দক্ষিণ আফ্রিকান ইঞ্জিনিয়ার কগোথাটসো এনগাকো। তার মনে একটা প্রশ্ন জাগে। বিটকয়েন কি শুধু স্মার্টফোনের মানুষদের জন্য?
মেক্সসি নিউজের প্রতিবেদন বলছে, আফ্রিকার প্রায় ৮৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের বাইরে। তাদের হাতে শুধু পুরোনো ফিচার ফোন। এই বাস্তবতা থেকেই ২০২২ সালে জন্ম নেয় মাচানকুরা। দক্ষিণ আফ্রিকার স্ল্যাংয়ে এর মানে ‘টাকা’।
মাচানকুরার আসল চমক ইউএসএসডি প্রযুক্তিতে। ‘নোটস ফ্রম দ্য মার্জিন’ নামের একটি লেখায় বলা হয়েছে, এই একই কোড দিয়ে মানুষ আগে ব্যালেন্স চেক করত। এখন সেই কোডেই বিটকয়েন পাঠানো যায়। কোনো অ্যাপ লাগে না। স্মার্টফোন লাগে না। ইন্টারনেটও লাগে না। পেছনে কাজ করে লাইটনিং নেটওয়ার্ক। লেনদেন হয় প্রায় মুহূর্তেই। খরচও নেই বললেই চলে।
কয়েনডেস্কের একটি প্রতিবেদন (ফ্র্যাংক করভা, সাবস্ট্যাক) জানাচ্ছে, সেবাটি এখন সাতটি আফ্রিকান দেশে চালু। কেনিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া- সবই আছে তালিকায়। এক বছরেই ব্যবহারকারী বেড়েছে চারগুণ। আরেকটি প্রতিবেদন (ফাইভ আতোশি নাকামোতো) বলছে, জাম্বিয়ার গ্রামীণ বাজারেও পৌঁছে গেছে এই সেবা। সেখানে মুদ্রার মান পড়ছে দ্রুত।
মাচানকুরার গল্প তাই শুধু ক্রিপ্টোর নয়। এটা প্রমাণ করে একটা কথা। উদ্ভাবন মানে সবসময় নতুন কিছু বানানো নয়। কখনো কখনো পুরোনো প্রযুক্তিকেই নতুন কাজে লাগানো, সেটাই আসল উদ্ভাবন।