প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
কম্বোডিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাবনার সুজানগরের আল-আমিনের মরদেহ দেড় বছর পেরিয়েও দেশে ফিরতে পারেনি। দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতার পর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ব্যাংককের বন্যার কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবার।
২০২০ সালে জীবিকার সন্ধানে কম্বোডিয়ায় যান পারঘোড়দহ গ্রামের আল-আমিন। ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল দেশটির সিহানুক সিটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ১০ দিন পর মরদেহ দেশে ফেরাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করে পরিবার।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। স্বামীর মরদেহ গ্রহণ করতে রাত সাড়ে ৩টার দিকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে যান স্ত্রী মুন্নি খাতুন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অপেক্ষার মধ্যেই তাঁকে জানানো হয়, ব্যাংকের বন্যার কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং ওই দিন মরদেহ আসছে না।
বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ফ্লাইট চালু হওয়ার কথা থাকলেও আল-আমিনের মরদেহ কবে দেশে পৌঁছাবে, তা পরিবারকে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন মুন্নি। তাঁর দুই ছেলের বয়স ১৫ ও ৯ বছর। সরকারি কোনো আর্থিক সহায়তা বা অনুদান এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি। সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পাবনায় টিউশনি করছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁকে কিছু সহায়তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আল-আমিনের ব্যাংকে রাখা কিছু সঞ্চয়ের লভ্যাংশ দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর শ্যালক মাসুম খান।
মরদেহ দেশে ফিরতে এত সময় লাগার পেছনে নথিপত্র ও যোগাযোগের জটিলতাকে দায়ী করেছে পরিবার। কম্বোডিয়ায় তাঁদের কোনো আত্মীয় বা পরিচিত না থাকায় দুর্ঘটনার পর মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে এবং দেশে ফেরাতে কী ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন—এসব তথ্য পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
পরিবারের অভিযোগ, আবেদন করার পরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা স্পষ্ট নির্দেশনা তারা শুরুতে পায়নি। নিজেদের উদ্যোগে পাসপোর্ট ও ভিসার কপি জমা দেওয়া হয়েছিল।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিদেশে কারও মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। মৃত্যুর কারণ, কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য এনওসি, মৃত্যু সনদ ও অন্যান্য ক্লিয়ারেন্স দরকার হয়।
কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের সরাসরি দূতাবাস না থাকায় থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিএমইটি নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় নথি ঠিক থাকলে মরদেহ দেশে ফেরাতে বাধা থাকার কথা নয়।
দীর্ঘ দেড় বছর হিমঘরে থাকার পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহায়তায় আল-আমিনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। তবে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের একজন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়া একজন কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ ফেরাতে এত দীর্ঘ সময় কেন লাগবে। তাঁর মতে, যেসব দেশে বাংলাদেশের সরাসরি কনস্যুলার সেবা সীমিত, সেখানে কর্মী পাঠানোর আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ অভিবাসন শুধু বিদেশে যাওয়ার অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিপদের সময় আইনি সহায়তা, মৃত্যুর পর মরদেহ দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরানো এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
আল-আমিনের মরদেহ শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলেও দেড় বছরের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও পরিবারের মানসিক যন্ত্রণার ক্ষত সহজে কাটবে না। ভবিষ্যতে অন্য কোনো পরিবারকে যেন একই পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য দ্রুত প্রশাসনিক সমন্বয় ও নীতিগত সংস্কারের দাবি উঠেছে।
কম্বোডিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাবনার সুজানগরের আল-আমিনের মরদেহ দেড় বছর পেরিয়েও দেশে ফিরতে পারেনি। দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতার পর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ব্যাংককের বন্যার কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবার।
২০২০ সালে জীবিকার সন্ধানে কম্বোডিয়ায় যান পারঘোড়দহ গ্রামের আল-আমিন। ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল দেশটির সিহানুক সিটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ১০ দিন পর মরদেহ দেশে ফেরাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করে পরিবার।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। স্বামীর মরদেহ গ্রহণ করতে রাত সাড়ে ৩টার দিকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে যান স্ত্রী মুন্নি খাতুন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অপেক্ষার মধ্যেই তাঁকে জানানো হয়, ব্যাংকের বন্যার কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং ওই দিন মরদেহ আসছে না।
বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ফ্লাইট চালু হওয়ার কথা থাকলেও আল-আমিনের মরদেহ কবে দেশে পৌঁছাবে, তা পরিবারকে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন মুন্নি। তাঁর দুই ছেলের বয়স ১৫ ও ৯ বছর। সরকারি কোনো আর্থিক সহায়তা বা অনুদান এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি। সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পাবনায় টিউশনি করছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁকে কিছু সহায়তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আল-আমিনের ব্যাংকে রাখা কিছু সঞ্চয়ের লভ্যাংশ দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর শ্যালক মাসুম খান।
মরদেহ দেশে ফিরতে এত সময় লাগার পেছনে নথিপত্র ও যোগাযোগের জটিলতাকে দায়ী করেছে পরিবার। কম্বোডিয়ায় তাঁদের কোনো আত্মীয় বা পরিচিত না থাকায় দুর্ঘটনার পর মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে এবং দেশে ফেরাতে কী ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন—এসব তথ্য পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।
পরিবারের অভিযোগ, আবেদন করার পরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা স্পষ্ট নির্দেশনা তারা শুরুতে পায়নি। নিজেদের উদ্যোগে পাসপোর্ট ও ভিসার কপি জমা দেওয়া হয়েছিল।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিদেশে কারও মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। মৃত্যুর কারণ, কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য এনওসি, মৃত্যু সনদ ও অন্যান্য ক্লিয়ারেন্স দরকার হয়।
কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের সরাসরি দূতাবাস না থাকায় থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিএমইটি নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় নথি ঠিক থাকলে মরদেহ দেশে ফেরাতে বাধা থাকার কথা নয়।
দীর্ঘ দেড় বছর হিমঘরে থাকার পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহায়তায় আল-আমিনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। তবে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের একজন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়া একজন কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ ফেরাতে এত দীর্ঘ সময় কেন লাগবে। তাঁর মতে, যেসব দেশে বাংলাদেশের সরাসরি কনস্যুলার সেবা সীমিত, সেখানে কর্মী পাঠানোর আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ অভিবাসন শুধু বিদেশে যাওয়ার অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিপদের সময় আইনি সহায়তা, মৃত্যুর পর মরদেহ দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরানো এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
আল-আমিনের মরদেহ শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলেও দেড় বছরের অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও পরিবারের মানসিক যন্ত্রণার ক্ষত সহজে কাটবে না। ভবিষ্যতে অন্য কোনো পরিবারকে যেন একই পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য দ্রুত প্রশাসনিক সমন্বয় ও নীতিগত সংস্কারের দাবি উঠেছে।