ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার মামলায় বাবা ও দুই ছেলেসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত বিচারক ফারজানা আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) হাবিবুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ত্রিশাল উপজেলার কাহিহারী ইউনিয়নের বাগাদাড়িয়া গ্রামের আব্দুল সাত্তার বেপারী, তার দুই ছেলে আলমগীর হোসেন ওরফে আলম বেপারী ও রনি বেপারী এবং একই এলাকার আশিকুর রহমান ওরফে আশিক।
রায় ঘোষণার সময় চার আসামির মধ্যে শুধু আব্দুল সাত্তার বেপারী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য তিন আসামি অনুপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাবিবুর রহমান জানান, ২০১১ সালের ২৮ মে জমির ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সোহেলের সঙ্গে আসামিদের কথা-কাটাকাটি হয়। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একপর্যায়ে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান।
হামলায় সোহেল গুরুতর আহত হলে প্রথমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত সোহেলের বাবা আব্দুল সালাম বেপারী ২০১১ সালের ২ জুন ত্রিশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ২০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার চার আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জানান, আদালত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে দণ্ডপ্রাপ্তদের অতিরিক্ত এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তবে আদালতের এই রায়ে সন্তুষ্ট নন নিহত সোহেলের পরিবারের সদস্যরা। রায় ঘোষণার পর তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।