Logo
Logo
×

হুক ।  ভাবনা

‘ডিপ-ওয়ার্ক’ যেন ঘুরে দাঁড়ানোর উপায়

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬। ০৬:৪০ পিএম

আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬। ১৮:৩৭ পিএম

‘ডিপ-ওয়ার্ক’ যেন ঘুরে দাঁড়ানোর উপায়

সকাল ৯টা। ল্যাপটপ খুললেন কাজ করার জন্য। কিন্তু ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় ইমেইলের নোটিফিকেশন এলো। এরপর ফেসবুকের কোনো এক ভাইরাল নিউজ। দুপুরের খাবার আর কফি ব্রেকে সময় কাটিয়ে যখন বিকেলের দিকে তাকালেন, তখন মনে হলো সারাদিন তো অনেক ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু কাজের খাতা আসলে শূন্য।

এমন অনুভূতির সঙ্গে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। আধুনিক কর্মজীবনের এই অগোছালো অবস্থাকে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক ক্যাল নিউপোর্ট অভিহিত করেছেন ‘শ্যালো ওয়ার্ক’ বা অগভীর কাজের ধারা হিসেবে। তার মতে, আমরা প্রযুক্তির যুগে বাস করছি ঠিকই, কিন্তু মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বা ‘ডিপ-ওয়ার্ক’ হারিয়ে ফেলছি।

কেন আমরা ফোকাস হারাচ্ছি? 

আমাদের মস্তিষ্ক সারাদিন খণ্ডিত মনোযোগ বা ফ্রাগমেন্টেড অ্যাটেনশনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। বারবার ইমেইল চেক করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার ফলে আমাদের মস্তিষ্ক ‘অ্যাটেনশন রেসিডিউ’ বা মনোযোগের অবশিষ্টাংশের সমস্যায় ভোগে। অর্থাৎ, এক কাজ থেকে অন্য কাজে সুইচ করার সময় আগের কাজের রেশ মস্তিষ্কে থেকে যায়, ফলে কোনো কাজেই শতভাগ মেধা দেওয়া সম্ভব হয় না।

ডিপ-ওয়ার্ক যেন ঘুরে দাঁড়ানোর উপায় 

ক্যাল নিউপোর্টের ভাষায়, ডিপ-ওয়ার্ক হলো— “কোনো বিভ্রান্তিহীন অবস্থায় জ্ঞানভিত্তিক কাজের ওপর নিবিড় মনোযোগ দেওয়া, যা আপনার সৃজনশীলতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।” এটি এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে আপনি সময়ের প্রবাহ বুঝতে পারেন না, শুধু কাজের গভীরে ডুব দিতে পারেন।

কীভাবে অভ্যাসে পরিণত করবেন?

মনোযোগের ‘ওয়ার্কআউট’ শুরু করুন: যেমন জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করতে হয়, তেমনি মনোযোগকেও ট্রেইন করতে হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ফোন বা ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শুধু একটি নির্দিষ্ট প্রজেক্টে কাজ করার চেষ্টা করুন।

৯-৫ নয়, ফোকাসের সময় গোনা: ৮ ঘণ্টা অফিসে বসে থাকলেই কাজের মান বাড়ে না। এর বদলে দিনের সেরা ২ বা ৩ ঘণ্টা সময় বেছে নিন, যখন আপনার মস্তিষ্ক সবচেয়ে সতেজ থাকে। এই সময়টুকু রাখুন আপনার সবচেয়ে জটিল বা সৃজনশীল কাজের জন্য।

ডিজিটাল ফাস্টিং: দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় রাখুন যখন আপনার ফোন ও ইমেইল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। শুরুতে এটি কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু এটিই হবে আপনার প্রোডাক্টিভিটির টার্নিং পয়েন্ট। 

এটি কি শুধু কাজের জন্য?

না। ডিপ-ওয়ার্ক কেবল অফিসের ডেডলাইন শেষ করার মন্ত্র নয়, এটি জীবনযাত্রারও অংশ। বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা কোনো শখ পূরণেও যখন আপনি পুরোপুরি মন দিতে পারেন, তখন সেটিই হয়ে ওঠে আপনার ব্যক্তিগত ‘ডিপ-ওয়ার্ক’। এটি আপনার মানসিক প্রশান্তি ও জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

প্রযুক্তির যুগে টিকে থাকার কৌশল

আমরা এখন যে সময় পার করছি, সেখানে তথ্যের অভাব নেই, অভাব আছে মনোযোগের। এআই ও অটোমেশনের এই যুগে, যারা জটিল ও গভীর চিন্তার কাজ করতে পারবেন, তারাই হবেন বাজারের সেরা সম্পদ। আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি যেন আপনার মনোযোগের নিয়ন্ত্রক না হয়ে যায়, বরং আপনি যেন তার নিয়ন্ত্রক হন—সেটিই ডিপ-ওয়ার্কের মূল দর্শন। 

পরেরবার যখন কাজে বসবেন, তখন ল্যাপটপের পাশে মোবাইল ফোনটি উল্টো করে রাখুন। ইন্টারনেটের প্রলোভন থেকে নিজেকে সরিয়ে মাত্র ৯০ মিনিটের একটি ‘ডিপ সেশন’ দিয়ে দেখুন। দেখবেন, যে কাজ করতে আপনার দিন লেগে যেত, তা হয়তো মাত্র দুই ঘণ্টায়ই পূর্ণতা পেয়েছে।

 




যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে