Logo
Logo
×

খবর ।  বিদেশ

মানব পাচার রোধে ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬। ০৫:২৮ পিএম

মানব পাচার রোধে ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে পিছিয়ে বাংলাদেশ

মানব পাচার নির্মূলে নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা রয়েছে। মানব পাচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট ২০২৬’-এ বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ধাপে (টিয়ার-২) রাখা হয়েছে। আগের বছরও একই ধাপে ছিল দেশটি। প্রতিবেদনটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের সামগ্রিক উদ্যোগ বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি সরকার। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাও দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে।

মানব পাচার প্রতিরোধে নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ এবং তা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখানো দেশগুলোকে প্রথম ধাপে (টিয়ার-১) রাখা হয়। যেসব দেশ মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও তা অর্জনে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালায়, সেগুলো থাকে দ্বিতীয় ধাপে। এ ধাপের দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ নজরদারির তালিকায় থাকা দেশগুলোকে টিয়ার-২ ওয়াচ লিস্টে রাখা হয়। আর ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ এবং তা অর্জনে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা না থাকা দেশগুলোকে তৃতীয় ধাপে (টিয়ার-৩) রাখা হয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি হিসেবে মানব পাচার প্রতিরোধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ পাস করেছে। পাশাপাশি মানব পাচারের ঘটনায় তদন্ত ও মামলা পরিচালনার কার্যক্রম বেড়েছে। অপরাধ শনাক্ত এবং ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করার নির্দেশিকাও হালনাগাদ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সরকার একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এ ছাড়া মানব পাচারের ঝুঁকি কমাতে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায়ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে মানব পাচার দমনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ঘাটতির কথা তুলে ধরেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় কমসংখ্যক মানব পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে মানব পাচার বন্ধেও সরকারের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। এ ধরনের অপরাধের বিস্তারও ব্যাপক রয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি কমেছে। তাঁদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এ ঘাটতি বেশি।

এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ ফি নিজেদের পকেট থেকে দেওয়ার প্রথা বন্ধ করতে পারেনি সরকার। এর ফলে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আর্থিক দায়ের কারণে তাঁদের মানব পাচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে