Logo
Logo
×

খবর ।  সরকার

বাংলাদেশকে কেন আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি, ব্যাখ্যা দিল পাকিস্তান

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৩:৫৮ পিএম

আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৬:০০ পিএম

বাংলাদেশকে কেন আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি, ব্যাখ্যা দিল পাকিস্তান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানিবাহী বিমানের পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার ঘটনাকে ‘কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত’ বিষয় হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন বলেছে, ঘটনাটিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নেতিবাচক কোনো ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে হাইকমিশন জানায়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতি ও প্রক্রিয়া মেনে কূটনৈতিক ফ্লাইট ও আকাশসীমা ব্যবহারের আবেদন পর্যালোচনা করে পাকিস্তান। এ ধরনের অনুমতি দেশটির নির্ধারিত নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা ও বেসামরিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত প্রটোকল অনুযায়ী দেওয়া হয়।

পাকিস্তান হাইকমিশনের ভাষ্য, আলোচিত ঘটনাটি ফ্লাইটের রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি-সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় এবং কখনও কখনও তার কারণে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে ঘটনাটিকে কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়ে হাইকমিশন বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে পারে—এমন ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম দফার পারমাণবিক জ্বালানি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে প্রয়োজনীয় আকাশসীমা ছাড়পত্র না পাওয়ায় নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার কারণে চালানটি আটকে যায়।

তখন ঠিক কী কারণে পাকিস্তান অনুমতি দেয়নি, সেটি স্পষ্ট ছিল না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছিলেন, বিমানবন্দরে জ্বালানি গ্রহণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল, কিন্তু আকাশসীমা ছাড়পত্রের জটিলতার কারণে ফ্লাইটটি আসেনি।

এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। একাধিক ফ্লাইটের মাধ্যমে চালান পাঠিয়ে বছরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। কেন্দ্রটিতে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ ২০২৩ সালে সম্পন্ন হয়েছিল।

প্রথম ইউনিটের জ্বালানি রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে বাংলাদেশে আনার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়েছিল। ওই জ্বালানি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দেশ পারমাণবিক জ্বালানির মালিকানাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় যুক্ত হয়।

বর্তমান জটিলতার পর নতুন সময়সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পরিবহন শুরু হলে কয়েক দফায় চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে। পাকিস্তান ঘটনাটিকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও বিলম্বের কারণে মূল নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। সূত্র: এএনআই

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে