। তাদের ক্ষমতার উৎস ছিল রাষ্ট্রযন্ত্র, বিভিন্ন বাহিনী, বিচার বিভাগ, প্রশাসন কিংবা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি। সে কারণে দেশে গণতন্ত্রের ঘাটতি ছিল, ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল এবং স্বৈরশাসন মাথাচাড়া দিয়েছিল।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নওশাদ জমির, চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী প্রমুখ।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে