ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ, কমিশন বৃদ্ধি ও গ্যাসের দাম নির্ধারণে নিয়ম মানাসহ কয়েক দফা দাবিতে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।
দুই দিনের এই কর্মসূচির মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান। তিনি জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টানা দুই দিন দেশের সব এলপি গ্যাসের দোকান বন্ধ রাখা হবে।
ব্যবসায়ীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এলপিজি পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানো, কোম্পানিগুলোর ইচ্ছামতো মাসে একাধিকবার গ্যাসের দাম বাড়ানো বন্ধ করা এবং মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার ব্যবস্থা করা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের অযৌক্তিক জরিমানা আরোপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর দেশের বাজারে এলপিজির দাম বাড়ায় বিইআরসি। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে সিলিন্ডারটির দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
তবে সরকারি নির্ধারিত দামের তুলনায় বাজারে ক্রেতাদের আরও ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে অনেক ক্ষেত্রে ২ হাজার ৩৩৭ থেকে ২ হাজার ৪৩৭ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
এলপিজি পরিবেশকদের দাবি, তাদের কমিশন না বাড়ানো হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হবে না।
এ কারণে প্রতি সিলিন্ডারে কমিশন বর্তমান ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার দাবি জানিয়ে গত ৮ অক্টোবর বিইআরসির কাছে চিঠি দিয়েছেন পরিবেশকেরা।
কমিশন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবি আদায়ে এবার দেশব্যাপী দুই দিনের দোকান বন্ধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।