প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০১:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৯:৫৯ পিএম
রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বনরুটি ও বিস্কুটের দাম আপাতত না বাড়াতে রাজি হন।
রাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সম্প্রতি বেকারি পণ্যের মূল্য বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীদের দেওয়া ঘোষণা, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারজাতকরণ ব্যয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বেকারি শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে ট্যারিফ কমিশন
বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য, কর ও শুল্কসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেকারি পণ্যের দাম নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
কাঁচামাল ও জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধির দাবি
সম্প্রতি বেকারি পণ্যের বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ার কারণে পণ্যের মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেকারি পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত ময়দা, চিনি, সয়াবিন তেল, ডালডা ও ইস্টসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনেক বেকারিকে পাইপলাইনের গ্যাসের বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।
সংগঠনটির নেতা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানিয়েছিলেন, শনিবার থেকে নতুন দামে বনরুটি ও বিস্কুট বিক্রি শুরু হবে। এ ঘোষণার পরই ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
ভোক্তা স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা সরকারের
সভায় সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে যৌক্তিক মূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






