Logo
Logo
×

খবর ।  মিডিয়া

সাংবাদিক নিবন্ধন ও জরিমানার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬। ০১:২৩ পিএম

আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬। ১৩:২৫ পিএম

সাংবাদিক নিবন্ধন ও জরিমানার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল

দেশের সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও পেশাগত সনদ দেওয়ার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের কারণে সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিকদের আর্থিক জরিমানা করার ক্ষমতা চেয়েছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের সম্পাদক হওয়ার জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং অন্তত ১০ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার যুক্তিতে প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা বাড়াতে এসব প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়। তবে বৈঠকে উপস্থিত একজন সদস্য জানিয়েছেন, প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হলেও সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও গণমুখী করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রেস কাউন্সিলের তৈরি খসড়ায় দুটি আইন সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। এগুলো হলো ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন এবং ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন।

এর মধ্যে প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনে ১৯টি এবং ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইন সংশোধনে সাতটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব মো. আব্দুস সবুর খান জানান, ১৯৭৪ সালের আইন সংশোধনে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তা জানতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল।

এরপর প্রেস কাউন্সিলের সদস্যরা বৈঠক করে বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করেন। আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধনের প্রস্তাবগুলো তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নিজস্ব প্রস্তাবের পাশাপাশি অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রস্তাব একত্র করে সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করে।

সাংবাদিক নিবন্ধন, আর্থিক জরিমানা এবং ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা চাওয়ার বিষয়ে কাউন্সিল সচিব জানান, সদস্যদের আলোচনার ভিত্তিতেই এসব প্রস্তাব তৈরি হয়েছে।

সাংবাদিকদের জন্য নিবন্ধন ও সনদ চালুর প্রস্তাব

প্রেস কাউন্সিলের খসড়ায় সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আদলে সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও পেশাগত সনদ দেওয়ার ক্ষমতা প্রেস কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং পেশাগত পরিচয় নিশ্চিত করতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এ ছাড়া প্রকৃত সাংবাদিকদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি অনলাইন তথ্যভাণ্ডার তৈরির ক্ষমতা চেয়েছে কাউন্সিল। এর মাধ্যমে ভুয়া সাংবাদিক শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সাংবাদিকদের একই সময়ে একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, সাংবাদিকতার পাশাপাশি আইন পেশা কিংবা শিক্ষকতার মতো অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকা সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার লঙ্ঘন এবং পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ কারণে একই সময়ে দুই বা ততোধিক পেশায় যুক্ত থাকার বিষয়টি আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের কারণে আর্থিক জরিমানার ক্ষমতা

প্রেস কাউন্সিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিকদের আর্থিক জরিমানা করার ক্ষমতা অর্জন।

খসড়ায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা ও জনরুচির পরিপন্থি সংবাদ পরিবেশন এবং পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আর্থিক জরিমানার বিধান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রেস কাউন্সিলকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

বর্তমানে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, সম্পাদক কিংবা সাংবাদিককে সতর্ক করা, ভর্ৎসনা বা নিন্দা জানানোর ক্ষমতা রয়েছে কাউন্সিলের।

তবে বিদ্যমান আইনে আর্থিক জরিমানা করার বিধান নেই।

নতুন প্রস্তাবে প্রেস কাউন্সিলকে ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে জেলা জজ পদমর্যাদার একজন বিচারককে কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং পেশাগত অসদাচরণসংক্রান্ত বিরোধের বিচার শুধু প্রেস কাউন্সিলের অধীনে পরিচালনার ক্ষমতা চেয়েছে সংস্থাটি।

জাতীয় অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর কিংবা জনস্বার্থবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় কাউন্সিলকে নিজ উদ্যোগে তদন্ত ও আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

গুজব, ভুয়া সংবাদ এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগেও একই ধরনের ক্ষমতা চেয়েছে কাউন্সিল।

অনলাইন নিউজ পোর্টালও আসতে পারে প্রেস কাউন্সিলের আওতায়

বর্তমানে প্রচলিত সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার পাশাপাশি তাদের অনলাইন সংস্করণ এবং সব ধরনের ডিজিটাল ও অনলাইন নিউজ পোর্টালকে প্রেস কাউন্সিলের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সম্পাদক ও সাংবাদিকদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতা পাবে কাউন্সিল।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মবের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও চাওয়া হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো সংবাদপত্রের সম্পাদক বা প্রকাশক অভিযোগ করলে কাউন্সিল তা তদন্ত করতে পারবে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে নিজ উদ্যোগেও তদন্ত পরিচালনা করতে পারবে।

এ ধরনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক নির্দেশনা জারির ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হুমকি, ভয়ভীতি বা হামলার শিকার হলে প্রেস কাউন্সিলে আবেদন করার সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবে সংস্থাটি।

এ ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে মামলার মুখোমুখি হওয়া সাংবাদিকদের সহায়তায় প্রেস কাউন্সিলের অধীনে একটি আইনগত সহায়তা সেল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবাদিকদের পেশাগত অসদাচরণের বিচার শুধু প্রেস কাউন্সিলের অধীনে রাখার প্রস্তাব গ্রহণ করা না হলে আইনগত সহায়তা সেল গঠনের বিষয়টি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

নিয়োগপত্র ও বেতন না দিলে সংবাদপত্রের ঘোষণাপত্র বাতিলের প্রস্তাব

সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতেও বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেস কাউন্সিল।

খসড়া অনুযায়ী, কোনো সংবাদপত্রের মালিক নিয়োগপত্র ছাড়া সাংবাদিককে কাজে নিয়োজিত করলে কিংবা নিয়োগপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের অন্তত তিন মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের ঘোষণাপত্র বাতিলের বিধান যুক্ত করা উচিত।

এ জন্য ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইনের ২০ ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে কোনো সংবাদপত্র বা সংবাদ সংস্থা সাংবাদিককে নিয়োগপত্র দিতে কিংবা নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারবেন।

এসব অভিযোগ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা চেয়েছে কাউন্সিল।

তবে এ ধরনের ক্ষমতা কার্যকর করতে ২০০৬ সালের শ্রম আইনের সঙ্গে এখতিয়ারের বিরোধ দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে খসড়ায়।

কারণ সাংবাদিকদের নিয়োগ, বেতন-ভাতা এবং শ্রমসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান বিদ্যমান শ্রম আইনেও রয়েছে।

সম্পাদক হতে স্নাতক ডিগ্রি ও ১০ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব

সংবাদপত্রের সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণেও বড় পরিবর্তন আনতে চায় প্রেস কাউন্সিল।

সংস্থাটির প্রস্তাব অনুযায়ী, সম্পাদক হতে হলে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সাংবাদিকতায় কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাও বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান আইনে সম্পাদকের যুক্তিসংগত শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা সাংবাদিকতায় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কিংবা অভিজ্ঞতা থাকার বিধান রয়েছে।

তবে প্রেস কাউন্সিলের মতে, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড না থাকায় যে কেউ সংবাদপত্রের সম্পাদক হতে পারছেন।

এর ফলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও মানসম্মত সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে খসড়ায় দাবি করা হয়েছে।

এই যুক্তিতে ১৯৭৩ সালের ছাপাখানা ও প্রকাশনা আইনের ১২(২)(জ) ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা যাচাই ও নিয়মিত নিরীক্ষার প্রস্তাব

সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত তালিকাভুক্ত সংবাদপত্রগুলোর জন্য প্রতিবছর নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে খসড়ায়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব প্রতিবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে জমা দিতে হবে।

সংবাদপত্রের প্রকৃত প্রচারসংখ্যা যাচাই, সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং সংবাদপত্রশিল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছে কাউন্সিল।

একই সঙ্গে সংবাদপত্র নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসন, ডিএফপি ও প্রেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বিত কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটিকে সংবাদপত্রের কার্যালয় পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৯৭৩ সালের আইনের অধীনে সংবাদপত্রের ঘোষণাপত্র প্রদান ও বাতিলের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করতে বিধিমালা তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, আইনটি প্রণয়নের ৫৩ বছর পরও প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি হয়নি। ফলে সংবাদপত্রের ঘোষণাপত্র প্রদান ও বাতিল, নিয়মিত প্রকাশনা তদারকি এবং প্রেস আপিল বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

২০২২ সালে জারি করা সংবাদপত্র ও সাময়িকীর মিডিয়া তালিকাভুক্তি এবং নিরীক্ষা নীতিমালার আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রেস কাউন্সিল।

খসড়ার দাবি অনুযায়ী, ওই নীতিমালার ভিত্তিতে ডিএফপির সুপারিশ অনুসারে কিছু সংবাদপত্রের ঘোষণাপত্র বাতিলের আদেশ দেওয়া হচ্ছে, যা ১৯৭৩ সালের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

প্রেস কাউন্সিলের বক্তব্য, বিদ্যমান আইনে সংবাদপত্রের ঘোষণাপত্র বাতিলের ক্ষমতা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের।

এ কারণে আইনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সংজ্ঞা যুক্ত করা, সংবাদপত্র প্রকাশের পর বিনামূল্যে চার কপি জমা দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ এবং আইন বাস্তবায়নে ডিএফপির দায়িত্ব স্পষ্ট করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রেস কাউন্সিলের স্বাধীনতা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে আরও স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আইনে এর স্বাধীন সংবিধিবদ্ধ সংস্থার মর্যাদা স্পষ্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ঢাকার বাইরে প্রয়োজন অনুযায়ী শাখা কার্যালয় স্থাপনের ক্ষমতাও চেয়েছে সংস্থাটি।

বর্তমানে প্রেস কাউন্সিল মূলত সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব আয়ের উৎস তৈরি করতে সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যার ওপর ১ শতাংশ অথবা নির্ধারিত হারে লেভি বা চাঁদা আদায়ের ক্ষমতা চাওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল এবং গবেষণা পরিচালনার জন্য পৃথক গবেষণা সেল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।

অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের সম্পাদককে অভিযোগকারীর সঙ্গে আলোচনা করে বিরোধ মীমাংসার নির্দেশ দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করতে চায় কাউন্সিল।

এ ছাড়া কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে জনবল বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে প্রেস কাউন্সিলে ১৫টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। আরও দুটি পদ সৃষ্টির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী কার্যালয়ের জন্য রাজধানীর ৪০ তোপখানা রোডের জমি স্থায়ীভাবে ইজারা দেওয়া এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাবও রয়েছে।

তবে সাংবাদিক নিবন্ধন, জরিমানা, ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও সম্পাদক নিয়োগে নতুন যোগ্যতার শর্তসহ এসব বিষয় এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হলেও সংশ্লিষ্ট বৈঠকে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়নি। ফলে আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলো কার্যকর হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে