Logo
Logo
×

লাইফস্কেপ ।  প্রসপার

বিদেশের সৈকত থেকে বছরে ৮ সপ্তাহ কাজের সুযোগ, বিতর্কে জার্মানির ‘মায়োর্কা নিয়ম’

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬। ০১:৩৪ পিএম

আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬। ১৫:১০ পিএম

বিদেশের সৈকত থেকে বছরে ৮ সপ্তাহ কাজের সুযোগ, বিতর্কে জার্মানির ‘মায়োর্কা নিয়ম’

জার্মানির সরকারি চাকরিজীবীরা এখন দেশের বাইরে ইউরোপের বিভিন্ন সমুদ্রসৈকত থেকে বসেই বছরে সর্বোচ্চ আট সপ্তাহ বা প্রায় দুই মাস পর্যন্ত অফিসের কাজ করতে পারছেন। ‘মায়োর্কা নিয়ম’ নামে পরিচিত এই সুবিধার আওতায় কর্মীরা বিদেশে অবস্থান করেও নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে জার্মানির জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড বিল্ডুএর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানির ফেডারেল মোটর ট্রান্সপোর্ট অথরিটি এই নিয়মে সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে। সংস্থাটির কর্মীরা বিদেশে থেকে সর্বোচ্চ ৪০ দিন পর্যন্ত দূরবর্তীভাবে কাজ করতে পারেন। ফলে স্পেন, ইতালি কিংবা গ্রিসের সমুদ্রসৈকতে অবস্থান করেও সরকারি পরিবহন কর্মকর্তারা নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন।

শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশেই নয়, বিশেষ ক্ষেত্রে ইইউর বাইরের দেশ থেকেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ কানাডা, থাইল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও দীর্ঘ সফরের পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।

তথ্য নিরাপত্তা দপ্তরসহ আরও কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ১০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত বিদেশ থেকে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সব বিভাগে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, মার্কেট কম্পিটিশন রেগুলেশন বিভাগে বিদেশ থেকে কাজ করার অনুমতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিল্ডুএর প্রতিবেদন প্রকাশের পর জার্মানির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘মায়োর্কা নিয়ম’ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মীদের জন্য চালু থাকা হোম অফিস ও দূরবর্তী কাজের নীতিমালা পর্যালোচনা করছে।

বিদেশে বসে সরকারি কাজ করার এই সুযোগের কড়া সমালোচনা করেছে জার্মানির পুলিশ ইউনিয়ন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাইকো টেগাটজের ভাষ্য, এই ব্যবস্থা অন্যায্য এবং দ্রুত পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কিছু কর্মকর্তা সমুদ্রসৈকতে বসে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, অথচ অন্যরা তা পাচ্ছেন না—এটি বৈষম্যমূলক।

অন্যদিকে সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন এই সুবিধার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান সময়ে মোবাইল ওয়ার্কিংয়ের সুযোগ আরও বিস্তৃত ও নমনীয় হওয়া উচিত।

করোনা মহামারির সময় জার্মানির সরকারি দপ্তরগুলোতে দূরবর্তী কাজের প্রচলন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহামারি শেষ হলেও সেই কর্মসংস্কৃতির অনেকটাই এখনও বহাল রয়েছে।

তবে জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মনে করেন, দেশের দুর্বল অর্থনীতি ও পেনশন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে কর্মসংস্কৃতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি ২০৯০-এর দশকের মধ্যে অবসরের বয়স ৭০ বছরে উন্নীত করার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং জার্মানদের আরও দীর্ঘ সময় ও কঠোরভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

একসময় ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত জার্মানি বর্তমানে জ্বালানির উচ্চ মূল্য, মোটরগাড়ি শিল্পের মন্দা এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দ্রুত বার্ধক্যের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

একই ধরনের বিতর্ক সম্প্রতি যুক্তরাজ্যেও দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ট্যাক্সপেয়ার্স অ্যালায়েন্স (টিপিএ)ুএর এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, দেশটির শত শত সরকারি কর্মকর্তা গ্রিস, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দূরবর্তীভাবে অফিসের কাজ করছেন।

যদিও যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট অফিস জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যের অসুস্থতা বা মৃত্যুর মতো বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই বিদেশ থেকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে টিপিএুএর তদন্ত প্রচার ব্যবস্থাপক ক্যালাম ম্যাকগোল্ডরিকের অভিযোগ, যখন যুক্তরাজ্যের সরকারি সেবার গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন করদাতাদের অর্থে শত শত কর্মকর্তাকে স্পেন, অস্ট্রেলিয়া বা ব্রাজিলের মতো দেশ থেকে লগ-ইন করে কাজ করার সুযোগ দেওয়া নমনীয় কর্মব্যবস্থার সীমা ছাড়িয়ে এক ধরনের ‘করদাতাদের অর্থে বিশ্বভ্রমণে’ পরিণত হয়েছে।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে