ডেটা সেন্টারের বলি ৪২০ ফুটবল মাঠসমান বন, কাঠগড়ায় গুগল
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬। ০৩:২১ পিএম
আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬। ১৫:২৪ পিএম
ছবি: এএফপি
প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬। ০৩:২১ পিএম
আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬। ১৫:২৪ পিএম
ছবি: এএফপি
ফিনল্যান্ডে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য ৩০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে টেক জায়ান্ট গুগলের বিরুদ্ধে। এই আয়তন প্রায় ৪২০টি ফুটবল মাঠের সমান।
প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও ছাড়পত্র ছাড়া বনভূমি পরিষ্কার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে দেশটির তদারকি সংস্থা।
উত্তর ফিনল্যান্ডের মুহোস এলাকায় গুগলের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান তুইকে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ফিনিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশন।
সংগঠনটির দাবি, প্রকল্পটি পরিবেশ আইন মেনে চলছে কি না, তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা উচিত। স্যাটেলাইট চিত্রে সংরক্ষণ করার কথা থাকা কিছু প্রাকৃতিক এলাকাতেও গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
তবে গুগল দাবি করেছে, ফিনল্যান্ডের বন আইন অনুসরণ করেই গাছ কাটার কাজ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
গুগলের ফিনল্যান্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক সন্ড্রে রোনান্ডারের ভাষ্য, জমি বিন্যাস ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরো এলাকায় বিস্তারিত প্রাকৃতিক জরিপ করা হয়েছে। বনসংক্রান্ত কাজের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক এলাকা সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
এই ডেটা সেন্টার প্রকল্প ইউরোপে গুগলের বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। আগামী দুই বছরে ফিনল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো বা প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
মুহোস পৌরসভায় গুগলের অধিগ্রহণ করা জমিতে ইতোমধ্যে ভারী যন্ত্র দিয়ে মাটি ও বনভূমি পরিষ্কারের কাজ চলছে। প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাছের নির্মাণ এলাকায় নিয়মিত ট্রাক ও ভারী যন্ত্রপাতির চলাচলও শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, এই বিনিয়োগ এলাকার অর্থনীতিতে গতি আনতে পারে। তবে বিশাল ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
গুগল মুহোসের পাশাপাশি কাজানি ও ভালা পৌরসভায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। হামিনায় প্রতিষ্ঠানটির আগে থেকেই একটি ডেটা সেন্টার রয়েছে।
মাত্র ৮ হাজার ৮০০ মানুষের মুহোস পৌরসভায় এত বড় শিল্প বিনিয়োগ নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, নির্মাণকাজের সময় বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার কর্মী সেখানে আসতে পারেন। তাঁদের আবাসন ও অন্যান্য নাগরিক সেবার ব্যবস্থাও করতে হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিনল্যান্ডে ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিনিয়োগ দ্রুত বেড়েছে। দেশটির ঠান্ডা জলবায়ু এবং পরমাণু, বায়ু ও জলবিদ্যুৎ থেকে তুলনামূলক স্থিতিশীল ও কম কার্বন নিঃসরণের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও উচ্চ বেকারত্বের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ফিনল্যান্ড সরকারও ডেটা সেন্টার প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তবে গুগলের পাশাপাশি মাইক্রোসফট ও টিকটকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পিত ডেটা সেন্টার ঘিরে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এসব স্থাপনার বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা, সম্ভাব্য বিদ্যুৎমূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার ও পরিবেশ সুরক্ষায় আরও কঠোর নিয়মের দাবিতে শুরু হওয়া একটি নাগরিক আবেদনে মাত্র তিন দিনে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষর পাওয়ায় বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার আওতায় আসছে।
ফলে গুগলের এই বিশাল বিনিয়োগ একদিকে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করলেও, অন্যদিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র, বন উজাড় এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রশ্নে ফিনল্যান্ডে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬। ০৩:২১ পিএম
আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬। ১৫:২৪ পিএম
ফিনল্যান্ডে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য ৩০০ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে টেক জায়ান্ট গুগলের বিরুদ্ধে। এই আয়তন প্রায় ৪২০টি ফুটবল মাঠের সমান।
প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও ছাড়পত্র ছাড়া বনভূমি পরিষ্কার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে দেশটির তদারকি সংস্থা।
উত্তর ফিনল্যান্ডের মুহোস এলাকায় গুগলের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান তুইকে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে ফিনিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশন।
সংগঠনটির দাবি, প্রকল্পটি পরিবেশ আইন মেনে চলছে কি না, তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা উচিত। স্যাটেলাইট চিত্রে সংরক্ষণ করার কথা থাকা কিছু প্রাকৃতিক এলাকাতেও গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
তবে গুগল দাবি করেছে, ফিনল্যান্ডের বন আইন অনুসরণ করেই গাছ কাটার কাজ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
গুগলের ফিনল্যান্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক সন্ড্রে রোনান্ডারের ভাষ্য, জমি বিন্যাস ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরো এলাকায় বিস্তারিত প্রাকৃতিক জরিপ করা হয়েছে। বনসংক্রান্ত কাজের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক এলাকা সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
এই ডেটা সেন্টার প্রকল্প ইউরোপে গুগলের বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। আগামী দুই বছরে ফিনল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো বা প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
মুহোস পৌরসভায় গুগলের অধিগ্রহণ করা জমিতে ইতোমধ্যে ভারী যন্ত্র দিয়ে মাটি ও বনভূমি পরিষ্কারের কাজ চলছে। প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাছের নির্মাণ এলাকায় নিয়মিত ট্রাক ও ভারী যন্ত্রপাতির চলাচলও শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, এই বিনিয়োগ এলাকার অর্থনীতিতে গতি আনতে পারে। তবে বিশাল ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
গুগল মুহোসের পাশাপাশি কাজানি ও ভালা পৌরসভায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। হামিনায় প্রতিষ্ঠানটির আগে থেকেই একটি ডেটা সেন্টার রয়েছে।
মাত্র ৮ হাজার ৮০০ মানুষের মুহোস পৌরসভায় এত বড় শিল্প বিনিয়োগ নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাবে, নির্মাণকাজের সময় বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার কর্মী সেখানে আসতে পারেন। তাঁদের আবাসন ও অন্যান্য নাগরিক সেবার ব্যবস্থাও করতে হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিনল্যান্ডে ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিনিয়োগ দ্রুত বেড়েছে। দেশটির ঠান্ডা জলবায়ু এবং পরমাণু, বায়ু ও জলবিদ্যুৎ থেকে তুলনামূলক স্থিতিশীল ও কম কার্বন নিঃসরণের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও উচ্চ বেকারত্বের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ফিনল্যান্ড সরকারও ডেটা সেন্টার প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তবে গুগলের পাশাপাশি মাইক্রোসফট ও টিকটকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পিত ডেটা সেন্টার ঘিরে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এসব স্থাপনার বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা, সম্ভাব্য বিদ্যুৎমূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার ও পরিবেশ সুরক্ষায় আরও কঠোর নিয়মের দাবিতে শুরু হওয়া একটি নাগরিক আবেদনে মাত্র তিন দিনে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষর পাওয়ায় বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার আওতায় আসছে।
ফলে গুগলের এই বিশাল বিনিয়োগ একদিকে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করলেও, অন্যদিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র, বন উজাড় এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রশ্নে ফিনল্যান্ডে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।