প্রিন্ট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
কীভাবে কোবাল্ট কার্টেল চালায় চীন
২০২২ সাল নাগাদ কঙ্গোর ১৯টি কোবাল্ট খনির মধ্যে ১৫টিতে চীনা কোম্পানির অংশীদারিত্ব ছিল। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ
বাংলাবাজার প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬। ০৬:৩৫ পিএম
আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬। ১৫:৪৭ পিএম
চীনের অন্যতম বৃহৎ খনি কোম্পানির নাম জিজিন মাইনিং। সম্প্রতি কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআরসি) কামোয়া কাকুলা তামা প্রকল্পে বন্যার কারণে ২০২৬ সালে তাদের অংশের উৎপাদন সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার টন পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
আর এই ঘোষণা তামার দাম টনপ্রতি ১৪ হাজার ডলারের ওপরে ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছে, যা রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি।
এই তথ্য দেখায়, বৈশ্বিক সরবরাহ ঝুঁকি কতটা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। চীনা যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচালিত কঙ্গোর একটি মাত্র খনিতে উৎপাদন সমস্যা এখন এমন একটি ধাতুর বৈশ্বিক দাম নাড়িয়ে দিতে পারে, যা বিদ্যুতায়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর অন্যতম ভিত্তি।
তবে এমন কেন্দ্রীভূত নির্ভরতা শুধু তামাতেই সীমাবদ্ধ নয়।
কোবাল্টের ক্ষেত্রে ডিআরসি বিশ্বের খনি উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ সরবরাহ করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিনশাসার রপ্তানি কোটা ব্যবস্থা এবং খনি ও পরিশোধন। আর এই দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে চীনের আধিপত্য। সব মিলিয়ে এমন একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্টেল ঘোষণা না করলেও কার্যত কার্টেলের মতো আচরণ করছে।
এই কাঠামো কীভাবে সরবরাহের পরিমাণ, দাম ও ঝুঁকি বণ্টন করছে, তা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়; পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহব্যবস্থা বৈচিত্র্যকরণের প্রচেষ্টা আসলে কিসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
কিনশাসার কোবাল্ট রপ্তানি কোটা কীভাবে কাজ করে
২০২৪ সালে ডিআরসি প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টন কোবাল্ট উৎপাদন করেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, নিজ দেশে প্রায় কোনো কোবাল্ট খনি না থাকলেও বৈশ্বিক পরিশোধিত কোবাল্টের ৭৮ শতাংশই উৎপাদন করেছে চীন।
চীনা কোম্পানিগুলো সরাসরি মালিকানার মাধ্যমে এই ব্যবধান পূরণ করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম কোবাল্ট উৎপাদক সিএমওসি, জিজিন ও হুয়াইউ কোবাল্ট। আর এই তিন কোম্পানিকে কেন্দ্র করে কঙ্গোয় চীনের করপোরেট উপস্থিতি গড়ে উঠেছে।
২০২২ সাল নাগাদ কঙ্গোর ১৯টি কোবাল্ট খনির মধ্যে ১৫টিতে চীনা কোম্পানির অংশীদারিত্ব ছিল। আর চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারক ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে দেশটির আনুমানিক ৮০ শতাংশ উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করত।
২০০৭ সালের অবকাঠামোর বিনিময়ে খনিজসম্পদ কাঠামোর আওতায় বেইজিং এখন কিনশাসার সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাও।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিনশাসা এই সম্পর্কের শর্তে বড় পরিবর্তন আনে। কোবাল্টের দামের পতন ঠেকাতে প্রথমে সম্পূর্ণ রপ্তানি স্থগিত করা হয়। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে সেই নিষেধাজ্ঞার জায়গায় কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়।
এই ব্যবস্থা পরিচালনা করছে দেশটির কৌশলগত খনিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরেকমস।
২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য বার্ষিক কোবাল্ট রপ্তানির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৬ হাজার ৬০০ টন, যা ২০২৪ সালের রপ্তানি পরিমাণের অর্ধেকেরও কম। এর পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে ৯ হাজার ৬০০ টনের একটি কৌশলগত মজুত রাখা হয়েছে।
উৎপাদকদের আগাম রয়্যালটি দিতে হয়। মাসিক বরাদ্দ ব্যবহার না হলে তা বাতিল হয়ে যায়। আর নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে রপ্তানি কোটা প্রত্যাহারও করা যেতে পারে।
কিনশাসার দৃষ্টিকোণ থেকে দামের প্রতিক্রিয়া এই হস্তক্ষেপকে সফল প্রমাণ করেছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোবাল্টের দাম প্রতি পাউন্ডে প্রায় ১০ ডলারে নেমে নয় বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছেছিল। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি তা বেড়ে প্রায় ২৬ ডলারে পৌঁছায়।
একই সময়ে কঙ্গোলিজ কোবাল্ট হাইড্রক্সাইডের পরিশোধনযোগ্য মূল্য ধাতুর বাজারদামের প্রায় ৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০০ শতাংশে পৌঁছায়।
এর ফলে মুনাফার একটি বড় অংশ চীনা পরিশোধনকারীদের কাছ থেকে সরে গিয়ে ডিআরসির উৎপাদক ও কঙ্গো রাষ্ট্রের দিকে গেছে।
সবচেয়ে বড় কথা, এই কোটা ব্যবস্থা সরাসরি চীনা কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপ ফেলছে।

কোটা অনুযায়ী রপ্তানি হওয়া প্রায় সব কাঁচামালই এখনো চীনা পরিশোধনকারীদের কাছে যায়, যারা সিএটিএল, বিওয়াইডি ও টেসলার মতো কোম্পানিকে সরবরাহ করে। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ
২০২৫ সালে সিএমওসি রেকর্ড ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৯ টন কোবাল্ট উৎপাদন করে। কিন্তু ২০২৬ সালে তাদের রপ্তানি কোটা মাত্র ৩১ হাজার ২০০ টন। অথচ চলতি বছরের উৎপাদন পূর্বাভাস ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন। অর্থাৎ এ বছর তাদের উৎপাদনের অধিকাংশই আইনত দেশ থেকে বের করা সম্ভব হবে না।
গ্লেনকোর দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বরাদ্দ পেয়েছে। ফলে চীনা পক্ষগুলোর আধিপত্য থাকা এই ব্যবস্থায় সুইস ট্রেডিং কোম্পানিটিই প্রধান অংশগ্রহণকারী, যা চীনা নয়।
ফলে এই ব্যবস্থাকে ঘিরে এখন দুটি বাইরের কাঠামো প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন ও কিনশাসা একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এর যৌথ পরিচালনা কমিটি প্রথম বৈঠক করে। সেই বৈঠকে ডিআরসি ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট রিজার্ভ’ এর প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়।
এর কয়েক সপ্তাহ পর কিনশাসা বেইজিংয়ের সঙ্গে একটি নতুন খনি চুক্তি চূড়ান্ত করে। এতে ভূতাত্ত্বিক তথ্য বিনিময়, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং স্থানীয়ভাবে খনিজ প্রক্রিয়াকরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে আলাদা একটি চীনা উদ্যোগের আওতায় ৫৩টি আফ্রিকান দেশের মতো কঙ্গোর রপ্তানিও ১ মে থেকে চীনা বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার কথা।
কার হাতে কোন নিয়ন্ত্রণ: কিনশাসার সরবরাহ, চীনের পরিশোধন
কার্টেল প্রশ্নের মূল বিষয় হলো; কার হাতে কোন নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
সরবরাহের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করছে কঙ্গো। আরেকমস ঠিক করে কে কত রপ্তানি করবে। অন্যদিকে পরিশোধনের প্রধান নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে। কোটা অনুযায়ী রপ্তানি হওয়া প্রায় সব কাঁচামালই এখনো চীনা পরিশোধনকারীদের কাছে যায়, যারা সিএটিএল, বিওয়াইডি ও টেসলার মতো কোম্পানিকে সরবরাহ করে।
এককভাবে কোনো পক্ষই দাম নির্ধারণ করে না।
কিন্তু কিনশাসা প্রতি ইউনিটে বেশি আয় চায়, আর চীনা বড় কোম্পানিগুলো নিশ্চিত কাঁচামাল সরবরাহ চায়। এই স্বার্থের সমান্তরাল মিল আনুষ্ঠানিক সমন্বয় ছাড়াই কার্টেলের মত অবস্থা তৈরি করছে।
ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের জন্য এই পার্থক্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্রনির্দেশিত যোগসাজশ ঠেকাতে যে ধরনের নীতি তৈরি করা হয়, তা এমন একটি ব্যবস্থায় ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে, যেখানে দুই সরকারকেই কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় যেতে হচ্ছে না।
কোটা ব্যবস্থা চীনের প্রভাবের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করেছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় যখন রপ্তানি পুরোপুরি থেমে যায়, তখন চীনা পরিশোধনকারীদেরই সেই ঘাটতি সামলাতে হয়। কোটা ব্যবস্থার আওতায় প্রথম চালান দেশ ছাড়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে।
এতে প্রমাণিত হয়েছে, খনির মালিকানা থাকা মানেই সরবরাহের সময় নিয়ন্ত্রণ করা নয়। কঙ্গোর নিয়ন্ত্রক সার্বভৌমত্ব তার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারীর ওপরও কার্যকর। কিনশাসা এখন এই প্রভাবকে দুই পৃষ্ঠপোষকের মধ্যে ভারসাম্যের কৌশলে পরিণত করছে।
স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট রিজার্ভ যুক্তরাষ্ট্রের মূলধনের জন্য একটি নির্ধারিত প্রবেশপথ তৈরি করেছে। মার্চের চুক্তি বেইজিংকে আশ্বস্ত করেছে। আর কোটা ব্যবস্থা দুই পক্ষকেই নিয়ন্ত্রণে রাখছে। তবে এই কৌশলের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকিও আছে।
কঙ্গোর নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিটিকে অস্বচ্ছ বলে সমালোচনা করেছে।
এছাড়া জুলাইয়ে মানবাধিকার গবেষকেরা জিজিন ও হুয়াইউকে এমন চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রেখেছেন, যাদের সমর্থিত খনিজ প্রকল্পগুলোতে বিশ্বজুড়ে নথিভুক্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বড় অংশ রয়েছে।
এই নথিভুক্ত দায়গুলো ওয়াশিংটনের হাতে এমন একটি কমপ্লায়েন্সভিত্তিক চাপের হাতিয়ার তুলে দেয়, যার জন্য চীনা মূলধনের চেয়ে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় না।
তবে কঙ্গো সরকারের রাজস্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এটি প্রয়োগ করলে কিনশাসাকেও মূল্য দিতে হবে। ফলে এই কৌশল প্রয়োগের ক্ষেত্র সীমিত।
তামা কেন চীনা খনিশিল্পে কোটা ব্যবস্থার প্রভাব কমিয়ে দেয়
তামা বেইজিংয়ের ওপর কোটা ব্যবস্থার চাপ কিছুটা কমিয়ে দেয়। কামোয়া-কাকুলা ও সিএমওসির প্রধান প্রকল্পগুলোতে কোবাল্ট মূলত তামা উত্তোলনের উপজাত।
তামার দাম যখন রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি, তখন চীনা কোম্পানিগুলো সীমিত কোবাল্ট আয়ের ক্ষতি সহজে সামলে নিতে পারে। আর একই সঙ্গে তাদের ব্যবসার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ধাতু তামার উৎপাদন বাড়াতে পারে।
ফলে কোটা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে এমন উৎপাদকদের ওপর, যারা মূলত কোবাল্টনির্ভর এবং ক্ষুদ্র ও কারিগরি খনি সরবরাহব্যবস্থার ওপর।
অন্যদিকে যাদের লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা তৈরি, সেই বড় চীনা কোম্পানিগুলো এটিকে গৌণ পণ্যের ওপর একটি ব্যবস্থাপনাযোগ্য কর হিসেবেই দেখছে। গ্লেনকোরের নিজস্ব তথ্যেও এই সমন্বয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রথম প্রান্তিকে তাদের কঙ্গোর কোবাল্ট উৎপাদন ৩৯ শতাংশ কমেছে, কিন্তু তামা উৎপাদন বেড়েছে ১৯ শতাংশ।
কোম্পানিটি চূড়ান্ত কোবাল্ট প্রক্রিয়াকরণ পিছিয়ে দিচ্ছে এবং কোটার অতিরিক্ত উৎপাদন দেশেই মজুত রাখছে, যাতে ভবিষ্যৎ বরাদ্দে তা রপ্তানি করা যায়। ফলে বাজারের ভারসাম্যও উল্টে গেছে।
২০২৪ সালে বৈশ্বিক কোবাল্ট বাজারে ১ লাখ টনের বেশি উদ্বৃত্ত ছিল। এখন ২০২৬ সালের জন্য প্রায় ১০ হাজার ৭০০ টনের ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। কারণ কঙ্গোর সীমিত সরবরাহের বিপরীতে ব্যাটারি ও প্রতিরক্ষা খাতে চাহিদা বাড়ছে।

তামার দাম যখন রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি, তখন চীনা কোম্পানিগুলো সীমিত কোবাল্ট আয়ের ক্ষতি সহজে সামলে নিতে পারে। ছবি: বাংলাবাজার ক্রিয়েটিভ
ইন্দোনেশিয়ার নিকেল-কোবাল্ট উৎপাদন এই ঘাটতি সামলানোর প্রধান বিকল্প উৎস হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেখানেও মালিকানার বড় অংশ চীনা কোম্পানির হাতে।
ফলে যারা চীনা বা কঙ্গোলিজ উৎসের বাইরে কাঁচামাল খুঁজছে, তারা এমন এক বাজারের মুখোমুখি হচ্ছে যেখানে বিকল্প পথও শেষ পর্যন্ত একই করপোরেট নেটওয়ার্কে গিয়ে মিশছে।
প্রশাসনিক দুর্বলতাও বাজারে এমন ঝুঁকি তৈরি করছে, যা প্রচলিত মূল্য নির্ধারণ মডেলে ধরা কঠিন।
জুলাইয়ে আরেকমস প্রথমার্ধের কোটা ব্যবহারের জন্য রপ্তানিকারকদের একটি সময়সীমা বেঁধে দেয়। এরপর সংস্থাটির নিজস্ব রপ্তানি প্ল্যাটফর্ম কয়েক দিনের জন্য অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে আনুমানিক ২০ হাজার টন কোবাল্ট, যার মূল্য প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, কোটা বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
সিএমওসির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনও উত্তরহীন থেকে যায়।
এখন প্রতিটি অফটেক চুক্তিতেই এমন ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হচ্ছে যে, কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিভ্রাট বা নিয়ন্ত্রকের সিদ্ধান্তে প্রতিশ্রুত সরবরাহ আটকে যেতে পারে। এই অতিরিক্ত খরচ ব্যাটারি নির্মাতাদের ইন্দোনেশিয়ার সরবরাহের দিকে এবং একই সঙ্গে এমন ব্যাটারি রসায়নের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে কম কোবাল্ট প্রয়োজন।
২০২৭ সাল পর্যন্ত কী দেখার
সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হলো, কোটা ব্যবস্থা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। কোবাল্টের দামও ২০২৫ সালের নিষেধাজ্ঞার আগের স্তরের ওপরে থাকার সম্ভাবনা বেশি।
বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তত একটি ক্ষেত্রে কোটা বাতিল করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হতে পারে।
এখন নজর রাখার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট রিজার্ভের আওতায় লেনদেন কত দ্রুত এগোয়। মানোনো লিথিয়াম প্রকল্প নিয়ে এভিজেড মিনারেলস ও জিজিন-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের মধ্যকার সালিশি প্রক্রিয়া এবং ২০২৭ সালের পরও কঙ্গো কোবাল্ট রপ্তানি সীমা বাড়ায় কি না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে; একই সম্পদ-সার্বভৌমত্বের যুক্তি তামার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয় কি না। কারণ তামায় একই ধরনের রপ্তানি সীমা আরোপ করা হলে বৈশ্বিক প্রভাব হবে অনেক বেশি।
কঙ্গোর কপারবেল্টে যে কাঠামো তৈরি হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিক কার্টেল ব্যবস্থাপনা ছাড়াই কার্টেলের মতো ফল দিচ্ছে।
আর এর ভিত্তি একদিকে এমন একটি কঙ্গো রাষ্ট্র, যে সরবরাহ আটকে রাখার মূল্য শিখে ফেলেছে। অন্যদিকে এমন চীনা কোম্পানি, যারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সীমাবদ্ধতাগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সহ্য করার মতো অবস্থানে রয়েছে।
এখন কঙ্গোতে প্রতিযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্রও। কিন্তু তাদের মাঠে নামানো মূলধন কম, সময়সীমা ছোট, আর কিনশাসা ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছে; প্রবেশাধিকার পেতে হলে দুই পৃষ্ঠপোষককেই মূল্য দিতে হবে।


