প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা ২০২৭ সালের বড় একটি সময়জুড়েও অব্যাহত থাকতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানিতে বিঘ্ন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিজেলের মজুত কমে যাওয়ায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে না আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত মাসিক জ্বালানি বাজার প্রতিবেদনে এমন সতর্কতা দিয়েছে প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি।
আইইএর মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সংকট সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ তাদের জরুরি জ্বালানি মজুত ব্যবহার করায় বিশ্বব্যাপী ডিজেলের সংরক্ষিত মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের বড় একটি সময়জুড়ে গ্যাসঅয়েল বা ডিজেলের বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য তীব্র চাপের মধ্যে থাকবে। পরিস্থিতির উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেলের সরবরাহ কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তার ওপর।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি কমে যাওয়া এবং ইরানের পাল্টা হামলায় সেখানকার শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
আইইএর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে পাইকারি পর্যায়ে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে দাম প্রায় ২২০ ডলারে পৌঁছে, যা ছিল সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়। যদিও এরপর দাম কিছুটা কমেছে, তবু সংকটের আগের তুলনায় তা অনেক বেশি রয়েছে।
জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার জ্বালানির ওপর কর কমানো, ভর্তুকি দেওয়া এবং কৌশলগত জরুরি মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে আইইএ সতর্ক করেছে, এসব ব্যবস্থা সাময়িকভাবে সরবরাহের চাপ কমালেও দীর্ঘমেয়াদে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কারণ জরুরি মজুত থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে, পরবর্তী সময়ে তা আবার পূরণ করতে হবে।
বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ঘাটতি অব্যাহত থাকলে এই মজুত পুনর্গঠনও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক নাগাদ বৈশ্বিক শোধনাগারগুলোর উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ।
সংস্থাটির ধারণা, আগামী বছরের শুরুতে শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার হলে ডিজেলের বাজারে সাময়িকভাবে সরবরাহ উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে। এর ফলে জ্বালানির মজুত স্বাভাবিক মৌসুমি ধারায় ফিরতে শুরু করবে।
তবে এই অতিরিক্ত উৎপাদনও চলতি বছরে তৈরি হওয়া বিপুল ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না বলে মনে করছে সংস্থাটি।
আইইএর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে যে পরিমাণ ডিজেলের ঘাটতি জমা হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী বছরের শুরুতে উৎপাদন বাড়লেও বছরের বড় অংশজুড়ে বাজারে সরবরাহের চাপ বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আরও সতর্ক করেছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ডিজেলের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে জ্বালানির চাহিদা আরও কমাতে হতে পারে।
এর অর্থ, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি ব্যবহার কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আইইএর মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো কত দ্রুত স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারবে, তার ওপরই মূলত নির্ভর করছে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সংকট কাটার সময়সীমা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা ২০২৭ সালের বড় একটি সময়জুড়েও অব্যাহত থাকতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানিতে বিঘ্ন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডিজেলের মজুত কমে যাওয়ায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে না আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত মাসিক জ্বালানি বাজার প্রতিবেদনে এমন সতর্কতা দিয়েছে প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি।
আইইএর মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সংকট সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ তাদের জরুরি জ্বালানি মজুত ব্যবহার করায় বিশ্বব্যাপী ডিজেলের সংরক্ষিত মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের বড় একটি সময়জুড়ে গ্যাসঅয়েল বা ডিজেলের বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য তীব্র চাপের মধ্যে থাকবে। পরিস্থিতির উন্নতি অনেকাংশে নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেলের সরবরাহ কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তার ওপর।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি কমে যাওয়া এবং ইরানের পাল্টা হামলায় সেখানকার শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
আইইএর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে পাইকারি পর্যায়ে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে দাম প্রায় ২২০ ডলারে পৌঁছে, যা ছিল সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়। যদিও এরপর দাম কিছুটা কমেছে, তবু সংকটের আগের তুলনায় তা অনেক বেশি রয়েছে।
জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার জ্বালানির ওপর কর কমানো, ভর্তুকি দেওয়া এবং কৌশলগত জরুরি মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে আইইএ সতর্ক করেছে, এসব ব্যবস্থা সাময়িকভাবে সরবরাহের চাপ কমালেও দীর্ঘমেয়াদে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কারণ জরুরি মজুত থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে, পরবর্তী সময়ে তা আবার পূরণ করতে হবে।
বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ঘাটতি অব্যাহত থাকলে এই মজুত পুনর্গঠনও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক নাগাদ বৈশ্বিক শোধনাগারগুলোর উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ।
সংস্থাটির ধারণা, আগামী বছরের শুরুতে শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার হলে ডিজেলের বাজারে সাময়িকভাবে সরবরাহ উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে। এর ফলে জ্বালানির মজুত স্বাভাবিক মৌসুমি ধারায় ফিরতে শুরু করবে।
তবে এই অতিরিক্ত উৎপাদনও চলতি বছরে তৈরি হওয়া বিপুল ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না বলে মনে করছে সংস্থাটি।
আইইএর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে যে পরিমাণ ডিজেলের ঘাটতি জমা হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী বছরের শুরুতে উৎপাদন বাড়লেও বছরের বড় অংশজুড়ে বাজারে সরবরাহের চাপ বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আরও সতর্ক করেছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ডিজেলের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে জ্বালানির চাহিদা আরও কমাতে হতে পারে।
এর অর্থ, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি ব্যবহার কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আইইএর মতে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতদিন স্থায়ী হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো কত দ্রুত স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারবে, তার ওপরই মূলত নির্ভর করছে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সংকট কাটার সময়সীমা।