Logo
Logo
×

খবর ।  অফবিট

ডিএসসিসিতে ১০০ টাকার বেশি ময়লা বিল

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০৩:২৩ পিএম

ডিএসসিসিতে ১০০ টাকার বেশি ময়লা বিল

বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মাসে ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করলেও বিভিন্ন এলাকায় তা মানা হচ্ছে না। কোথাও ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, আবার অতিরিক্ত টাকার কোনো রসিদও দেওয়া হচ্ছে না। বেশি টাকা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ না করার অভিযোগও করেছেন নগরবাসী।

ধানমন্ডির এক বাসিন্দা জানান, তাঁর বাসায় প্রতি মাসে ১২০ টাকার ময়লা বিলের রসিদ দেওয়া হয়। তবে এর সঙ্গে আরও ৫০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়। অতিরিক্ত এই টাকার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। একই এলাকার আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকার বাসিন্দা আরভীন সোনিয়া বলেন, তাঁদের কাছ থেকে এখনো প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে ময়লার বিল নেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে না। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে দুই বা তিন দিন পরপর কর্মীরা ময়লা নিতে আসছেন।

পুরান ঢাকার কায়েতটুলী এলাকার এক বাসিন্দার ভাষ্য, তাঁদের এলাকায় প্রতিটি বাসা থেকে মাসে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হলেও সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন ময়লা সংগ্রহ করা হয়। নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ না হওয়ায় চলতি মাস থেকে তাঁরা নিজেরাই ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসছেন।

ডিএসসিসির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল রোড এলাকার এক বাসিন্দাও জানান, তাঁদের ভবনে প্রতি ফ্ল্যাট থেকে মাসে ২০০ টাকা করে ময়লার বিল নেওয়া হচ্ছে।

নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা

বাসাবাড়ি থেকে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহের জন্য মাসে ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে ডিএসসিসি। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও রসিদে একটি নির্ধারিত অঙ্ক দেখিয়ে তার বাইরে নগদ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও বেশি টাকা নেওয়ার পরও নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে না।

ফলে বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির সামনে ময়লা জমে থাকা, দুর্গন্ধ ছড়ানো এবং পরিবেশগত ভোগান্তির অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা।

ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মকর্তার গাফিলতি থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদারকির নির্দেশ, মাঠে প্রভাব কম

বর্জ্য সংগ্রহে অনিয়ম ঠেকাতে গত ৪ জুন ডিএসসিসির সচিবের সই করা এক অফিস আদেশে ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করছে কি না, বাসাবাড়ি থেকে ১০০ টাকার বেশি ফি নেওয়া হচ্ছে কি না এবং সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের কার্যক্রম ঠিকভাবে চলছে কি না এসব বিষয় তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি সাত দিন পরপর ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে নির্দেশনার প্রায় তিন মাস পরও এর দৃশ্যমান প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সাত দিন পরপর প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়মিত জমা পড়ছে না।

ফলে কোন ওয়ার্ডে কত টাকা বর্জ্য সংগ্রহ ফি নেওয়া হচ্ছে, কোথায় নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ হচ্ছে না এবং কোন প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শর্ত ভাঙছে—এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এলাকাভেদে ভিন্ন চিত্র

ধানমন্ডি ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর আওতাভুক্ত। ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. মাছুম বিল্লাহ জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং তদারকি ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনার বিষয়ে অবগত নন। তবে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে মীর হাজীরবাগসহ যাত্রাবাড়ী অঞ্চল-৫-এর আওতাভুক্ত। ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে