Logo
Logo
×
বাংলাদেশের ওষুধে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ১৯টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাবে। ছবি: এআই

অর্থনীতি ।  শিল্প ও বাণিজ্য

বাংলাদেশের ওষুধে শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ০১:০৭ পিএম

আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১৮:০৫ পিএম

বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে পেটেন্ট করা কিছু ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার প্রস্তুতি রয়েছে দেশটির।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশকে সেই দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় রাখা হয়েছে, যেখান থেকে যোগ্য বিশেষায়িত ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য শতাংশ অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। অ্যাড ভ্যালোরেম শুল্ক বলতে কোনো পণ্যের আর্থিক মূল্যের ওপর শতাংশের হিসাবে আরোপ করা শুল্ককে বোঝায়।

২৯ সেপ্টেম্বর থেকে অধিকাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পেটেন্ট করা ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে এই শুল্ক ৩১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট দেশ, বিশেষ পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন স্থানান্তরসংক্রান্ত অনুমোদিত চুক্তির ক্ষেত্রে আলাদা শুল্কহার প্রযোজ্য হতে পারে।

এর আগে ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা নির্দিষ্ট পেটেন্ট ওষুধ ও ওষুধের উপাদানে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশটির অভ্যন্তরে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দেশীয় উৎপাদননির্ভর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই নীতি নেওয়া হয়েছে।

যেসব ওষুধে শূন্য শুল্ক

শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় রয়েছে বিরল রোগের জন্য নির্ধারিত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, প্লাজমা থেকে তৈরি থেরাপি, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার ওষুধ, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি, অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট, রাসায়নিক-জৈবিক-রেডিওলজিক্যাল ও পারমাণবিক ঝুঁকি মোকাবিলার চিকিৎসা এবং প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত ওষুধ।

তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিচেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসব দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর বা ভবিষ্যতে কার্যকর হতে যাওয়া বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোসংক্রান্ত চুক্তি থাকায় নির্ধারিত পণ্যগুলো এই সুবিধা পাবে। জরুরি মার্কিন স্বাস্থ্যচাহিদা পূরণ করে—এমন বিশেষায়িত ওষুধের ক্ষেত্রেও শূন্য শুল্কের অনুমোদন চাওয়া যাবে।

পেটেন্ট ও জেনেরিক ওষুধে ভিন্ন নীতি

নতুন নীতিতে পেটেন্ট করা নির্দিষ্ট ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক থাকলেও জেনেরিক ওষুধ এবং সেগুলো তৈরির সংশ্লিষ্ট উপাদানকে আপাতত এই সেকশন ২৩২ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

বাণিজ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি কারিগরি সংশোধনও আনা হয়েছে। ‘জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেলস’-এর সংজ্ঞায় পেটেন্টবিহীন প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবা পণ্যকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ‘ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেলস’-এর সংজ্ঞা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এর মধ্যে প্রস্তুত ওষুধ, সেই ওষুধের সক্রিয় উপাদান এবং সক্রিয় উপাদান তৈরির প্রধান কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে। বিশেষ করে বিরল রোগ, সেল ও জিন থেরাপি, বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা এবং অন্যান্য যোগ্য বিশেষায়িত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে শূন্য শুল্কে মার্কিন বাজারে পণ্য পাঠানোর সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে