নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে সমাজের সব স্তরের মানুষকে ‘বাংলা কিউআর’ভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফুচকা বিক্রেতা, রিকশাচালক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও এই ব্যবস্থায় যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও আমির খসরুকে বর্তমান অর্থমন্ত্রী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজারে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ব্যবস্থায় কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেনের জন্য গ্রাহককে বাড়তি চার্জ বা ফি দিতে হবে না।
তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ফুটপাতের বিক্রেতা কিংবা ছোট ব্যবসায়ী—সবাই সহজে কিউআর কোডের মাধ্যমে ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট আর্থিক সেবার হিসাবে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে নগদ টাকা বহনের প্রয়োজন কমবে এবং অর্থ লেনদেন আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
বাংলা কিউআর এমন একটি আন্তঃসংযুক্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা, যেখানে একটি কিউআর কোড ব্যবহার করেই বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়া যায়। ফলে একজন ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন সেবাদাতার জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড রাখতে হয় না।
বাংলাদেশ ব্যাংক নগদনির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলা কিউআরের ব্যবহার সম্প্রসারণ করছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মার্চেন্ট পর্যায়ে অন্যান্য নিজস্ব বা প্রোপ্রাইটারি কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এই উদ্যোগকে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন ব্যবস্থা বিস্তৃত করার শুরুর দিকে কিছু কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সেগুলো দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।
তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক অর্থনীতিতে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস পেমেন্ট সহজ এবং নিরাপদ লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের ব্যবস্থা সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক হওয়ার পর এর ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার লেনদেনে প্রায় ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আদান-প্রদান হতো। আগস্টের শেষভাগে দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ৩ লাখে এবং মূল্য প্রায় ১১০ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলা কিউআরের পূর্ণ আন্তঃসংযোগ এবং বাধ্যতামূলক ব্যবহার ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণে গতি এনেছে। এই ব্যবস্থাকে আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ ডিজিটাল অর্থনীতি তৈরির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।