বেলা ১টা। আকাশের দিকে তাকানো যাচ্ছে না; যেন আগুন ঝরে পড়ছে। আর ঘরের ভেতরে গৃহিণী সখিনা বেগমের মেজাজ গলে জল হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
সকাল থেকে লোডশেডিংয়ের পঞ্চমবারের মতো মহড়া চলছে। লাইনে গ্যাসও নেই।
সখিনা বেগম এক হাত দিয়ে কপাল থেকে ঘাম মুছলেন, অন্য হাতে ফ্রিজ থেকে মাছ, কেটে রাখা মুরগি আর সবজি নিয়ে সোজা রওনা দিলেন তিন তলার ছাদে।
ছাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। রোদ এত তীব্র যে কংক্রিটের ছাদ লাল হয়ে আছে।
সখিনা বেগম ধীরেসুস্থে রোদের ঠিক মাঝখানে কাপড় টাঙানো দড়িতে মাছ, মাংস ও সবজি ক্লিপ দিয়ে টাঙিয়ে দিলেন। বিড় বিড় করে বললেন, আজ ন্যাচারাল ফ্রাই-ই ভরসা!
পাশের বিল্ডিংয়ের কৌতূহলী প্রতিবেশী ভাবি গ্রিল ধরে চেঁচিয়ে উঠলেন, “ও ভাবি! ছাদে রান্না চড়াইছেন নাকি?”
সখিনা ঘাম মুছতে মুছতে উত্তর দিলেন, “আর বইলেন না ভাবি! বিদ্যুৎ নাই, গ্যাসও নাই। কিন্তু উপরওয়ালা তো ফ্রি-তে ১০০% তাপ পাঠাচ্ছেন! এটাকে কাজে না লাগানো তো এক প্রকার অপচয়।”