Logo
Logo
×

অর্থনীতি ।  পণ্যবাজার

মাল্টার দামে লাগাম টানতে বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

বাংলাবাজার পত্রিকা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬। ০৪:২৫ পিএম

আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬। ১৬:২৭ পিএম

মাল্টার দামে লাগাম টানতে বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

বাজারে মাল্টা, খেজুরসহ আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত ঋণপত্র বা এলসি খুলে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

একই সঙ্গে মাল্টা অযৌক্তিক দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখা নিয়ে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় মাল্টার বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর, পরিবহনসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ করার পরও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম কীভাবে ৫২০ টাকায় পৌঁছেছে, ব্যবসায়ীদের কাছে তার ব্যাখ্যা চান মন্ত্রী।

অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন তিনি। তার মতে, বাজারে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

ব্যবসায়ীরা সভায় জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মাল্টার দাম বেড়ে যাওয়ার বড় কারণ সরবরাহের ঘাটতি। কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন হয়।

আমদানিকারকদের ভাষ্য অনুসারে, উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণ পর্যায়েও আর্থিক ঝুঁকি বেশি।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শোনার পর মাল্টা আমদানির শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে মাল্টার সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

এদিকে আসন্ন চাহিদা সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। খেজুর আমদানিতে শুল্ক-কর নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা জটিলতা নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও প্রকৃত উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।

সেখান থেকে পাওয়া প্রস্তাব পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের মুখে না পড়েন। একই সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের দাম কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।

সরকার ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকেই স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কোনো একটি পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

সভায় এনবিআরের প্রতিনিধিরা জানান, দেশে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুর আমদানি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃত ক্রয়মূল্যও আলাদা। কিন্তু শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সব সময় এই পার্থক্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও প্রকৃত উৎসমূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহনব্যবস্থা ও বন্দরের জটিলতায় পণ্য বাংলাদেশে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই সময়মতো পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি করতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত জানা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক-কর, শুল্কায়ন ও আমদানিপ্রক্রিয়ায় থাকা যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়েছে।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ফল আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে