প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড
অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। ছবি: এআই
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০২:১০ পিএম
আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৯:২০ পিএম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এক মাসে অপ্রচলিত বাজারে এটিই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সর্বোচ্চ পরিমাণ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, শুধু আগস্টেই রেকর্ড রপ্তানি হয়নি, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাকের মাসিক গড় রপ্তানিও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব বাজারে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে।
মোট রপ্তানিতে বেড়েছে অপ্রচলিত বাজারের অংশ
অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও এসব বাজারের অংশ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল অপ্রচলিত বাজার থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এই হার বেড়ে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে নতুন ও অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজার আরও বৈচিত্র্যময় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
জাপান শীর্ষে, এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত
আগস্টে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল জাপান। দেশটিতে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
এরপর অস্ট্রেলিয়ায় ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারতে ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্কে ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রে ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
এ ছাড়া মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
আরও যেসব বাজারে বাড়ছে রপ্তানি
ইপিবির হিসাবে, আগস্টে মালয়েশিয়ায় ১৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন, চিলিতে ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন, রাশিয়ায় ৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
এ ছাড়া অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারে আরও ৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
বড় সম্ভাবনা দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন এসব বাজারে প্রত্যাশিত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এসব বাজারকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।
তার মতে, অপ্রচলিত বাজার মানেই শুধু উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজার নয়। এসব দেশে বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাকের বড় চাহিদা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো মিলিয়ে শত শত বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাজার বহুমুখীকরণের নতুন সুযোগ
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারের পোশাক।
অপ্রচলিত বাজারে আগস্টের রেকর্ড রপ্তানি বাংলাদেশের পোশাক খাতের বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করেছে। নতুন নতুন দেশে রপ্তানি বাড়াতে পারলে প্রচলিত কয়েকটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতিও আরও বিস্তৃত হতে পারে। সূত্র: বাসস




