Logo
Logo
×

ভিজ্যুয়াল ।  রিলস

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে আলোয় ঝলমল নিউইয়র্ক

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬। ১২:৫৭ পিএম

আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬। ১৪:২১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে স্বাধীনতা দিবস। ‘আমেরিকা–২৫০’ উদযাপনের অংশ হিসেবে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির পাশাপাশি নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, বোস্টন, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও হিউস্টনসহ বিভিন্ন শহরে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সামরিক কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট এবং জমকালো আতশবাজির প্রদর্শনী।

তবে এবারের আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল নিউইয়র্ক সিটি। স্বাধীনতার ঐতিহাসিক এ মাইলফলক উদযাপন দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষ জড়ো হন শহরটিতে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই ইস্ট রিভার, ব্রুকলিন ব্রিজ, ম্যানহাটনের নদীতীরসহ আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও পর্যটকদের উপস্থিতিতে পুরো শহর যেন এক বিশাল উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

রাত নামতেই শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাসির ফোর্থ অব জুলাই ফায়ারওয়ার্কস। ইস্ট রিভারে স্থাপিত বিশেষ বার্জ থেকে একের পর এক হাজারো আতশবাজি ছোড়া হয়। লাল, নীল, সাদা, সোনালি ও রূপালি রঙের ঝলকে কয়েক মিনিটের জন্য আলোকিত হয়ে ওঠে নিউইয়র্কের আকাশ। স্বাধীনতার প্রতীকী রঙে সাজানো এই প্রদর্শনী মুগ্ধ করে উপস্থিত দর্শকদের। অনেকেই মোবাইল ফোনে মুহূর্তগুলো ধারণ করেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন।

এবারের স্বাধীনতা দিবস ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আমেরিকা–২৫০’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ উপলক্ষে ইতিহাস, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরতে বিভিন্ন শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়।

নিউইয়র্ক হারবারে ঐতিহ্যবাহী পালতোলা জাহাজ, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও বিশেষ প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সামরিক ও বেসামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনা, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইওভার অনুষ্ঠান উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করে। শিশুদের জন্যও ছিল আলাদা বিনোদন ও পারিবারিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।

বৃহৎ এই আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা ছিল নজিরবিহীন। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি), দমকল বিভাগ (এফডিএনওয়াই), কোস্ট গার্ড, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন ছিলেন। নদীপথে বিশেষ টহল, ড্রোন নজরদারি, নিরাপত্তা চৌকি এবং প্রবেশপথে তল্লাশির পাশাপাশি জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়। অতিরিক্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটনকেন্দ্র ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো মানুষ নিউইয়র্কে ভিড় করেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের উদযাপন শহরের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। হোটেল বুকিং, রেস্তোরাঁ ব্যবসা ও খুচরা বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী শুধু একটি উৎসব নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রগঠন, সাংবিধানিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এ আয়োজন জাতীয় ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করেছে।

এদিকে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক। স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন এবং বিশ্বকাপের আবহ মিলিয়ে নিউইয়র্কে তৈরি হয়েছে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের উপস্থিতিতে শহরটি যেন আন্তর্জাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জনসম্পৃক্ততার এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের আকাশজুড়ে চোখধাঁধানো আতশবাজি, লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা স্বাধীনতার এ ঐতিহাসিক উৎসবকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে