Logo
Logo
×

ভিজ্যুয়াল ।  ভিডিও

ডলারের আধিপত্য ভাঙতে চীনের কৌশল সফল হবে কি?

বাংলাবাজার প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬। ০৭:০৫ পিএম

আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬। ১৯:০৬ পিএম

চীন কি সত্যিই মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমিয়ে নতুন এক বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো তৈরির পথে এগোচ্ছে? দেশটির সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেখলে একটি তিন ধাপের কৌশল স্পষ্ট হয় স্বর্ণ মজুত বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানো এবং নিজস্ব পেমেন্ট অবকাঠামো শক্তিশালী করা।

প্রথম ধাপ স্বর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে চীন তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর লক্ষ্য ডলারের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো। স্বর্ণের সরবরাহ কোনো দেশের সরকার ইচ্ছেমতো বাড়াতে পারে না, ফলে এটিকে তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে দেখা হয়।

দ্বিতীয় ধাপ জ্বালানি বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার। আন্তর্জাতিক তেলবাজার দীর্ঘদিন ধরেই ডলারনির্ভর। ফলে জ্বালানি কিনতে বিশ্বের বহু দেশেরই ডলারের প্রয়োজন হয়। চীন এই ব্যবস্থায় ইউয়ানের ভূমিকা বাড়াতে চাইছে, যাতে অন্তত তার নিজস্ব বাণিজ্যের একটি অংশ ডলারের বাইরে পরিচালিত হতে পারে।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো স্বর্ণ, ইউয়ান এবং নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোয় যুক্ত করা।

ধারণাটি হলো, রিজার্ভে থাকবে স্বর্ণ, বাণিজ্যে ব্যবহার হবে ইউয়ান এবং লেনদেন সম্পন্ন হবে এমন একটি পেমেন্ট নেটওয়ার্কে, যেখানে প্রতিটি ধাপে মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে না।

এই ব্যবস্থা যদি বড় পরিসরে গ্রহণযোগ্যতা পায়, তাহলে জ্বালানি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পণ্যের বাণিজ্যে ডলারের প্রয়োজনীয়তা ধীরে ধীরে কমতে পারে।

তবে এই কৌশলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কোনো মুদ্রাকে বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হলে শুধু বড় অর্থনীতি থাকলেই হয় না; প্রয়োজন গভীর আর্থিক বাজার, আস্থা, সহজে মুদ্রা রূপান্তরের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্যতা।

সেই জায়গায় ইউয়ান এখনো ডলারের সমপর্যায়ে পৌঁছায়নি।

ফলে চীনের পরিকল্পনা সফল হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বিকল্প কাঠামো তৈরি হতে পারে। আর ব্যর্থ হলে দেশটির হাতে এমন একটি মুদ্রা ও আর্থিক ব্যবস্থা থেকে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক বাজারে প্রত্যাশিত মাত্রায় গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

ডলারের প্রভাব সাধারণত একদিনে শেষ হয় না। বৈশ্বিক মুদ্রার আধিপত্য কমে তখনই, যখন দেশগুলো ধীরে ধীরে সেটির প্রয়োজন কম অনুভব করতে শুরু করে।

চীন সেই পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু এই প্রচেষ্টা সত্যিই বৈশ্বিক অর্থনীতির ভারসাম্য বদলাতে পারবে কি না, তার উত্তর এখনো অনিশ্চিত।

আরও পড়ুন

যেকোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে চাইলে লেখা, ছবি, ভিডিও পাঠিয়ে দিন বাংলাবাজার ডাকবাক্সে